আপডেট : ৩ জানুয়ারী, ২০১৬ ১২:৩৪

রাজধানী দখলে রাখবে আ. লীগ, সংঘাত এড়াতে চায় বিএনপি

অনলাইন ডেস্ক
রাজধানী দখলে রাখবে আ. লীগ, সংঘাত এড়াতে চায় বিএনপি

৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ আর বিএনপি’র ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’। বিগত দুই বছর এই দিনটিকে ঘিরে মানুষের উদ্বেগ, উৎকন্ঠার যেমন শেষ ছিল না, তেমনি অঘটনও কম ঘটেনি। জ্বালাও, পোড়াও, অগ্নিসংযোগ, হরতাল, অবরোধ, মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এই দিনটিকে ঘিরে।

তবে আগামী ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের দুই বছর পূর্তিতে রাজধানী দখলে রাখতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। অপরদিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চাইলেও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) থেকে এখনো অনুমতি পায়নি বিএনপি।

বিএনপি বলেছে, অবস্থা যাই হোক তারা কোনো সংঘাতে যেতে চায় না। ফলে ৫ জানুয়ারি ঘিরে পরপর দুই বছর সারা দেশে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল, সেই অবস্থা এবার না হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হচ্ছে।

বিএনপির কর্মসূচি পালন নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কর্মসূচি নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। দলটি ওইদিন রাজধানীর ১৮টি পয়েন্টে সমাবেশ, শোভাযাত্রার কর্মসূচি দিয়েছে। একই কর্মসূচি পালিত হবে দেশের প্রত্যেক জেলা ও উপজেলায়ও।

আওয়ামী লীগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, রাজধানীর মিরপুর পূরবী সিনেমা হল, শ্যামপুর-জুরাইন রেলগেট, ডেমরা-যাত্রাবাড়ী মাঠ, বাড্ডা-রামপুরা পেট্রোল পাম্প, ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর রোড, মিরপুর-১ নম্বর গোল চত্বর, লালবাগ, গুলশান, সূত্রাপুর, তেজগাঁও, সবুজবাগ-খিলগাঁও, উত্তরা, কামরাঙ্গীর চর, মোহাম্মদপুর টাউন হল, কাফরুল, গুলিস্তান-বঙ্গবন্ধু স্কয়ার, বনানী-মহাখালী ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। 

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন।

বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক শামীমুর রহমান জানিয়েছেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে বিএনপি ডিএমপিতে আবেদন করেছে। তবে পুলিশ এখনো অনুমতি দেয়নি। কিছু জানায়নি।

বিএনপির একজন নেতা জানান, অতীতে দেখা গেছে, একেবারে শেষ সময়ে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।আমরা আশা করছি পুলিশ অনুমতি দেবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন যুগ্ম কমিশনার জানান, তাঁরা বিএনপির আবেদনটি পেয়েছেন। এটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কর্মসূচি ঘিরে বিএনপি যদি কোনো ধরনের নাশকতা করার পরিকল্পনা না করে, তবে পুলিশের অনুমতি দেওয়ার ব্যাপারে কোনো বাধা নেই।

ওই কর্মকর্তা বলেন, বিগত বছর আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একই দিনে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দেওয়ায় দুই দলকেই কর্মসূচি করতে দেওয়া হয়নি।সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সেটি জানতে বিএনপিকে ৩-৪ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

গত বছরের ৫ জানুয়ারিকে আওয়ামী লীগ ‘সংবিধান সুরক্ষা ও গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ উল্লেখ করে রাজধানীর ১৬টি স্থানে কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে বিএনপি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে ওই দিন ঢাকায় সমাবেশ করার ঘোষণা দেয়। দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে প্রশাসন কাউকে কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেয়নি।

কিন্তু বিএনপি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কর্মসূচি পালনে অনড় অবস্থানে থাকায় পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে রূপ নেয়। কর্মসূচি করতে না দেওয়ায় টানা তিন মাসেরও বেশি সময় অবরোধ পালন করে দলটি। এ কর্মসূচি চলাকালে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। এ সময় ঢাকার সঙ্গে সব জেলার যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ের চারপাশে বালুর ট্রাক রেখে দেওয়ায় তিনি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ নির্বাচন করার ব্যাপারে অনড় থাকে। আর, বিএনপি নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করে। সারা দেশে ব্যাপক সংঘাতের সৃষ্টি হয়। ওই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিন থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত সারা দেশে সহিংসতায় ১০৯ জনের মৃত্যু হয়।

বিএনপি আশা করছে, এ বছর ৫ জানুয়ারি সরকার তাদের সমাবেশ করতে দেবে। তবে অনুমতি না দিলেও গত বছরের মতো কঠোর অবস্থানে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আছে দলটির। দলটির নীতি নির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, এবার হরতাল বা অবরোধের মতো কর্মসূচিতে যাওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত তাদের নেই। পৌরসভা নির্বাচনে ‘ব্যাপক অনিয়মের’ পর অনেকেই হরতাল দেওয়ার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত সেই চিন্তা থেকে সরে এসেছেন তারা।  

দলটির কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেন, পৌরসভা নির্বাচনে তাঁদের প্রার্থীরা হেরেছেন। সরকারি দলের প্রার্থীরা জোর করে অনেক প্রার্থীকে হারিয়েছেন। কিন্তু দলের নেতারা এবং স্বয়ং চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মনে করেন, এই নির্বাচনের কারণে মাঠপর্যায়ের নেতারা প্রকাশ্যে আসতে পেরেছেন। সাংগঠনিক কাজ করতে পারছেন। নেতারা চাঙা হয়েছেন।

সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে। এটি আরও ব্যাপকভাবে হবে। ফলে এখনই সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে—এমন কর্মসূচিতে গেলে আবারও নেতা-কর্মীদের হয় জেলে যেতে হবে, নয়তো পালিয়ে বেড়াতে হবে। এ কারণে বিএনপি কোনো ঝামেলায় যেতে চায় না।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে

উপরে