আপডেট : ১৩ মার্চ, ২০১৬ ১৪:৪০

৭ খুনের মামলা বাতিলে নুর হোসেনের আবেদন

বিডিটাইমস ডেস্ক
৭ খুনের মামলা বাতিলে নুর হোসেনের আবেদন

নারায়ণগঞ্জের ৭ খুন মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন আলোচিত এ হত্যা মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন। 

রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান আকন্দ।

আইনজীবী অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান আকন্দ জানান, সাত খুনের ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলাই বাতিল চেয়ে আবেদন করেছেন নূর হোসেন।  

তিনি জানান, বিচারপতি ফরিদ আহম্মদ ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের বেঞ্চে আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আবেদনের শুনানি কখন হবে তা নিশ্চিত করেননি নূর হোসেনের আইনজীবী।

এর আগে গত ৭ মার্চ মামলা বাতিল চেয়ে করা অপর আসামি তারেক সাঈদের করা এক আবেদনের ওপর শুনানি করতে বিব্রতবোধ করেন আদালত।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তাঁর গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও ১ মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ হত্যাকা-ের ঘটনায় দুটি মামলা হয়। প্রথম মামলাটি করেন নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ও অপর মামলাটি করেন নিহত আইনজীবী চন্দন কুমারের জামাতা বিজয় কুমার পাল।

তদন্ত শেষে প্রায় এক বছর পর ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। কিন্তু অভিযোগপত্র থেকে পাঁচ আসামিকে বাদ দেয়ায় এবং প্রধান আসামি নূর হোসেনের জবানবন্দি ছাড়া অভিযোগপত্র আদালত আমলে নেয়ায় ‘নারাজি’ আবেদন করেন সেলিনা ইসলাম বিউটি।

আবেদনটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও জজ আদালতে খারিজ হয়ে গেলে বিউটি উচ্চ আদালতে যান। হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়, পুলিশ চাইলে মামলাটির ‘অধিকতর তদন্ত’ করতে পারে এবং ‘হত্যার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার’ ধারা যুক্ত করে নতুন করে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারে।

এরপর গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাত খুনের দুটি মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এ মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ মোট ২৩ জন কারাগারে আটক রয়েছেন। আর চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে এখনো ১২ জন পলাতক রয়েছে।

গত ৩ মার্চ সেলিনা ইসলাম বিউটির প্রথম সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সেদিন তিন আসামির পক্ষে (নূর হোসেন, তারেক সাঈদ ও এম এম রানার) পক্ষে সময় প্রার্থনা করায় ওই ৩ জন ছাড়া উপস্থিত অপর ২০ আসামি ও পলাতক ১২ আসামির পক্ষের আইনজীবীরা বিউটিকে জেরা করেন। তিন আসামির পক্ষে সময় আবেদন করায় ১০ মার্চ পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এদিনও ওই আসামির পক্ষে তাদের আইনজীবী সময় প্রার্থনা করায় আদালত তা মঞ্জুর করে ১৪ মার্চ শুনানির দিন ধার্য করেন। এদিকে গত ৭ মার্চ বিজয় কুমার পালের করা মামলায় তার সাক্ষ্য ও জেরা গ্রহণ করা হয়।

এদিকে বিউটির মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য ও জেরা গ্রহণের আগের দিন নূর আজ রোববার হাইকোর্টে সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন মামলা বাতিলের আবেদন করলেন।

গত ১০ মার্চ বৃহস্পতিবার পিপি অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, তারেক সাঈদ, এম এম রানা ও নূর হোসেনের পক্ষে একটি মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটির সাক্ষ্য জেরা দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তারেক সাঈদের পক্ষের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে রিটের প্রেক্ষিতে সাক্ষী শুনানির জন্য সময় প্রার্থনা করেন। আদালত ১৪ মার্চ পরবর্তী ধার্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

ওইদিন সাক্ষ্য গ্রহণের আগে আসামি তারেক সাঈদের পক্ষের আইনজীবী সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আশরাফুজ্জামান ও গোলাম কিবরিয়া আদালতকে জানান, সাত খুন মামলা বাতিল ও অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। রিটের নিস্পত্তি এখনও হয় নাই। তাছাড়া চার্জশীটের পূর্ণাঙ্গ সার্টিফাই কপি এখনও হস্তগত হয় নাই। তাই এখন বাদীকে জেরা করা যাচ্ছে না। সময় প্রয়োজন। পরে আদালত আগামী ১৪ মার্চ শুনানির দিন ধার্য করেন।

এ বিষয়ে ওইদিন এক প্রতিক্রিয়ায় বাদী পক্ষের আইনজীবী জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘নানা অজুহাতে বিভিন্ন আবেদন করে মামলাটি দীর্ঘসূত্রিতা করানো হচ্ছে। এতে করে আসামিপক্ষের লোকজন সুযোগ সুবিধা পাবে। আমরা মামলার সুষ্ঠু বিচার নিয়ে শংকিত।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

 

উপরে