আপডেট : ১৭ জানুয়ারী, ২০১৬ ২১:০১

কে কে মাতছেন বিএনপি ভাঙ্গার খেলায়...

এম হাসান, নিজস্ব প্রতিবেদক
কে কে মাতছেন বিএনপি ভাঙ্গার খেলায়...

সদ্য কারামুক্ত  দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপির একটি অংশ বের হয়ে নতুন বিএনপিগড়ার খবর চাউর হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত দলের প্রভাবশালী নেতাসহ তৃণমূল ও দলের জেলা পর্যায়ের সাবেক সংসদ সদস্যদের নাম শোনা গেছে। বিএনপির এক উচ্চ পর্যায়ের সূত্র এ খবর জানিয়েছে। এ তথ্য বিএনপির হাইকমান্ডের কাছেও রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘না, আমি এর সঙ্গে জড়িত নই। আমাকে ম্যাডাম(খালেদা জিয়া) দুই দিন ডেকেছেন, আমি যদি এর সঙ্গে জড়িত থাকতাম তাহলে তিনি আমাকে ডাকতেন না।

বিএনপি হাইকমান্ডের একটি সূত্র জানায়, সন্দেহবিদ্ধ নেতাদের গতিবিধিতে নজরদারি করা হচ্ছে। তারা কোথায়, কবে কখন, কার সঙ্গে বৈঠক করছেন, কী কথা বলার চেষ্টা করছেন সে ব্যাপারেও খোঁজখবর চলছে। খন্দকার মোশররফ হোসেন কারাগার থেকে মুক্তি পাবার পর সবাই আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

গত শুক্রবার গুলশানে  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বাসায় অন্তত ৪ জন প্রভাবশালী নেতা বৈঠক করেছেন।

দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, কারারুদ্ধ ও আত্মগোপনে থাকা নেতাদের কয়েকজন স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তন, ব্যবসা বাণিজ্য-গচ্ছিত সম্পদ রক্ষা এবং আগামী দিনের নির্বাচনে অংশ নেয়ার লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে সমঝোতাকরেই নতুন বিএনপি করতে চান। এর মাধ্যমে নিজেদের সম্পদ রক্ষাসহ সুযোগ সুবিধা পাওয়ার লক্ষ্যে তারা কাজ করে যাচ্ছে তাদের কাছে এর খবর আছে।

নতুন এই প্লাটফর্ম বৃহত্তর কুমিল্লা, বৃহত্তর নোয়াখালী, রংপুর, পঞ্চগড়, বরিশাল, রাজবাড়ী জেলার নেতাদের নাম হাইকমান্ডকে দিয়েছে দলের একটি পক্ষ। এদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও দলের যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল(অব.) মাহবুবুর রহমান, ও আব্দুল মঈন খানের নামও শোনা গেছে।

বিএনপির অপর একটি সূত্র জানায়, সদ্যকারামুক্ত মোশাররফ হোসেনকে প্রায় দুই বছর কারাগারে আটকে রাখার পেছনে অন্যতম কারণ সমঝোতা। আর তিনি সমঝোতা করেই কারগার থেকে বের হয়েছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।   এ নেতার নামে মামলার সংখ্যা ৭টি। এর মধ্যে ৮ লাখ ৪ হাজার ১৪২.৪৩ ব্রিটিশ পাউন্ড (৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা) অর্থ পাচার মামলার চার্জশিটের পর তার বিচারকাজ শুরু হয়েছে।  সাবেক এ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও মুদ্রা পাচারের অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে, বিএনপি হাইকমান্ডের কাছে খবর আছে, সাবেক হুইপ শহীদুল হক জামালের নেতৃত্বে বিএনপির সাবেক নেতাদের যে অংশটি পৃথক বিএনপি গঠনের তৎপর রয়েছে, তারাও দল ভাঙার এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। শহীদুল হক জামালের সঙ্গে এখন প্রায়ই বৈঠক করছেন নতুন বিএনপির উদ্যোগীরা।

এ বিষয়ে শহীদূল হক জামাল বলেন, ‘আমি এখন কিছু বলতে পারবো না। এখন আমি ঢাকার বাইরে আছি। পরে জানাতে পারব।

সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজধানীতে এক আলোচনায় বলেন, ‘সরকার রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়ার কারণে এখন অন্য একটি রাজনৈতিক দল বা জোটকে ভেঙে ফেলতে চাইছে। বিএনপি ভাঙার চক্রান্ত সফল হবে না।

২০১৪ এবং ২০১৫ সালের পর পর আন্দোলনের ব্যর্থতার পটভূমিতে দাঁড়িয়ে বর্তমানে বিএনপি ভয়াবহ সংকটের ভেতর কাল অতিক্রম করছে। দলের সিনিয়র থেকে মাঠ নেতারা মামলার জালে জড়ানো। দলের অধিকাংশ সিনিয়র নেতাই মামলা অথবা গ্রেফতার আতঙ্কে নিষ্ক্রিয় বা আত্মগোপনে আছেন। কেউ কেউ কারাগারে। কেউ কেউ নিজেকে বাঁচানোর জন্য সরকারের সঙ্গে আপস করে চলছে। কবে বিএনপি আবারো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফলে হতাশ হয়ে পড়েছেন অনেক নেতা-কর্মী।

উপরে