আপডেট : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৮:৫১

নতুন তালিকায় পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীর সংখ্যা বৃদ্ধি

বিডিটাইমস ডেস্ক
নতুন তালিকায় পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীর সংখ্যা বৃদ্ধি

নতুন তালিকায় বৃদ্ধি পেয়েছে পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীর তালিকা। এ নিয়ে পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীর সংখ্যা ১৯৫ থেকে বেড়ে দাঁড়াল ২০০।

২ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তালিকা প্রকাশ করেন ‘আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলন’ এর আহবায়ক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান।

শাজাহান খান বলেন, ‘পূর্ব ঘোষিত ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে আমরা আরো বিমান ও নৌ বাহিনীর কর্মকর্তার সন্ধান পেয়েছি। চিহ্নিত এই ২০০ জন পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তার তালিকা দিয়েছি। আমাদের কাছে আরো অনেক তথ্য উপাত্ত্ব আছে। সেগুলো আমরা পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করব।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নৌমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দাবিসমূহ জাতীয় সংসদে উত্থাপনের জন্য স্পিকারের নিকট একটি স্মারক লিপি প্রেরণ করা হবে। আগামীকাল (বুধবার) বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে কয়েক হাজার মানুষের এক বিশাল মিছিল সহকারে আমরা সংসদ অভিমুখে যাত্রা করব।’

পাকিস্তানের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের ক্ষতিপূরণ দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭০ সালে বাংলাদেশে ঘুর্ণিঝড় কবলিত মানুষের সহতায়তার জন্য বিদেশ থেকে প্রচুর অর্থ সাহায্য এসেছিল। এর সম্পূর্ণ তৎকালীন পাকিস্তানের হাবিব ব্যাংকে জমা ছিল, যে অর্থ আজও পাকিস্তান ভোগ করছে। আমরা সেই ন্যায্য হিস্যা চাই।

আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার একটি আন্দোলন উল্লেখ তিনি আরো বলেন, আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে সংগঠনের পক্ষ থেকে সমাবেশ করা হবে। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশের শহীদ মিনারগুলোতে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থানের প্রতিবাদ করা হবে।

পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাই না। পাকিস্তান কূটনৈতিক শিষ্টাচার বর্হিভূত আচরণ করছে। আমাদের কাজ হচ্ছে পাকিস্তানি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণের মাঝে জাগরণ সৃষ্টি করা। এই বিষয়ে সরকারকে সহযোগিতা করা।

সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তালিকায় বলা হয়, গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের মত ঘৃণ্য, মানবেতর ঘটনাগুলি নীল নকশা প্রণয়ন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দানের অভিযোগে অভিযুক্ত ৬৮ জন।

জেনেভা কনভেনশনসহ আন্তর্জাতিক সকল যুদ্ধনীতি লঙ্ঘন করে সরাসরি গণহত্যা, ধর্ষন, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগে অংশ নেয় ১১৮ জন। ব্যাপক হারে গণহত্যায় অংশ নেয় ১৪ জন। এই ১৪ জনের মাঝে পাকিস্তান নৌ-বাহিনীর ৩ জন এবং বিমান বাহিনীর ৩ জন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক কাজী হায়াৎ, সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মহাসচিব এমদাদ হোসেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন মহাসচিব ওসমান গণি, শিক্ষক নেতা আব্দুল মান্নান চৌধুরী প্রমুখ।

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে