আপডেট : ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৫:০২

বিএনপির কাউন্সিল: আশায় বুক বাঁধছেন নবীন-প্রবীনরা

এম হাসান, নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির কাউন্সিল: আশায় বুক বাঁধছেন নবীন-প্রবীনরা

বিএনপির আসন্ন জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে আশায় বুক বাঁধছেন দলের নবীন-প্রবীনরা। দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

তাদের দাবি, কাউন্সিলের মাধ্যমে দলে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হবে। দল সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হবে। দীর্ঘদিন ধরে যারা আন্দোলন সংগ্রামে ভুমিকা রাখছেন তারা অনেকেরই কোনো পদ নেই। তাই তারা এ কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটিতে আশার সুযোগ পাবে। ত্যাগী নেতাকর্মীদের কমিটিতে নিয়ে আসতে হবে তাহলে আগামী দিনে রাজপথ আন্দোলন আরো জোরদার হবে।

আগামী ১৯ মার্চ বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল করার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রসহ তিনটি ভেন্যুর জন্য অনুমতি চাওয়া হয়, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ভেন্যু পায়নি দলটি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিডিটাইমসকে বলেন, ‘এখনও ভেন্যু পাওয়া যা্য়নি। ভেন্যু পাওয়ার পর দিন তারিখ ঠিক করা হবে। তবে মার্চেই আমাদের জাতীয় কাউন্সিল করার প্রস্তুতি চলছে। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা সাংগঠনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া চেষ্টা করছি।’

জানা গেছে, বিএনপিকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া চলছে। স্থায়ী কমিটিসহ ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম-মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ নির্বাহী কমিটির অধিকাংশ সম্পাদকীয় পদে পরির্বতন আসছে। এসব পদে নতুন নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। এছাড়া একজনের এক পদ নীতি অবলম্বন করা হবে।

এ প্রসঙ্গে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বিডিটাইমসকে বলেন, ‘এবারের কাউন্সিলে নতুন নেতৃত্ব তৈরি প্রতিষ্ঠিত করা হবে। যাতে আগামী দিনে রাজপথ আন্দোলনে স্বৈরাচার সরকার পতনে ভূমিকা রাখতে পারে। যারা মৃত্যু ভয় উপেক্ষা করে মাঠে সক্রিয় ছিলেন তাদের নেতৃত্ব আনা হবে। আমাদের নেত্রীকে এটাই আহবান জানাবো। যদি তিনি এ বিষয়ে নিজেই অগত আছেন।

দলের সূত্র জানায়, বিএনপির ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটিতে ৯টি পদে নতুন মুখ দেখা যেতে পারে চলতি বছরেই। এর মধ্যে দলের সাবেক মহাসচিব প্রয়াত খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের শূন্যপদটি পূরণ ছাড়াও আরো ৮টি পদে রদবদলের চিন্তাভাবনা চলছে।

এদিকে জাতীয় কাউন্সিল করার আগেই সকল সাংগঠনিক জেলায় নতুন কমিটি গঠনের কাজ শূরু হয়েছে। যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়েছে। যেকোনো সময় এসব কমিটি ভেঙ্গে নতুন কমিটি ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

বিএনপির গঠনতন্ত্র পরির্তন হচ্ছে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে বিএনপি গঠনতন্ত্রে পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদ বিলুপ্ত করা কো-চেয়ারপারসন পদ সৃষ্টি করে তারেক রহমানকে সে পদে নেয়া, ঢাকা মহানগর বিএনপিকে উত্তর ও দক্ষিণকে চারভাগ করা। ‘এক নেতা এক পদ’ প্রভৃতি।

এসঙ্গে ’ভারপ্রাপ্ত’ মুক্ত হবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গঠনতন্ত্র অনুসারে, চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে শুধু সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। মূলত কোনো কারণে খালেদা জিয়া দায়িত্ব পালন করতে না পারলে পরবর্তী সময়ে যেন তারেক রহমান সেই দায়িত্ব পালন করতে পারেন, এমন চিন্তাভাবনা থেকেই ওই পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। বর্তমানে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব কেউ নেই। তারেক রহমান এই পদ থেকে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হলে তখন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদটি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেয়া হয়।

পরে ২০১১ সালের ১৬ মার্চ বিএনপির তত্কালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর ‘ভারপ্রাপ্ত’ মহাসচিবের দায়িত্ব তুলে দেয়া হয় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। এখন ‘সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব’ পদটি পাওয়ার মত যোগ্য বলে কাউকে মনে করছে না বিএনপি। ফলে এই পদটির ভাগ্যে ‘বিলুপ্তি’লেখা হতে পারে। এদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০১১ সালের ১৬ মার্চ থেকে ‘ভারপ্রাপ্ত’ মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।

সবক্ষেত্রে মহাসচিবের মতো দায়িত্ব পালন করলেও আজ পর্যন্ত ভারমুক্ত করা হয়নি তাকে। তাকে ভারমুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়ে আছে। রাজপথ আন্দোলনে ঢাকা মহানগর বিএনপির ব্যর্থতার ফলে নগর কমিটি চার ভাগ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। যাতে আন্দোলনে প্রতিযোগিতা আসে, দল গতিশীল হয়। প্রসঙ্গত ঢাকায় আন্দোলন তীব্র করে সরকারের পতন ঘটানোর জন্য সাদেক হোসেন খোকাকে বাদ দিয়ে ২০১৪ সালের ১৮ জুলাই দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে আহবায়ক এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলকে সদস্য সচিব করা হয়।

এরপর রাজধানীর সব থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনের জন্য কমিটিকে এক মাসের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কিছুই হয়নি। কোন আন্দোলনে তারা মাঠে নামেনি। প্রায় দুই বছরে থানা-ওয়ার্ড কমিটিও হয়নি।

জানা গেছে, আগামী কাউন্সিলের মাধ্যমে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে চায় বিএনপি। তবে বাধার মুখে কাউন্সিল না করতে পারলে দলের চেয়ারপারসন তার উপর অর্পিত ক্ষমতা বলে নিজেও সেসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারবেন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় বিএনপির পঞ্চম কাউন্সিল। সর্বশেষ ওই কাউন্সিলে দলটির গঠনতন্ত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়। নির্বাহী কমিটির সদস্য ২৫১ থেকে বাড়িয়ে ৩৮৬ করা হয়।

এ ছাড়া সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নামে নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়। গঠনতন্ত্রে প্রতি তিন বছর পরপর কাউন্সিল করার বিধান রয়েছে। অথচ সাড়ে পাঁচ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কাউন্সিল করতে পারেনি দলটি। নেতৃত্বে আসছেন যারা বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়াম্যানের পদ বিলুপ্ত করে ‘কো-চেয়ারম্যান’ পদ তৈরি করে তারেক রহমানকে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তারেক বর্তমানে সিনিয়র ভাইস চেয়ারেম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনিও ভারমুক্ত হচ্ছেন এটা এক প্রকার নিশ্চিত; পদাধিকার বলে তিনি স্থায়ী কমিটির সদস্য হবেন। এর বাইরে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের নামও শোনা যাচ্ছে। স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পেতে পারেন, ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এম ওসমান ফারুক, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এছাড়া নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও যুগ্ম মহাসচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সম্পাদক পদে যারা আসতে পারেন তাদের মধ্যে রয়েছেন রুহুল কবীর রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, বরকতউল্লাহ বুলু, মিজানুর রহমান মিনু, সালাহউদ্দিন আহমেদ, গোলাম আকবর খন্দকার, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আহসান হাবিব দুলু, নাজিমউদ্দিন আলম, এহসানুল হক মিলন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, হাবিব উন নবী খান সোহেল, আবুল খায়ের ভূইয়া, অধ্যাপক এমএ মান্নান, এমরান সালেহ প্রিন্স, ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিন অসীম, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, তাবিথ আউয়াল, নাদিম মোস্তফা, মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহমিনা রুশদী লুনা, শিরিন সুলতানা, রেহানা আক্তার রানু, নীলুফার চৌধুরী মনি, সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া, শাম্মী আক্তার, ব্যারিস্টার রুহিন আফরিন আহাদ, শ্যামা ওবায়েদ, কামরুজ্জামান রতন, সাইফুল আলম নীরব, আজিজুল বারী হেলাল, আবদুল কাদের ভুইয়া জুয়েল প্রমুখ।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে