আপডেট : ১৩ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৭:৪৯

প্রধানমন্ত্রির রুটিনমাফিক বক্তব্যে জাতি হতাশঃফখরুল

বিডিটাইমস ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রির রুটিনমাফিক বক্তব্যে জাতি হতাশঃফখরুল

চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে জাতি গঠনমুলক বক্তব্য আশা করেছিল কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর রুটিনমাফিক বক্তব্যে জাতি হতাশ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় বুধবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জাতি হতাশ হয়েছে এ মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, জাতি এক নিদারুণ সঙ্কট কাল অতিক্রম করছে। জনগণ আশা করেছিল প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সেই সঙ্কট উত্তরণে সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা থাকবে কিন্তু সেটি হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে জিয়াউর রহমান অবৈধ প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং বিএনপি অবৈধ দল' সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপিকে অবৈধ বলেছেন এগুলো অপ্রাসঙ্কিক কথাবার্তা। বিএনপি অবৈধ হলে আওয়ামীলীগও অবৈধ।

এছাড়া, রাজনৈতিক সংকট নিরসনে আবারো নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন দাবি করেছে বিএনপি।

তিনি আরও বলেন, যে নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আছে তা দেশে বিদেশে বৈধতা পায়নি।

মির্জা ফখরুল বলেন, দু'বছরে জনকল্যাণের পরিবর্তে সরকার প্রকারান্তরে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের দমনেই ব্যস্ত সময় পার করেছে.ব্যর্থ হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে নির্বাচন ব্যবস্থাকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করার কোনো দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়নি। গত দুই বছর ছিল বিরোধী দল ও মতের দমন-পীড়নের নজিরবিহীন উদাহরণ।

এই সময়ে ৪৪০ জন হত্যা ও খুনের শিকার হয়েছেন। গুম ও নিখোঁজ হয়েছেন ২৬৭ জন, আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন ৩৩৭ জন। এ সময় রাজনৈতিক মামলা হয়েছে ২১ হাজার ৮৩ টি। আসামি করা হয়েছে চার লাখ ১৬ হাজার ৭৪৭ জন। গ্রেপ্তার হয়েছে ১৭ হাজার ৮৮৫ জন। এর মূল্য লক্ষ্য ছিল, গণতন্ত্রকে বিদায় করে তথাকথিত উন্নয়নের নামে জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করা এবং তাদের ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করা।
ফখরুল বলেন, ‘গণমাধ্যম স্বাধীন’ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। চ্যানেল ওয়ান, ইটিভি, দিগন্ত টিভি, সিএসবি, আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একুশে টেলিভিশনকে জোর করে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সুপরিকল্পিতভাবে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সরকারের সমালোচনা করলে বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বিএনপিতে যত জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন, আওয়ামী লীগে আছে কিনা তা আমার জানা নেই। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল-গণতন্ত্র। আওয়ামী লীগ তা নির্বাসিত করেছে। আমরা মুক্তিযুদ্ধের সেই চেতনা বাস্তবায়ন বা গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করছি।
 

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান, সহ-প্রচার সম্পাদক ইসরান সালেহ প্রিন্স, সহ-দফতর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, আসাদুল করিম শাহীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 


বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে

উপরে