আপডেট : ১ মার্চ, ২০১৬ ২২:১৮

ইটভাটার চুল্লিতে পড়ে এক শিশু শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

বিডিটাইমস ডেস্ক
ইটভাটার চুল্লিতে পড়ে এক শিশু শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলায় ইটভাটার চুল্লিতে পড়ে এক শিশু শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি ‘ধামাচাপা’ দিতে শিশুটির বাবা-মাকে আটকে রেখেছে মালিক। এমনকি আইনি ঝামেলা এড়াতে শিশুটির লাশও গোপনে দাফন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিহত শিশু শ্রমিকের নাম সুমাইয়া (১১)। সংসারের টানাপোড়েনের কারণে বাবা আল-আমিন ও মা ছালেহার সঙ্গে সুমাইয়াও ইটভাটার কাজে যোগ দেয়। বন্দরের হালুয়াপাড়া আড্ডা এলাকায় এইচ আর বি নামের ইটভাটার মালিক বন্দর থানা যুবলীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাসুম আহম্মেদ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইটভাটার একাধিক শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২৭ ফেব্রুয়ারি ভোরে ইটভাটায় কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত জ্বলন্ত চুল্লিতে পড়ে যায় সুমাইয়া। শিশু শ্রমিক আগুনে পুড়ে মারা যাওয়ার খবর শুনে মালিক মাসুম ও তার ভাতিজা রাসেল ইটভাটায় এসে শিশুটির লাশ ‘গুম’ করে ফেলে।

শ্রমিকদের একজন বলেন, সেদিন বিকেলে সুমাইয়ার বাবা-মাকে আটক করে মালিক। এরপরে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখায়, হুমকি দেয়, ঘটনা কাউকে জানালে খারাপ হবে। সেই রাতেই গোপনে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে সোনারগাঁও উপজেলার ইমানের কান্দি এলাকায় লাশ দাফন করা হয়।

তবে বিষয়টি গোপন থাকেনি। আজ মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি জানতে নারায়ণগঞ্জের গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে ভিড় করেন। কিন্তু মালিকপক্ষের বাধায় ইটভাটায় প্রবেশ করতে পারেননি তারা।

এদিকে, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও সুমাইয়ার বাবা-মাকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়। এ ব্যাপারে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা পেয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ দিতে থানায় আসেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ওই ইটভাটার মালিক অভিযুক্ত মাসুম আহম্মেদ বলেন, নিহত শিশুর বাবা-মায়ের সঙ্গে আপস-মীমাংসা করা হয়েছে।

উপরে