আপডেট : ৪ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৪:৪৩

ইজতেমায় অংশ নিতে পারবেন না ৩২ জেলার মুসল্লী

বিডিটাইমস ডেস্ক
ইজতেমায় অংশ নিতে পারবেন না ৩২ জেলার মুসল্লী

টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে চলছে বিশ্ব ইজতেমার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। দুই পর্বে বিভক্ত এ ইজতেমায় এবারও দেশি-বিদেশি লাখ লাখ মুসল্লি অংশ নেবেন। তবে স্থান সংকটের কারণে এবার দেশের ৩২ জেলার মুসল্লিরা ইজতেমায় অংশ নিতে পারবেন না।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, ইজতেমার প্রথম পর্ব ৮, ৯ ও ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫, ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। স্থান সংকটের কারণে ২০১১ সাল থেকে দুই পর্বে এই ইজতেমা হচ্ছে।

তবে এ বছরই প্রথমবারের মতো এক পর্বে ১৬ জেলা এবং দ্বিতীয় পর্বে ১৬ জেলার মুসল্লিরা অংশ নেবেন। বাকি ৩২ জেলার মুসল্লিরা ২০১৭ সালে অনুষ্ঠেয় ইজতেমায় অংশ নেবেন।

এ ব্যাপারে আগেই বিভিন্ন জেলা তাবলিগ জামাতের আমিরদের মাধ্যমে মুসল্লিদের অবহিত করা হয়েছে।

এবারের ইজতেমার প্রথম পর্বে অংশ নেবেন—ঢাকা জেলার একাংশ, নারায়ণগঞ্জ, শেরপুর, মাদারীপুর, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, গাইবান্ধা, নীলফামারী, পঞ্চগড়, লক্ষ্মীপুর, সিলেট, নড়াইল, মাগুরা, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী, ভোলা ও ঝালকাঠির মুসল্লিরা। দ্বিতীয় পর্বে অংশ নেবেন ঢাকা জেলার একাংশ, নেত্রকোনা, ফরিদপুর, জামালপুর, নরসিংদী, রাজশাহী, কুড়িগ্রাম, বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, ফেনী, কুমিল্লা, সুনামগঞ্জ, খুলনা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও পিরোজপুরের মুসল্লিরা।

বিশ্ব ইজতেমার ব্যবস্থাপনাবিষয়ক জিম্মাদার গিয়াস উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, বিশ্ব ইজতেমার ময়দানজুড়ে বিশাল প্যান্ডেল ও ময়দানের উত্তর পশ্চিম অংশে আন্তর্জাতিক নিবাস তৈরি করা হয়েছে। আগত মুসল্লিদের খেদমতে বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

এ বছর দুই পর্বে আনুমানিক ৪০ লাখ মুসল্লি এবং শতাধিক দেশের ২০ হাজার বিদেশি মেহমান ইজতেমায় যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মুসল্লিদের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত অজু, গোসলখানা ও টয়লেট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের জানান, ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চারস্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইজতেমা চলাকালে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার প্রায় ১০ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে।

ইতিমধ্যে ইজতেমা ময়দানের আশপাশে পুলিশ ও র‌্যাবের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। পুরো এলাকায় সিসি ক্যামেরা ও পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের মাধ্যমে নিরাপত্তার বিষয়ে কড়া নজরদারি থাকছে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ সাংবাদিকদের জানান, এবারের ইজতেমায় আয়োজক ও সরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করতে বাপক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। যানজট এড়াতে ইতিমধ্যে মহাসড়কের দুই পাশ থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। আগত মুসল্লিদের যানবাহন পার্কিংয়ের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ক্যাম্প স্থাপনের জন্য এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

আসাদুর রহমান কিরণ আরো জানান, ইজতেমা ময়দানকে যেকোনো দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করতে অগ্নিনির্বাপণ-ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। ইজতেমা চলাকালে ময়দানে সার্বক্ষণিক গ্যাস ও বিদ্যুত্ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিশেষ ব্যবস্থা হাতে নিয়েছে।

এ ছাড়া তুরাগ নদীর উভয় পাড়ে সহজে যাতায়াতের লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগ সাতটি ভাসমান সেতু তৈরি করেছে। ইজতেমা শুরুর দুই দিন আগে সেতুগুলো খুলে দেওয়া হবে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এআর

উপরে