আপডেট : ১৩ জানুয়ারী, ২০১৮ ২০:১৮

সরকারের কাছে প্রবাসীদের চাওয়া...

আজিজুল হক মল্লিক
সরকারের কাছে প্রবাসীদের চাওয়া...

দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের ভূমিকা অপরিসীম। যদিও প্রবাসীরা সবাই নিজেদের চাহিদা মেটাতেই প্রবাসী হয়, তবুও দেশের উন্নয়নে তাদের প্রেরিত অর্থ বড় ভূমিকা রাখে।

যাদের কারনে দেশের অর্থনীতি সচল তারা কি চায় সরকারের কাছে? কিংবা কি পায় সরকারের থেকে? প্রবাসীরা সরকারের কাছে আহামরি কিছু চায় না, তাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া প্রবাসে তারা যে কোনো সমস্যায় যেন সরকারের সহযোগিতা পায়।  যেমন ভিসা জটিলতা, পাসপোর্ট, কম্পানি থেকে যেন ঠিকমত বেতন দেয় সে ব্যাপারে একটু সহযোগিতা।

তার পরের চাওয়াটা হলো বাংলাদেশে, মানে তার জন্মভূমিতে দেশের অন্য নাগরিকরা যে সন্মানটুকু পায় সেটুকু যেন তাদের দেয়া হয়। কিন্তু এই দুটি জিনিসের কোনোটি কি প্রবাসীরা পায়?

বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি কোনোটিই সরকার দিতে পারছে না, আমরা প্রবাসীরা যখন বিদেশ থেকে কোনো মালামাল আনার কথা ভাবি তখন সবার আগে মনে পড়ে বাংলাদেশ বিমানবন্দরের কথা, কারন আমাদের মালটি বৈধ হলেও বাংলাদেশ বিমানবন্দরে আটকে দেয়। যেটা বিদেশে আটকায় না সেটা আমাদের দেশে আটকে দেয়। যা প্রবাসীদের কাছ থেকে কিছু টাকা হাতিয়ে নেবার একটা উপায় মাত্র।

বিমানবন্দরে যারা প্রবাসীদের সাহায্য করবে সেই পুলিশ সদস্যরাই আমাদের গালি দিচ্ছে ‘বালের কামলা’ বলে।

কেউ কেউ আবার প্রবাসীদের কেন মেয়েরা বিয়ে করতে চায় না এসব নিয়ে ভিডিও তৈরি করে সোস্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করছে। প্রবাসীদের যদি কেউ বিয়ে না করতে চাইবে তাহলে তারা কাদের নিয়ে সংসার করছে? কিংবা কখনো দেখা তো দূরের কথা শুনিওনি যে কোনো প্রবাসী মেয়ের অভাবে অবিবাহিত আছে।

যাদের দ্বারা দেশর অর্থনীতির চাকা সচল, তাদের নিয়ে কটুক্তিকারিদের বিরুদ্ধে প্রবাসীদের কেন আন্দোলন করতে হবে? সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোকেরা কি এসব দেখছে না?

আর যারা প্রবাসীদের ‘বালের কামলা’ বলে গালি দেন তারা কি করেন? চাকরিই তো করেন? মানে সরকারের চাকর। ভাই আপনি যে চাকর হয়েছেন সেটা কিন্তু আমাদেরকেই দেখাশোনা করার জন্য।

এদিকে সরকার প্রবাসীদের ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বলছে, দেশের রেমিটেন্সের উন্নতি চাইছে। আর তাই হুন্ডি বন্ধ করতে উঠে পড়ে লেগেছে সরকার। সরকার চায় তাদের লাভ, প্রবাসীরা চায় তাদের লাভ।

সরকারী পন্থায় অর্থ পাঠালে টাকার যে রেট প্রবাসীরা পায় তার থেকে বেশি রেট পায় হুন্ডি থেকে। আবার সরকারি পন্থা মানে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠালে ব্যাংকে চার্জ কাটা হয় যেটা হুন্ডিতে লাগে না।

হুন্ডি বন্ধ করতে অনেক বিকাশ এজেন্টের এজেন্সি কেড়ে নেয়া হচ্ছে, এটা এক প্রকার জুলুম। হুন্ডি বন্ধ করতে হলে এমন পথ বের করুন যাতে প্রবাসীরা নিজেরাই হুন্ডি রেখে ব্যাংকের প্রতি আগ্রহী হয়। আর এটা করতে হলে দুটি কাজ করতে হবে-

১. ব্যাংকের চার্জ বন্ধ অথবা বর্তমানের অর্ধেক করতে হবে।

২.বাংলাদেশে টাকা উত্তোলনের পদ্ধতি সহজ করতে হবে।

প্রবাসীদের সাথে অন্যায়কারীদের শাস্তি না দিয়ে তাদের থেকে আসা আয়টা কেমনে বাড়ানো যায় সেটা নিয়ে ভেবে কি লাভ? প্রবাসীরা তো দেশকে অনেক নিচ্ছেন, এবার তাদের জন্য একটু ভাবুন। তাহলে প্রবাসীদের থেকে দেশ আরও অনেক কিছু পাবে।

লেখক- আজিজুল হক মল্লিক, মালয়েশিয়া প্রবাসী।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে