আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৯:৪৮

গাজীপুরের আতঙ্ক সেই ৬ পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি

অনলাইন ডেস্ক
গাজীপুরের আতঙ্ক সেই ৬ পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি

অবৈধ সুবিধা নেওয়া, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগের কারণে গাজীপুর পুলিশের সেই আলোচিত ছয় কর্মকর্তাকে বদলি করেছে সদ্য নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার।

রবিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পুলিশ হেডকোয়ার্টারে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে।

বদলিকৃত কর্মকর্তারা হলেন, কালিয়াকৈরের ত্রাস জসিমউদ্দিন ইকবাল ওরফে মুচি জসিমের দোসর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ডেরিক স্টিফেন কুইয়া, পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া, কালিয়াকৈর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাসুদ আলম ও রেজাউল করিমকে বদলি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বদলি করা হয়েছে টঙ্গী থানার আলোচিত ওসি (তদন্ত) হাসানুজ্জামান ও জয়দেবপুর টাউন ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মাহমুদ হাসানকে।

গাজীপুর পুলিশ অফিস সূত্রে জানা গেছে, পরিদর্শক ডেরিক কুইয়া, পরিদর্শক হাসানুজ্জামান ও পরিদর্শক মাহমুদ হাসানকে রংপুর রেঞ্জে এবং পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া ও রেজাউল করিমকে পিবিআই ইউনিটে বদলি করা হয়েছে।

গাজীপুর ডিবি পুলিশের ওসি আমির হোসেন জানান, এ ধরনের খবর তিনিও শুনেছেন। তবে এখনও কোনও চিঠি পাননি।

গাজীপুর পুলিশের একটি সূত্র জানায়, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের প্রাথমিকভাবে বদলি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, যেসব পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে গাজীপুরে তাঁরা ছিলেন আতঙ্ক। পাঁচজনই সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে গাজীপুরে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি পেলেও আর গাজীপুর ত্যাগ করেননি তাঁরা। গ্রেপ্তার বাণিজ্য ও জমি দখলের মাধ্যমে গত কয়েক বছরে শত শত মানুষের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। ডেরিক ষ্টিফেন কুইয়া ও বাচ্চু মিয়াসহ পুলিশের একটি সিন্ডিকেট মুচি জসিমের সহযোগিতায় কালিয়াকৈর এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তারা সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আদায় করেছেন। এমনকি টাকা দিতে না পারায় কোটি টাকার জমিও লিখে নিয়েছেন ওই পুলিশ সিন্ডিকেট। সাধারণ মানুষের টাকায় গাজীপুর উত্তরা এবং নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন পুলিশের এসব কর্মকর্তারা। এছাড়া জয়দেবপুর টাউন ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মাহমুদ হাসানের বিরুদ্ধে ছিল ফুটপাত ও ইজিবাইক থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ।

বিশেষ করে পরিদর্শক ডেরিকের বিরুদ্ধে ছিল বড় বড় ব্যবসায়ী ও টাকাওয়ালাদের ধরে এনে পাঁচ-সাত দিন আটকে রেখে নির্যাতন ও মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ের নেওয়ার অভিযোগ। ছিল মাদক ব্যবসায়ীদের দামি গাড়ি জব্দের নামে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে