আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৫:৩৪

এই যে প্রেম গভীর প্রেম : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
এই যে প্রেম গভীর প্রেম : রিজভী

সরকার এগুয়েমি করে বাকশালী কায়দায় সুন্দরবনের অদুরে রামপালে কায়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল করিব রিজভী।

সরকারকে উদ্দেশ্যে করে রিজভী বলেন, “‘রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র গায়ের জোরে করতেই হবে। কারণ এই যে প্রেম গভীর প্রেম। এই প্রেম যতই ধ্বংস আসুক না কেন তা থেকে বিচ্যূত হওয়া যাবে না। এ প্রেম অব্যাহত থাকতে হবে। এই বৈষম্য প্রেম মেরে কলসির কানা তাই বলে প্রেম দিবে না। সেই নীতি মেনে বাংলাদেশ সরকার আজ ভারতের সঙ্গে একের পর এক চুক্তি করছে, সেখানে জাতীয় স্বার্থ বিঘ্নিত হচ্ছে।”

শনিবার (১৩ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সুন্দরবন দিবস উপলক্ষ্য ‘সুন্দরবন সুরক্ষায় আমাদের করণীয়’’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশন। সেখানে রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে, যেভাবে টিপাই মুখ বাঁধ দেওয়া হয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদ করতে পারবো না। মানে ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার মানেই হচ্ছে দেশপ্রেমের ঘাটতি হওয়া; রাষ্ট্রদ্রোহী হওয়া। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে পারবে না কি অদ্ভুত দেশ। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের জনগণের বিরুদ্ধে নই আমরা।  

‘ভারতের মধ্যে সুন্দরবনের একটা অংশ আছে সেখানে তারা পরিবেশের ক্ষতি হবে এ কারণে ভারত বিদ্যুৎ কেন্দ্র করে নাই। অথচ রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করার জন্য ৭০শতাংশ ঋণ ভারত থেকে আনতে হবে। সব কিছু মিলিয়ে মনে হয় চারদিকে রশি দিয়ে বেঁধে মাথা ঝুলিয়ে রাখার মত।

প্রধানমন্ত্রী যা বলেন করেন তার উল্টোটা, এটাই স্বাভাবিকতা এমনটা উল্লেখ রুহল কবীর রিজভী বলেন, ‘আজকে দেখবেন এক এগারোতে গ্রেফতারের জন্য তার দলের অনেক মন্ত্রী, এমপিরা উষ্মা প্রকাশ করছেন। পটভুমি তৈরি করার জন্য এক  ইংরেজী পত্রিকার সম্পাদককে দায়ি করেছেন। কিন্তু যারা ষড়যন্ত্র করেছেন তাদের সম্পর্কে কিছু বলছেন না। যুদ্ধের ময়দানে যারা মির্জাফরের ভূমিকা পালন করল তাদের কি হল। সরকারের একজন মন্ত্রী বললেন জেনারেল মইনের ভূমিকা  অনেকটা আব্রাহাম লিংকনের মত। এইটা তো বৈসাদৃশ্য।

‘আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেশের একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ আবদুল জলিল; যিনি মারা গেছেন। তিনি বলেছিলেন আওয়ামী লীগের কেবিনেটর অধিকাংশ ডিজিফআইয়ের এজেন্ট। জলিল সাহেবের কথা এটা আমার কথা নয়। কারণ এরা অনেকেই ঐ সময় আত্মরক্ষা করেছেন আতাঁত করে। এই কারণে অনেকেই গ্রেফতার হননি তারা ভাল ছিলেন। তারাই পরবর্তিতে আবার মন্ত্রী হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘যদি তাই হয়, তাহলে আপনি এ সমস্ত মির্জাফরদেরকে কেবিনেটে নিলেন কি করে। আপনার জোটের একজন হুসাইন মুহম্মদ এরশাদ; তিনি বলেছেন এক এগারোর জন্য শেখ হাসিনা রাষ্ট্রক্ষমতায় আছেন।

অথচ এক এগারোর জন্যই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। একবছর তাকে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়। তার দুই পুত্রকে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়। শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। সেটার জন্য আপনি( ডেইলি ষ্টার  সম্পাদক মাহফুজ আনাম) দূ:খ প্রকাশ করেননি।

তিনি বলেন, ‘আজকে যেসব মন্ত্রীরা ওই পত্রিকার সম্পাদকে উদ্দেশ্যে কথা বলছেন আমরা কাছে তা মিলছে না। যেমন মিলছে না রামপালে বিদ্যু কেন্দ্র…। এধরনের বৈপরিত্য আমরা সব সময় দেখছি।

রিজভী বলেন, এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবুল আলমকে দেখলে আমার মনে হয় তিনি অসুখী। অন্যকে নির্যাতন করে নিজে আনন্দ বোধ করেন। এ্যাটনি জেনারেল অপেক্ষা করে থাকেন, বিচরকেরা কোন জামিন বাতিল করছেন কিনা। আটক আদেশটা বহাল রাখছেন কিনা। এটার জন্য যত ধরনের প্রক্রিয়া এমনকি আদালতের রায় উপেক্ষা করে তার অফিস থেকে জেলখানায় বলে দেওয়া হয় আমাদের নিদের্শ না যাওয়া পর্যন্ত আপনারা আসামীকে ছাড়বেন না।

‘যে কারণে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল মান্নান, শওকত মাহমুদ এখনও মুক্তি পান নাই। এসব করার উদ্দেশ্য তার চাকরী রক্ষা করা। কারণ তিনি রাষ্ট্রের নয় প্রধানমন্ত্রীর চাকরী করেন।

সংগঠনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন- বাংলদেশে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ড. মোহাম্মদ শাহজাহান, বিডিএস এর চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শেখ মোহা. জাকির হোসেন, সিএইচআরএম এর চেয়ারম্যান অ্যাডেভোকেট ড.মো. জিয়াউর রহমান, এসএসএফ এর সাংগঠনিক অ্যাডভোকেট শেখ তাহসিন আলী, বিএনপির সহ দফতর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম প্রমুখ।

বিডিটাইমস/এমএইচ

উপরে