আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৭:৩৮

ফেসবুকে হারানো ছেলেকে খুঁজে পেলো বাবা-মা!

বিডিটাইমস ডেস্ক
ফেসবুকে হারানো ছেলেকে খুঁজে পেলো বাবা-মা!

ফেসবুকের মাধ্যমে হরানো ছেলেকে খুঁজে পেয়েছে এক পরিবার। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে খেলতে গিয়ে হারিয়ে গিয়েছিলো প্রতিবন্ধী লিমন মিয়া (১৪)। শুক্রবার বাবা-মা’র কাছে আবারো ফেরত আসে তাদের হারানো সন্তান।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বরপা এলাকার মো. দেলোয়ার হোসেনের ছেলে লিমন গত রোববার হারিয়ে যায়। আজ শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সদরের বাঞ্ছারামপুর পৌর এলাকার কান্দাপাড়া থেকে তাকে ফিরে পেয়েছেন মা-বাবা।

লিমনের বাবা মো. দেলোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার ছেলে মানসিক প্রতিবন্ধী। সে বাড়ির বাইরে খুব একটা বেরও হয় না। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে কয়েকটি ছেলের সঙ্গে বাসা থেকে একটু দূরের মাঠে খেলতে যায়। আধা ঘণ্টা পর জানতে পারি ছেলেকে পাওয়া যাচ্ছে না। এ জন্য এলাকায় মাইকিং করি। পরদিন ১৫ ফেব্রুয়ারি রূপগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। এরপর ফেসবুকে ছবি দেখে আমার এক আত্মীয় জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া উপজেলার বাঞ্ছারামপুর গ্রামের কৃষক ছিদ্দিক মিয়ার বাড়িতে আছে লিমন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে বাঞ্ছারামপুরে যোগাযোগ করি। আজ সকালে আমার ছেলেকে আমি ফিরে পেয়েছি। যাঁরা আমার ছেলেকে আশ্রয় দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

বাঞ্ছারামপুরের কৃষক ছিদ্দিক মিয়া জানান, সোমবার বেলা দেড়টার দিকে বাড়ির পাশে রাস্তায় অচেনা একটি ছেলেকে দেখেন তিনি। ছেলের পরিচয় জানতে চাইলে সে তার নাম লিমন বলে জানায়। বাড়ি কোথায় জানতে চাইলে সে মায়ের কাছে যেতে চায়। ছেলেটি নিজের নাম ছাড়া আর কিছুই বলতে পারেনি। পরে সোমবার বিকেলে তিনি লিমনকে থানায় নিয়ে যান। ছেলেটিকে তার মা-বাবার কাছে পৌঁছে দিতে গত মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত মাইকিং করিয়েছেন ছিদ্দিক মিয়া। ওই দিন ছিদ্দিক মিয়ার প্রতিবেশী ফারুকুল ইসলাম বুলবুল নামের এক ব্যক্তি লিমন মিয়ার ছবি দিয়ে ফেসবুকে আপলোড করে একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই স্ট্যাটাস দেখে বৃহস্পতিবার রাতে ফারুকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন লিমন মিয়ার এক আত্মীয়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে মা-বাবার কাছে ফিরে যায় লিমন।

এই কয়েক দিন লিমন মিয়া ছিদ্দিক মিয়ার বাসায় ছিল। সিদ্দিক মিয়া বলেন, লিমনকে তার মা-বাবার কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে তিনি খুশি।

বাঞ্ছারামপুর থানার ওসি অংশু কুমার দেব বিডিটাইমসকে জানান, লিমন মিয়া এখন তার বাবা-মা’র কাছে নিরাপদেই আছে। স্থানীয় মেয়র এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেছেন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে