আপডেট : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৯:৩১

কর্মী থেকে সভাপতি মাঝখানে দলবদল

বিডিটাইমস ডেস্ক
কর্মী থেকে সভাপতি মাঝখানে দলবদল

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতে ছিলেন ছাত্রলীগ কর্মী। এখন তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি। 

শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ৩৭তম ব্যাচের সোহেল রানাকে সভাপতি ও একই বিভাগের ৩৮তম ব্যাচের আবদুর রহিম সৈকতকে সাধারণ সম্পাদক করে শাখা ছাত্রদলের ১৯ সদস্যে বিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করা হয়।

জানা যায়, ইতিহাস বিভাগের ৩৭ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সোহেল রানা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ সালাম বরকত হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। সে সময় হলের শিক্ষার্থীরা সোহেল রানাকে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে শহীদ সালাম বরকত হল থেকে বের করে দেয়। এরপর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-বেরুনী হলের ছাত্রলীগ নেতা এমিলের আশ্রয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতি শুরু করেন।

২০১০ সালের ৫ জুলাই ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের সংঘর্ষে সোহেল রানা সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের পক্ষে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। ছাত্রলীগের দু’ গ্রুপের সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষের আঘাতে তিনি আহতও হন। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রুপের পক্ষে আব্দুল মালেক বাদী হয়ে সোহেল রানাসহ সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীদের আসামি করে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার ৭ নং আসামী ছিলেন সোহেল রানা। পরে  ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও সোহেল রানার বাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিতে যুগ্ম সম্পাদক পদ পান বিতর্কিত সোহেল রানা।

শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. শামছুল আলম সেলিম গণমাধ্যমকে বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কোন মন্তব্য নেই। যেহেতু কমিটি গঠনের ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে কোন আলোচনা করা হয়নি। সেহেতু এর দায়ভার আমরা নেব না।

এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি শাখা ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতির বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের আহবায়ক অধ্যাপক ড. খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ওকে আমি ভালো করে চিনি। ও তো ছাত্রলীগের সঙ্গে ক্যাম্পাসে ঘোরাফেরা করে। সে ছাত্রদলের জন্য ডিজাস্টার। ওকে সভাপতি করা হলে ত্যাগী ছাত্রদল নেতাদের বঞ্চিত করা হবে।

এদিকে শাখা ছাত্রদলের ১৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি-১ মুরাদ হোসেন হীরা, সহ-সভাপতি-২ আহসান হাবীব, সহ-সভাপতি-৩ শহিদুল ইসলাম তুষার, সহ-সভাপতি-৪ নজরুল ইসলাম দুর্জয়, সহ-সভাপতি-৫ নবিনুর রহমান নবীন, সহ-সভাপতি-৬ রাব্বি হাসান, সহ-সভাপতি-৭ ফয়সাল হোসেন, সহ-সভাপতি-৮ ইব্রাহিম খলিল বিপ্লব, সহ-সভাপতি-৯ শাহরিয়ার হক মজুমদার শিমুল ও সহ-সভাপতি-১০ মিজানুর রহমান রনি। যুগ্ম সম্পাদক-১ জহির উদ্দিন বাবর, যুগ্ম সম্পাদক-২ ইসরাফিল চৌধুরী সোহেল, যুগ্ম সম্পাদক-৩ ওয়াসিম আহমেদ অনীক, যুগ্ম সম্পাদক-৪ মো. শামীম হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক-৫ রাধেশ্যাম বিশ্বাস ও যুগ্ম সম্পাদক-৬ শামছুল হক।

এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আশরাফুল ইসলাম। উল্লেখ্য, শনিবার রাতে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি অনুমোদন দেন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

 

উপরে