আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ২০:০৮

ইউপি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থিতা অনুমোদন তৃণমূলে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ইউপি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থিতা অনুমোদন তৃণমূলে

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী মনোনয়ন স্থানীয় নেতাদের সুপারিশকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলের যুগ্ম মহসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

শুক্রবার বিকেলে নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ইউপি নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য চেয়ারম্যান মনোনয়নের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এই মোট ৫ জন একজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম অনুমোদন করার জন্য সুপারিশ করবেন।’

তবে ইউপি নির্বাচনে কে বিএনপির প্রার্থী অনুমোদন দেবেন তা চুড়ান্ত হয়নি জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘কমিশন থেকে চিঠি পেয়েছি। চিঠির যে ভাষা তাতে পৌরসভায় যেমন নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছিলো, অনেকটা তাই। এ নিয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে তারপর জানাবো।’

তিনি বলেন, ‘চিঠিটি আরেকটু বিশ্লেষণ করে দলের পক্ষে যে অনুমোদনকারী হবেন তিনিই প্রার্থীতা অনুমোদন দেবেন। এক্ষেত্রে চেয়ারপারসন অথবা চেয়ারপারসনের পক্ষে কেউ একজন অথরাইজড পারসন হবেন।’

বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিল বাধাগ্রস্থ করতে এর পরের দিন পৌরসভা এবং দুদিন পর ইউপি নির্বাচনের তারিখ স্থির করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী।

তিনি বলেন, ‘একটি বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত করা এক ব্যাপক কর্মযজ্ঞের বিষয়। নির্বাচন পরিচালনাও এক ব্যাপক কর্মকান্ড। উভয় বিষয়ে দলের নেতা-কর্মীরা ব্যাপকভাবে ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু ২০ মার্চ ১০টি পৌরসভায় ও ২২মার্চ ৭৫২ টি ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

রিজভী বলেন, ‘ভয়াবহ দমন পীড়ণ ও ভোটারদের ভোট প্রদানের অধিকার কেড়ে নেওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সেই ক্ষুদ্র পরিসর সম্প্রসারিত করার আন্দোলন হিসেবে বিএনপি আসন্ন ইউপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির কাউন্সিলের পরপরই হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত এই নির্বাচনের তারিখ চুড়ান্ত করা হয়েছে। বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলকে জনমনে বিভ্রান্ত করার জন্যই অশুভ উদ্দেশ্য নিয়েই নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেছে।’

বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে দলীয় প্রতীকে যেকোন স্থানীয় সরকার নির্বাচন তৃণমুলে সামাজিক বন্ধন বিনষ্ট করবে দাবি করেন রিজভী।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদসহপরিবার, গ্রাম, পাড়া-মহল্লায় সর্বত্র দলীয় রাজনীতির সংঘাত ছড়িয়ে পড়বে। গণতন্ত্রের পথচলাকে বিপথে চালিত করার জন্যই সরকারের মদদে নির্বাচন কমিশন এই অযৌক্তিক ও অসময়োচিত সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন জনজীবনে বিপর্যস্ত পরিস্থিতির সম্ভাবনা থাকলেও সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন চিরায়ত গণতন্ত্রের অঙ্গ। যদিও এখন এদেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নির্বাসনে, ভোটারদের ভোটাধিকার নিরুদ্দেশ, তথাপিও গণতন্ত্রের এই দুঃসময়ে সরকারের নানামুখী জুলুম, ভোট জালিয়াতির সম্ভাবনার মধ্যেও এই ইউপি নির্বাচনে অংশ নিয়ে গণতন্ত্রের সংকুচিত পরিসরকে সম্প্রসারিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।’

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে

 

উপরে