আপডেট : ৫ মার্চ, ২০১৬ ১৭:০৮

আমাদের টিকে থাকার লড়াই

বিডিটাইমস ডেস্ক
আমাদের টিকে থাকার লড়াই

নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মস্থান ইস্টার্ন কেইপ প্রদেশের দুটি শহর cofimvaba ও Tsomo-এ রয়েছি আমরা বেশ কিছু বাংলাদেশি। এই দুই শহর ঘিরেই আমরা জীবনসংগ্রামের পথ পাড়ি দিচ্ছি। দুই শহর ও এর আশে পাশে কয়েক শ লোকেশনের ব্যবসা-বাণিজ্য পুরোপুরি প্রবাসী বাঙালিদের দখলে। ছোট বড় পাহাড় দিয়ে গঠিত এই অঞ্চলটির মানুষদের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলাটা একটু কঠিনই বলা চলে। তবুও পরিবার ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে আমরা এখানে টিকে থাকার লড়াইয়ে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি প্রতিটা মুহূর্তে। ব্যবসাই আমাদের একমাত্র উপার্জনের পথ হওয়াতে সন্ত্রাসীদের প্রধান টার্গেট আমাদের দিকেই থাকে। অহরহ আমরা সন্ত্রাসীদের আক্রমণের শিকার হই। দোকানে চুরি-ডাকাতি নৈমিত্তিক ঘটনা। এ ছাড়া ছুরিকাঘাত ও গুলির ঘটনাও ঘটে কখনো কখনো। বিগত কয়েক বছরে ৬ জন বাংলাদেশি খুন হয়েছেন আমাদের এলাকায়। আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেছেন সোহেল, মনসুর ও লিটন প্রমুখ। কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে হত্যা করেছে তাদের।

এতটা নিরাপত্তাহীনতার পরেও আমরা হাল ছাড়িনি। সবকিছু মেনে নিয়ে আবার নতুন করে স্বপ্ন সাজাই। দেশে একটু ভালো কিছু করার জন্য কিছুটা সময় জীবন থেকে হারিয়ে যাক, তবুও যেন দেশে ফিরে একটু ভালো থাকা যায় সেই আশায় বুক বাঁধি। সব দুঃখ ভুলে থাকার চেষ্টা করি। প্রায়ই আমরা বিভিন্ন স্থানে একত্র হয়ে হাসি খুশিতে ডুবে থাকতে চাই। প্রাণে প্রাণে আনন্দের ঢেউয়ে ভেসে চলি শঙ্কাহীন রাজ্যে। তারপর ফিরে যাই যার যার গন্তব্যে। তেমনই কয়েক দিন আগে আমরা কয়েকজন একত্র হয়েছিলাম। দুটি গরু জবাই করে আমরা অনুষ্ঠান করেছি। উদ্বৃত্ত মাংস সবাই ভাগ করে বাসায় নিয়ে গিয়েছি।মিলনমেলায় সমবেতদের একাংশ

এই অঞ্চলে আমাদের ইতিহাসটা প্রায় দেড় যুগ আগের। জাহাঙ্গীর সরকার অগ্রপথিক। ১৯৯৯ সালে গ্রিসে যাওয়ার পথে তিনি আটকা পড়েন দক্ষিণ আফ্রিকাতে। পরে আর যাওয়া হয়নি কোথাও। এখানেই থেকে যান। প্রথম কয়েকটি বছরের তার করুন ইতিহাসটা খুবই মর্মান্তিক। শেষ পর্যন্ত জীবনযুদ্ধে টিকে যান এই যোদ্ধা। ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ব্যবসা বড় হলে নিয়ে আসেন আত্মীয়স্বজন। বর্তমানে এই এলাকায় নারায়ণগঞ্জ জেলার কুড়েরপাড় গ্রামের সরকার বাড়ির লোকই সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া আশপাশের এলাকা মিলিয়ে প্রায় চার শ বাংলাদেশি থাকেন এখানে।

তাদের মধ্যে সেলিম সরকার, জাহাঙ্গীর সরকার, শফিকুলসহ আরও কয়েকজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। মিলনমেলায় তারা ছাড়াও দিন ইসলাম সরকার, মামুন সরকার, রফিক, দিদার সরকার, ইসমাইল সরকার, আশিক সরকার, জাকির, জামাল সরকার, শিব্বির সরকার ও আমি আলামিন সরকারসহ অনেকেই উপস্থিত হয়েছিলাম।

আমরা সবাই ব্যবসায়ী বিধায় বড় অঙ্কের রেমিট্যান্স বাংলাদেশে যায়। কিন্তু বৈধ পথে টাকা প্রেরণ করার সুযোগ না থাকায় ভিন্ন পন্থাই বেছে নিতে হয়। তাই এ ব্যাপারে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি। সূত্র-প্রথম আলো

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

 

উপরে