আপডেট : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৩:২৬

বিএনপির গঠনতন্ত্র সংশোধন হচ্ছে-রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির গঠনতন্ত্র সংশোধন হচ্ছে-রিজভী

বিএনপির ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে দলীয় গঠনতন্ত্র সংশোধন হচ্ছে, গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে, এমনটি জানিয়েছেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘দলের গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য একটি ধারা আছে, যেখানে কাউন্সিলরবৃন্দ বর্তমান গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য প্রস্তাব করতে পারে। গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য আমরা কাউন্সিলরবৃন্দকে মহাসচিব বরাবর এই প্রস্তাব দিতে চিঠি দিয়েছি। তাদের দেওয়া প্রস্তাবগুলো গঠনতন্ত্র সংশোধনের  উপকমিটিতে যাবে। কমিটির সদস্যরা দলের চেয়ারপারসনকে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে। এরপরে পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন হবে।’

কাউন্সিলকে সফল করতে একাধিক উপকমিটি ঘটিত হবে। যে গুলো চুড়ান্ত পর্যায় রয়েছে। দু একদিনের মধ্যে এসব কমিটি গঠিত হবে বলেও জানান তিনি।

রাজধানীর নয়াল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রবিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর   প্রতিনিয়ত   হুমকিতে   জাতি   আজ   আক্রান্ত এমন মন্তব্য করে রুহুল কবির রিজভী  বলেন, ‘‘নানাভাবে পীড়িত মানুষের প্রতিবাদ কোনভাবে সহ্য করতে পারেন না বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।   দেশবাসীর   কাছে   তিনি   যেন   এখন   ‘হুমকি-কন্যা’   হিসেবে   পরিচিতি  লাভ করেছেন।  তার   হুমকির   মুখে  দেশের  মানুষের   সকল  অধিকার   আজ   নিরুদ্দেশ   হয়ে গেছে। ভোট, নির্বাচন, কথাবলা, সমালোচনা ও প্রতিবাদ, লেখা, প্রকাশ করা, চলাফেরা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতাসহ মানুষের সকল স্বাধীনতা দ্বিতীয় মেয়াদের শেখ হাসিনার বাকশালে বন্দী হয়েছে। মানুষের অধিকার শব্দটিকে শেখ হাসিনা স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারেন না। মূলত: তিনি জনমতকেই রাষ্ট্রীয় শক্তির জোরে হুমকি দিয়ে সাসপেন্ড করে রেখেছেন। দেশবাসীর প্রতি প্রতিনিয়ত এইহুমকির অর্থ হচ্ছে-একদলীয় দু:শাসন প্রলম্বিত করার স্বপ্নযাত্রা।’’

তিনি বলেন, ‘অন্ধ   হুমকি   ও   উৎপীড়নের   রাজত্বে   সরকারী   প্রশাসনিক   সংস্থা   ও সাংবিধানিক সংস্থাগুলোও প্রধানমন্ত্রীর অফিসের সুইচের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। সাধারণত:   নায়েব-মোসাহেব’রা   উপহাস   আর   তিরস্কারে   লজ্জিত   হন   না। ’

তিনি আরও বলেন, ‘ প্রতিটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শেখ হাসিনার অভিপ্রায়ের সঙ্গে সঙ্গতি   রেখে   নির্বাচন   কমিশন   জাতির   অবাধ   ও   শান্তিপূর্ণ   নির্বাচনের ভাগ্যলক্ষ্মিকে   বিতাড়িত করেছেন-যাতে   এ   জাতির   ভাগ্যে   সুষ্ঠু   নির্বাচন কোনদিন না আসে। এই কমিশনকে এখন গণতন্ত্র ধ্বংসের এক অবিস্মরণীয় ব্যঙ্গ চিত্র   হিসেবে   জনগণ   অবলোকন   করছে।   আসলে   এই   মোসাহেব   নির্বাচন কমিশনের নিকট নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগ করা আর অরণ্যে রোদন করা একই কথা। জনগণ যদিও সবকিছু দেখছে, শুনছে তথাপিও আপনাদের মাধ্যমে কমিশনের চরিত্রটা জনগণের নিকট তুলে ধরি।’

নির্বাচন কমিশনারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘বর্তমান  নির্বাচন   কমিশন   লজ্জা ঢাকার শেষ সুতাটুকুও বিসর্জন  দিয়ে সরকারের   ইচ্ছা   পূরণে   নিষ্ঠার   সাথে   কাজ   করে   যাচ্ছেন। একটি   স্বাধীন সাংবিধানিক নির্বাচন কমিশনের মর্যাদার প্রাচীর ভেঙ্গে দিয়েছে বর্তমান কমিশন। তাই তাদের বিরুদ্ধে হাজারো অভিযোগ উত্থাপিত হলেও তারা বেহায়া’র মতো   আচরণ   করছেন।   প্রধান   নির্বাচন   কমিশনারসহ কমিশনারবৃন্দের   যদি ন্যুনতম হায়া বা শরম থাকতো তাহলে তারা অনেক আগেই পদত্যাগ করতেন।’

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলাম, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

 

উপরে