আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১২:৫০

বাংলাদেশি দিদারুলের সাহসিকতায় প্রাণে বাঁচলেন যুক্তরাষ্ট্রের এক নারী

বিডিটাইমস ডেস্ক
বাংলাদেশি দিদারুলের সাহসিকতায় প্রাণে বাঁচলেন যুক্তরাষ্ট্রের এক নারী

আশেপাশে অনেকেই ছিলেন, কেউ এগিয়ে আসেননি। আসলেন বাংলাদেশের এক সাহসী যুকব। একজন নারীকে বাঁচাতে গিয়ে হারিয়েছেন নিজের চাকুরি তারপরও পিছু হটেননি বাংলাদেশের দিদারুল। প্রবাসের মাটিতে এমন সাহস দেখানো কেবল বাংলাদেশির পক্ষেই সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে এক নারীর প্রাণ বাঁচিয়ে সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত যুবক দিদারুল সরদার। ৫২ বছর বয়সী এক নারীকে তার কন্যা ছুরিকাঘাত করছেন এমন দৃশ্য দেখে ওই নারীকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন দিদারুল। পরে নিজের পকেট থেকে পিস্তল উচিয়ে ধরে ওই নারীকে ছুরিকাঘাত করা থেকে বিরত রাখতে বাধ্য করেন তিনি।

অপরিচিত একজন নারীর প্রাণ বাঁচানোয় দিদারুলকে সম্মাননা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ওয়ারেনের মেয়র।

ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়ারেনের বাসিন্দা দিদারুল সরদার জিএম টেকনিক্যাল সেন্টারে চাকরি করেন। কয়েক বছর ধরে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র সঙ্গে নিয়ে ঘুরতেন তিনি। তবে এই অস্ত্র কখনো ব্যবহার করেননি। গত ১০ ফেব্রুয়ারি তার অফিসে হঠাৎ একজন ট্যাক্সি চালক প্রবেশ করেন। এ সময় সাহায্য প্রয়োজন বলেন চিৎকার করতে থাকেন চালক।

দুই সন্তানের জনক দিদারুল দৌড়ে অফিসের বাইরে চলে আসেন। এ সময় তিনি দেখতে পান, এক নারী অপর একজন নারীকে ছুরিকাঘাত করছেন। যখন অন্যান্যরা ছুটাছুটিতে ব্যস্ত সেই সময় নিজের বৈধ অস্ত্র তুলে ধরে হামলাকারীকে ছুরিকাঘাত করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। ছুরিকাঘাত করা হলে গুলি করারও হুমকি দেন দিদারুল। পরে ওই নারী ছুরিকাঘাত করা থেকে বিরত থাকেন।

৩২ বছর বয়সী চেভোন্নে টেইলর নামের ওই হামলাকারী মানসিক ভারসাম্যহীন। তার মা ৫২ বছর বয়সী স্টেফানি কেরের ওপর হামলা চালিয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ওই নারী।

কর্তৃপক্ষ জানায়, জিএম টেকনিক্যাল সেন্টার ভবনের সামনে এসে ওই নারী তার মা’র সঙ্গে কথা বলতে চান। ওই ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা গেছে, স্টেফানে কের ভবনের বাইরে তার কন্যার কাছে আসেন। পরে চেভোন্নে টেইলর তার মায়ের পেট, পিঠ, গলায় উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করতে থাকেন। অর্ধ কিলোমিটার দূরে দাড়িয়ে থাকা পুলিশ দর্শকের ভূমিকা পালন করলেও দিদারুল পারেননি। ছুটে যান ওই নারীর প্রাণ বাঁচাতে।

তবে এ ঘটনার পর জিএম টেকে দিদারুলের চাকরি আছে কিনা সে বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। অফিসে কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অনুমতি না থাকায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত দিদারুল চাকরি হারিয়েছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

দিদারুল জানান, তিনি সঠিক কাজটিই করেছেন। আর এ ধরনের কাজ তিনি সারা জীবন করে যেতে চান। এই সাহসিকতার জন্য ওয়ারেনের সিটি মেয়র তাকে সম্মাননা দিয়েছেন। এছাড়া শেবলি শহরের এলিগ্যান্ট জুয়েলার্সের পক্ষ থেকে দিদারুলকে এক হাজার মার্কিন ডলার ও একটি সার্টিফিকেট দেয়া হয়েছে।

উপরে