আপডেট : ১৮ জানুয়ারী, ২০১৮ ২০:৩৪

প্রশাসনকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ দেখালো নারায়ণগঞ্জের হকাররা

অনলাইন ডেস্ক
প্রশাসনকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ দেখালো নারায়ণগঞ্জের হকাররা

প্রশাসনের বেঁধে দেয়া নিয়মকে উপেক্ষা করে নারায়ণগঞ্জ নগরীর প্রধান সড়ক বঙ্গবন্ধু রোডের ফুটপাত আবারো দখল করে  হকাররা বেচাকেনা শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে চারটা থেকে নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কের চাষাঢ়া সোনালী ব্যাংক মোড় থেকে দুই নং রেলগেইট পর্যন্ত দুই পাশেই দোকান সাজিয়ে শীতের পোশাক ও নানা পণ্য সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসে। এতে করে নগরীর প্রধান সড়কে আবারো যানজট সৃষ্টিসহ পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন শুরু হয়েছে। পুলিশ বঙ্গবন্ধু সড়কে টহল দিলেও হকাররা পুলিশের সাথে এক প্রকার লুকোচুরি খেলা খেলছে। 

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মঈনুল হক যদিও আজ জানিয়েছিলেন সিটি করপোরেশনের মেয়রের সাথে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন যৌথ বৈঠক করে সিদ্ধান্ত হয়েছিল নগরীর প্রধান সড়ক বঙ্গবন্ধু সড়ক ব্যতীত নবাব সলিমুল্লাহ রোড, সিরাজউদ্দৌলা রোড, চেম্বার রোড ও খানপুর হাসপাতালের সম্মূখ সড়কসহ শাখা সড়কগুলোতে হকারদের বসার অনুমতি দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের সেই সিদ্ধান্তের বিষয়টি হকার সংগ্রাম পরিষদের নেতাদের ডেকে জানানো হলে তারা সিদ্ধান্ত মেনেও নিয়েছিল।

তবে প্রথম দিনেই সাধারণ হকারদের এই বেপরোয়া আচরণে সাধারণ নগরবাসী প্রকাশ্যে কোন মন্তব্য না করলেও এই নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ফুটপাতের হকাররা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে বলে মনে করছেন নগরবাসী। তারা অবিলম্বে কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনের নেয়া সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়নের দাবী জানান।

এদিকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রশাসনের নির্ধারিত করে দেয়া নবাব সলিমুল্লাহ সড়ক ও খানপুর হাসপাতাল সড়কে কোন হকারের দেখা মেলেনি। শুধুমাত্র নবাব সিরাজউদ্দৌলা সড়কে অল্প বিস্তর হকারের দেখা মেলে। বঙ্গবন্ধু সড়কে বসা হকারদের দাবী, প্রশাসনের নির্ধারণ করে দেয়া সড়কগুলোতে মানুষের চলাজচলের সংখ্যা খুবই কম। যে কারনে পেটের দায়ে বাধ্য হয়েই বসতে হয়েছে। 

তবে সন্ধ্যার পর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে পুলিশ বঙ্গবন্ধু সড়কে টহল দেয়া শুরু করলে হকাররদের কেউ কেউ ফুটপাত ত্যাগ করে। তবে পুলিশ দৃষ্টিসীমার বাইরে যাওয়ার সাথে আবার হকাররা যে যার মতো করে ফুটপাতে বেচাকেনা শুরু করে।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, হকাররা যাতে নিয়ম ভঙ্গ করতে না পারে পুলিশ সর্বাত্বক চেষ্টা করছে। স্বল্প সংখ্যক পুলিশ সদস্য দিয়ে হকারদের নিয়ন্ত্রন করা লুকোচুরি খেলার মতো অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনের আইনের প্রতি শ্রদ্ধ রেখে হকারদের দায়িত্বশীল ও সংযত হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। তিনি হকার সংগ্রাম পরিষদের নেতাদের প্রতি এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 

নারায়ণগঞ্জ হকার সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ এ ব্যাপারে বলেন, প্রশাসনের প্রতি আমরা আস্থাশীল। পুরোপুরিভাবে আমাদের দাবী না মানলেও তারা আমাদের একটা সুযোগ দিয়েছেন। আমরা চাই না আর কোন সংঘাত সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক। আমাদের দুই সাংসদ সেলিম ওসমান, শামীম ওসমান, মেয়র মহোদয়, জেলা প্রশাসক ও জেরা পুলিশ সুপারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তারপরেও নিয়ম অমান্য করে কিছু কিছু হকার ফুটপাতে বসলেও এটা নিয়ন্ত্রন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। 

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু রোডেই সবচেয়ে বেশি হকার বসতো। সে হিসেবে আমাদের দাবীর মাত্র পঁচিশ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। পঁচাত্তর শতাংশ সমাধান এখনো হয়নি। আমরা আমাদের সাংসদ সেলিম ওসমানের আশ্বাসের উপর ভিত্তি করে তাঁর দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছি। 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে