আপডেট : ১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ২১:৪৯

সর্বনাশ, আমি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাব কেন?

অনলাইন ডেস্ক
সর্বনাশ, আমি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাব কেন?

তারেক জিয়ার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন শান্তিতে নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সাক্ষাতের আগ্রহ নিয়ে আসা প্রবাসী বাঙালিদের তিনি বলেছেন, ‘তারেকের ব্র্যান্ড ভালো না। তাঁর ইমেজ খারাপ। তাঁর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ করার কোনো কারণ দেখি না।’ শুধু তাই নয় লন্ডনে বিএনপিপন্থীদের এক সংবর্ধনার প্রস্তাবও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। বলেছেন, ‘আমার অনেক কাজ। এসব করার সময় নেই।’

শান্তিতে নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস এখন যুক্তরাজ্য সফরে রয়েছেন। এখানে তিনি তাঁর নতুন গ্রন্থ ‘ওয়ার্ল্ড অব থ্রি জিরোস’ এর প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। গত ১৬নভেম্বর তিনি লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সে (এলএসই) প্রথম বক্তব্য দেন। পুরোনো থিয়েটার হলে ৫০০ শিক্ষার্থীর উদ্দেশ্যে তিনি তিন শূণ্য তত্ত্বের ওপর বক্তব্য রাখেন। শূণ্য দারিদ্র, শূণ্যবেকারত্ব এবং শূণ্য কার্বন দূষণের ওপর ড. ইউনূসের এই বই। বইটি নিয়ে যুক্তরাজ্যে একের পর এক অনুষ্ঠান করছেন তিনি। স্কাই নিউজে তিনি সরাসরি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। বিবিসিতেতাঁর বই নিয়ে অনুষ্ঠান হচ্ছে। সোমবার ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখবেন।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সে বক্তৃতার পরই ছিল নৈশ্যভোজ। নৈশ্যভোজ শেষে ড. ইউনূসকে জানানো হয় কয়েকজন বাঙালি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চায়। প্রথমে রাজি না হলেও দুইমিনিটের সৌজন্য সাক্ষাৎ দেন নোবেল জয়ী। তাঁরা জানান, তাঁরা লন্ডনেই থাকেন। গ্রামীণ ব্যাংক থেকে সরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে তাঁরা ড. ইউনূসকে সমবেদনাও জানান। এরপর তাঁরা তাঁদেরপরিচয় দেন।

তাঁরা যুক্তরাজ্য বিএনপির সঙ্গে জড়িত এটা শুনেই ড. ইউনূস বলেন, `আমি রাজনীতি থেকে দূরে। রাজনীতি আমার কাজ নয়।’ ওই সময় একজন বলেন, `বিশ্বব্যাপী আপনার অবদানের জন্য তারেক জিয়া আপনাকে ধন্যবাদ দিতে চান। তিনি আপনার সাক্ষাৎ প্রার্থী।’

উত্তরে ড. ইউনূস প্রায় ভড়কে গিয়ে বলেন, ‘সর্বনাশ, আমি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাব কেন? তাছাড়া তাঁর ব্র্যান্ড খারাপ। তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে আমার সুনাম নষ্ট হবে। তাঁর ইমেজ ভালো নয়।’

ড. ইউনূস বলেন, `আমি আসলে খুবই ব্যস্ত।‘ এরপর বিএনপি নেতারা লন্ডনে তাঁর নতুনবই উপলক্ষে সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তিনি বলেন, `আমার সব প্রোগ্রাম আগে থেকেই নির্ধারিত। আসলে সম্ভব না। আমি এসবে জড়াতে চাই না।’এরপর তিনি বিদায় নেন। এ সময় তাঁরসঙ্গে ছিলেন ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ড. লামিয়া মোর্শেদ।

বিএনপিকে এড়িয়ে গেলেও লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিক্সের অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বাংলাদেশ দারিদ্র দূর করার ক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নতি করেছে বলে মন্তব্য করেন। আর এজন্যঅবশ্য ড. ইউনূস সরকারের চেয়ে এনজিওদের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের ভূমিকা বেশি বলে মন্তব্য করেন। সামজিক ব্যবসার মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে