আপডেট : ২২ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৯:২১
বরিশাল সদর উপজেলা ছাত্রলীগ

যৌতুক মামলার আসামী হলো সভাপতি আর মুদি দোকানদার সম্পাদক

বরিশাল প্রতিনিধি
যৌতুক মামলার আসামী হলো সভাপতি আর মুদি দোকানদার সম্পাদক

বরিশাল সদর উপজেলা ছাত্রলীগ পরিচালিত হচ্ছে অছাত্র, ঠিকাদার আর ব্যবসায়ীদের নেতৃত্বে।এ ইউনিটের সভাপতি বিবাহিত ও স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলার আসামী।অপরদিকে সম্পাদক হচ্ছেন শহরের বিশিষ্ট মুদি দোকানী।আর এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রকৃত ছাত্রলীগ কর্মীরা।

সদর উপজেলার বর্তমান সভাপতি মো. রাসেল হাওলাদার। জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম সনদ অনুযায়ী তার বয়স ৩৫ বছরের দোড়গোড়ায়। বিয়েও করেছে ৬ বছরের বেশী সময় পার হয়ে গেছে।ইতোমধ্যে স্ত্রীর করা যৌতুকের মামলার আসামীও হয়েছেন তিনি। ছাত্রজীবনের পাঠ চুকিয়েছেন ১০ বছর আগে।বর্তমানে ব্যস্ত ঠিকাদারী পেশা নিয়ে।

এরপরও  হঠাৎ করেই তিনি ২০ জানুয়ারীর কাউন্সিলে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগ নেতাদের আশির্বাদে বনে গেছেন সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে এসএসসি পাস করে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন রাসেল। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর চরবাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি পদ প্রত্যাশীও হন রাসেল।

তবে তা না পাওয়ায় ছাত্রদল থেকে একটু দুরে সরে যান।২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাসেলের বোন রেহানা বেগম উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হন। বোনের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে বোনের কাজে সহযোগীতা করতেন তিনি ।এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন।

গাজীপুর থানায় স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলায় ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী রাসেল কাউনিয়া থানা পুলিশের হাতে আটক হয়ে জেলও খাটেন। আত্মগোপন থেকে ফিরে এসে হঠাৎ করেই বরিশাল সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হয়ে যান রাসেল।

কেবল রাসেলই নয় সদর উপজেলা ছাত্রলীগের ৭ সদস্যদের কমিটিতে অধিকাংশরই ছাত্রত্ব নেই। সাবেক ছাত্রলীগ নেতারাও চিনেন না তাদেরকে। ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে এরপূর্বে এরা সম্পৃক্ত ছিলো কিনা তা নিয়েও সন্দিহান সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা।

সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাহাতাব হোসেন সুমন ও সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমান মঈন এর পূর্বে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরে হঠাৎ করেই তারা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন এবং কর্মী থেকে সরাসরি উপজেলা ছাত্রলীগে পদও পেয়ে যান।

সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম জাহিদ হোসেন বলেন, “সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক যাকে করা হয়েছে সেই মো. আশিকুর রহমান সুজন একজন মুদি দোকানী। এর আগে তিনি নিজেকে যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন”।

তিনি আরও বলেন, “তাকে দেয়া হয়েছে একটি উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব। আর সভাপতি করা হয়েছে সাবেক এক ছাত্রদল নেতাকে। তাই এ কমিটির কোন গ্রহনযোগ্যতাই নেই।আর জেলা ছাত্রলীগ সদর উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা দিতে পারেন না। কারন এ ইউনিট অনেক আগেই মহানগরের অধীনে দিয়ে দেয়া হয়েছে।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরিশাল সদর উপজেলা ছাত্রলীগের এক নেতা অভিযোগ করে বলেন, “পদ প্রাপ্তির জন্য জেলা ছাত্রলীগ নেতাদের ১০লক্ষ টাকা ডোনেশন দিতে হয়েছে। আর এ কারণেই কোনকিছু বিবেচনা না করে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হেমায়েত উদ্দিন সেরনিয়াবাত সুমন বলেন, “আমরা জীবন বৃত্তান্ত জমা নিয়ে কমিটি করেছি। আর ওই কমিটিতে বয়সের বিষয়টি  একটু শিথিল করা হয়েছে। যদিও গঠনতন্ত্র অনুসারে ২৯ বছরের বেশী কাউকে ছাত্রলীগে রাখার নিয়ম নেই”।

তবে মামলা ও অছাত্র বিষয়টি তদন্ত করে  ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, “ছাত্রত্ব নেই, বিবাহিত এবং বয়স ২৯ বছরের ওপরে এমন কাউকে ছাত্রলীগের কোন পদে দেয়া অসম্ভব। বরিশাল সদর উপজেলা ছাত্রলীগের এরকম একটি কমিটি দেবার অভিযোগ পেয়েছি”।

বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে ওই কমিটি বিলুপ্ত করা হবে বলে জানান তিনি। 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে

উপরে