আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১১:১৫

কৌশলে কিশোরীকে বিয়ে; ভণ্ডপীরের আস্তানায় আগুন

অনলাইন ডেস্ক
কৌশলে কিশোরীকে বিয়ে; ভণ্ডপীরের আস্তানায় আগুন

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্বপ্নে মিলনের কথা বলে চৌদ্দ বছরের এক কিশেরারীকে বৃদ্ধ ভণ্ডপীর বিয়ে করা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকায় তার আস্তানা আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছে ও ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। দফায় দফায় বিক্ষোভের এক পর্যায়ে ভণ্ডপীরসহ তার ভক্তরা কৌশলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শনিবার রাতে উপজেলার তারাব পৌরসভার মাসাবো এলাকায় ঘটে এ ঘটনা।

রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার মাসাব চৌরাস্তা এলাকায় ময়ফুলনগর দরবার শরিফ। ওই দরবার শরিফের পীর দাবি করে আসছেন আনিছুল হক নামে এক ভণ্ড লোক। দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন এলাকার কিশোরী, যুবতীসহ বিভিন্ন বয়সের নারীরা ভণ্ডপীর আনিছুল হকের প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন। কিশোরী সুমাইয়া আক্তারের পরিবারের লোকজনও ওই ভণ্ডপীরের ভক্ত বলে জানা গেছে। পার্শবর্তী সোনারগাঁও উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের পেরাব এলাকার শহীদ মিয়ার মেয়ে কিশোরী সুমাইয়া আক্তার তার পরিবারের সঙ্গে ভণ্ডপীরের আস্তানায় বসবাস করে আসছিল।

ভণ্ডপীর আনিছুল হক স্বপ্ন ধর্ষণের ব্যাখ্যা দিয়ে কিশোরীর পরিবারকে জানায়, সপ্তাহ খানেক আগে তিনি ও তার ভক্তবৃন্দ স্বপ্নে দেখেন কিশোরী সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে ভণ্ডপীরের দৈহিক মিলন ঘটে। এছাড়া ওই কিশোরীকে বিয়ে না করলে ভণ্ডপীর আনিছুল হক মারা যাবেন। এরপর বিষয়টি সুমাইয়া আক্তারের পরিবারকে বলা হয়। পরে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে বিয়ে পাঁকা হয় এবং শনিবার রাতে বিয়ের দিন ধার্য করা হয়। এছাড়া ভুরিভোজের মাধ্যমে এলাকার অনেক ভক্তবৃন্দকেই ওই বিয়েতে দাওয়াত করা হয়।

ভণ্ডপীরের সঙ্গে কিশোরীর বিয়ের বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল ও স্থানীয় কমিশনার রাসেল মিয়া ঘটনাস্থল যান বিয়ে বন্ধ করার জন্য। আইনি জটিলতা দেখে ভণ্ডপীর আনিছুল হক একটি জন্মসনদে পূর্ণ বয়স দেখিয়ে আগেই তাদের বিয়ে হয়ে গেছে বলে সাফ জানিয়ে দেন। অথচ কিশোরীর বয়স মাত্র ১৪ বছর।

এক পর্যায়ে রাত ৯টার দিকে মাসাবো, পেরাব, আড়িয়াবো, বরপা, কান্দাইলসহ আশ-পাশের এলাকার শত শত জনতা ভণ্ডপীরের আস্তানার সামনে অবস্থান করে। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। এক পর্যায়ে ভণ্ডপীরের আস্তানার সামনের একটি গেইট ভাঙচুর করা হয়। পরে দ্বিতীয়তলা ভবনের একটি আস্তানায় আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হয়। ভাঙচুর করা হয় দরজা, জ্বানালা, আসবাবপত্রসহ মালপত্র। ধীরে ধীরে আগুনের লেলিহান শিখা প্রায় ২০ থেকে ৩০ ফুট উঁচুতে উঠে যায়।

অপর দিকে, ভণ্ডপীর আনিছুল হকসহ তার ভক্তবৃন্দ কৌশলে আস্তানার গোপন কক্ষের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে কাঞ্চন ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট প্রায় ঘণ্টাব্যাপি চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে আস্তানায় থাকা বিভিন্ন মালপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লোকমান হোসেন ও রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলামের নেতৃত্বে বিপুল পরিমাণ পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থল পৌঁঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

কাঞ্চন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, সময় মতো আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে আশপাশে আগুন ছড়িয়ে আরো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতো। রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ভণ্ডপীরসহ প্রতারকদের আটকের চেষ্টা চলছে।

উপরে