আপডেট : ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৬:০৬

থাইল্যান্ডের খ্যাতিমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধুর চেয়ার’

বিডিটাইমস ডেস্ক
থাইল্যান্ডের খ্যাতিমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধুর চেয়ার’

থাইল্যান্ডের খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এআইটি) ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ প্রফেসরশিপ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে চালু এ চেয়ারের অধীনে নিয়োগ দেওয়া হবে একজন প্রথিতযশাকে। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশের একজন গবেষক পাঁচ বছর মেয়াদি গবেষণা পরিচালনা করবেন এ দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক কিংবা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উত্কর্ষ লাভের জন্য। ওই গবেষণার ফলাফল বিশ্ব পরিমণ্ডলে তুলে ধরা হবে। এতে বিশ্বব্যাপী  বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে বলে আশা করছে সরকার।

সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী আগামী পাঁচ বছরের জন্য বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রফেসরশিপ চালুর ব্যয়ভার বহন করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সাড়ে ছয় কোটি টাকা ব্যয় বহনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। আর এ ক্ষেত্রে এআইটি কর্তৃপক্ষ বহন করবে দেড় কোটি টাকার ব্যয়ভার। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থায়ন করার বিষয়টি গতকাল লিখিতভাবে অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার গবেষণাধর্মী উচ্চশিক্ষা প্রসারে অত্যন্ত আন্তরিক এবং সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করে আসছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে শিক্ষা খাতে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে আসছে। তা ছাড়া, বঙ্গবন্ধুকে এবং বাঙালি জাতির প্রতি তাঁর অবদানের তথ্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরার বিষয়টিও বাংলাদেশ ব্যাংক যথার্থ বলে মনে করে। তাই থাইল্যান্ডে অবস্থিত এআইটিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামানুসারে বঙ্গবন্ধু চেয়ার সৃষ্টির অর্থায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্পৃক্ততা আমাদের গর্বিত করবে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, এআইটিতে বঙ্গবন্ধু চেয়ার চালুর প্রস্তাব বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রথম দেন থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছাইদা মুনা তাছনিম। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। মূলত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদন চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। গত বছরের জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রস্তাবে সম্মতি দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী গত ১১ ফেব্রুয়ারি গভর্নর আতিউর রহমানকে লেখা এক চিঠিতে এতে অর্থায়নে অনুরোধের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু চেয়ার চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকারের সম্মতি পাওয়ার পর এআইটির সঙ্গে এ বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হবে। প্রথম চার বছরে ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ নামে পদ সৃষ্টি হবে এবং এ পদে নিযুক্ত অধ্যাপকের অধীনে একজন গবেষক নিয়োগ পাবেন। তাঁর গবেষণা কর্ম সম্পাদনের জন্য আনুমানিক আট কোটি টাকা দরকার হবে।

ব্যাংককে ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এআইটি এশিয়ার অন্যতম স্বনামধন্য ইনস্টিটিউট। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১১০০ এরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছেন। প্রশিক্ষণ নিয়েছেন চার হাজারেরও বেশি সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা। এআইটির বোর্ড অব ট্রাস্টিতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপালসহ প্রায় ২০টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। এআইটির কার্যক্রম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি পাঁচ সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে, যার সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

 

উপরে