আপডেট : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৩:৫০

বিচারপতি শামসুদ্দিন মানিককে ‘কসাই’ বললেন রিজভী

এম হাসান, নিজস্ব প্রতিবেদক
বিচারপতি শামসুদ্দিন মানিককে ‘কসাই’ বললেন রিজভী

খালেদা জিয়াকে প্রধান বিচারপতির মুখপাত্র বলায় বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে এবার ‘কসাই’ বললেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘বিচারপতি শামসুদ্দিন হায়দার চৌধুরী মানিকের কথা শোনলে আপনার মনে হবে কোনো কসাই কথা বলছে। একজন বোধবুদ্ধি, বিচার সম্পন্ন মানুষের কথা নয়, যার কারণেই বিভিন্ন জায়গায় মানুষের রোষানলের মধ্যে তিনি পড়েন।’

তিনি বলেন, ‘আজকে যখন অপকর্মের নোংরা কর্মকান্ডগুলো উদ্ভাসিত হচ্ছে, মাননীয় প্রধান বিচারপতি আইনের পক্ষে ন্যায়ের পক্ষে কথা বলছেন তখন তারা সহ্য করতে পারছেন না। এই জন্যই তারা এই কথাগুলো বলছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি যদি খালেদা জিয়ার মুখপাত্র হয়ে থাকে তাহলে আপনি কার মুখপাত্র ছিলেন?এটা তো গোটা দেশবাসী জানেন। আপনি এত বড় একটি পবিত্রাঙ্গন উচ্চতর বিচারালয় যেটি একজন অসহায় মানুষের শেষ ভরসার স্থলটিকে আপনারা বানিয়েছিলেন নির্বাহী বিভাগে আওয়ামী শাসকগোষ্টির কর্মসূচি বাস্তবায়নের কেন্দ্র। সেটা আপনারা যখন সম্পূর্ণভাবে করতে পারছিলেন না বলেই জেদ হচ্ছে, মনের ভিতরে প্রতিক্রিয়া হচ্ছে বলেই এই আক্রমন।’

‘একমাত্র মৃত মানুষ ছাড়া সৎ কথা বলার কারো অধিকার নেই। এই সৎ কথা বন্ধের প্রথম যে ভূমিকা রেখেছেন বিচারাঙ্গনকে আদালতের মত একটি পবিত্র অঙ্গনকে কুশলিত করেছেন এই বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।’

রিজভী বলেন, ‘এই মানিক আদালত প্রাঙ্গনকে আওয়ামী কর্মসূচি বাস্তবায়নের কেন্দ্র বানানোর প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। নানাবিধ অপকর্ম এবং দেশের গুনি মানুষদেরকে জোর করে তার বিচারিক যে ক্ষমতা সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি এই কাজটি করেছেন।’ যোগ করেন তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আজকে যখন মাননীয় প্রধান বিচারপতি সৎ ন্যার‌্য ও আইনের কথা, সংবিধানের পক্ষে, আইনের শাসনের কথা বলেছেন, যে অন্যায় এক সময় বিচারপতি খায়রুল হক ও মানিকরা করেছিলেন একটি শাসক গোষ্ঠিকে ও নির্বাহী বিভাগকে তাদের ইচ্ছা পূরনের জন্য, তাদের সেই অপকর্মের কাজগুলো আজকে গুটা জাতি জানে। এদেশের বিটিশ আমল থেকে উচ্চ আদালত কখনও এতো অশ্রদ্ধেয় হয়ে পড়েনি। আদালত এতো বিতর্কিত হয়নি। বিতর্কিত করেছেন এই শামসুদ্দিন হায়দার মানিক ও খায়রুল হক।’

উল্লেখ, অবসরে যাওয়ার পর লেখা রায় ও আদেশ সোমবার বিকেলে আপিল বিভাগে জমা দেওয়ার আগে সুপ্রিমকোর্টের মাজার গেটের বাইরে সাংবাদিকদের সামনে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা রায় লিখতে পারবে না, এই কথা বহু আগে খালেদা জিয়া বলেছিলেন। উনি (প্রধান বিচারপতি) খালেদা জিয়ার মুখপাত্র হয়ে বিএনপির এজেন্ডা চরিতার্থ করার জন্য এটা বলেছেন। উনার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে।’

আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ জাতীয় নেতাদের কারাগারে আটেকে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘অবৈধ ক্ষমতার দর্পে বাহুবলী হয়ে আজ তারা মানুষকে মানুষ বলে তোয়াক্কা করছেন না। ক্ষমতার মদমত্তে দখলবাজ, চাঁদাবাজ, ছিনতাইবাজ, হলমার্ক, শেয়ার মার্কেট ও সরকারী ব্যাংক লুটেরাবাজরাই বাজপাখীর মতো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আজকের শাসকদলের আন্দোলনের ফসল মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের সরকারও আমার দেশ সম্পাদক  মাহমুদুর রহমানকে দুর্নীতিপরায়ণ বানাতে পারেননি। অথচ দুর্নীতির বরপুত্র বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার ক্ষমতার ঔদ্ধত্যে মিথ্যা মামলা দিয়ে মাহমুদুর রহমানকে দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আটকে রেখেছে।’

‘বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় ন্যায় বিচারের পরিসর দিন দিন সংকীর্ণ হয়ে আসছে’ উল্লেখ করে মাহমুদুর রহমানসহ সকল জাতীয় নেতাদের মুক্তির দাবি জানান তিনি।

নব্য বাকশালী হার্মাদ বাহিনীর অত্যাচারের জবাব কড়াকন্ডায় ভোটারবিহীন শাসকরা যথাসময়েই পেয়ে যাবে বলেও হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, সহ দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহীন, বিএনপি নেতা কাজী আবুল বাশার, সেচ্ছাসেবক দলের দফতর সম্পাদক মো. আক্রারুজ্জামান বাচ্চু, ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি প্রমুখ।

বিডিটাইমস৪৬৫ডটকম/এইচএম

উপরে