আপডেট : ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০৯:৪৯

‘মড়ার ওপর খাড়ার ঘাঁ’ হতাশায় মালয়েশিয়া প্রবাসীরা

অনলাইন ডেস্ক
‘মড়ার ওপর খাড়ার ঘাঁ’ হতাশায় মালয়েশিয়া প্রবাসীরা

অনেক প্রত্যাশা আর স্বপ্ন নিয়ে মালয়েশিয়ায় আসা বাংলাদেশি শ্রমিকদের সব প্রত্যাশা আজ হতাশায় পরিনত হয়েছে। মালয়েশিয়া সরকারের চাপিয়ে দেওয়া করের বোঝা এবং ক্রমাগত  রিঙ্গিতের মূল্য কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রবাসী শ্রমিকদের মাঝে এই হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মালয়েশিয়া সরকার বাৎসরিক করের বোঝা অস্বাভাবিক হারে বাড়ানোর কারণে এখন তা প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর যেন মড়ার ওপর খাড়ার ঘাঁ হিসেবে দেখা দিয়েছে। 
মালয়েশিয়ার সুবাং জায়ায় নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করা বাংলাদেশি মো. বাসেত বলেন, দেশে আগের মতো টাকা পাঠাতে পারি না। হুন্ডিতে টাকা পাঠালেও যে খুব বেশি হয় তাও নয়। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে রিঙ্গিতের মূল্য ৮ টাকা পড়ে গেছে। আগে মালয়েশিয়া থেকে ৫০০ রিঙ্গিত বাড়িতে পাঠালে সাড়ে ১২ হাজার টাকা পাওয়া যেতো। এখন একই অংকের রিঙ্গিতে আসে আট হাজার তিনশ’ টাকা।

এরপরেও নিজে কষ্ট করে বাড়িতে ১২ হাজার টাকাই পাঠাতাম। কিন্তু এখন প্রতিমাসে আরও বাড়তি ১০৪ রিঙ্গিত, মানে ১ হাজার ৭৬৮ টাকা কেটে রাখবে মালিকপক্ষ। যা আমাদের ওপর মড়ার ওপর খাড়ার ঘাঁর মতো। 
চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মালয়েশিয়া সরকার বিদেশি শ্রমিকদের ওপর নতুন কর আরোপ করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ম্যানুফাকচারিং এবং কনস্ট্রাকশন শ্রমিকদের বাৎসরিক কর দিতে হবে ২ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত। যা আগে ছিল ১ হাজার ২৫০ রিঙ্গিত। 
দেশটির বাঙ্গি অঞ্চলে নিয়োজিত আরেক বাংলাদেশি নির্মাণ শ্রমিক ও মুন্সীগঞ্জের ছেলে শফিকুল ইসলাম বলেন, বাৎসরিক কর চুক্তিবদ্ধ কোম্পানির দেওয়ার কথা, কিন্তু তা আমাদের বেতন থেকেই প্রতিমাসে কেটে রাখা হচ্ছে। 
আগে প্রতিমাসে ১ হাজার ১৫০ রিঙ্গিতের বেতন থেকে ১০৪ রিঙ্গিত কেটে রাখা হতো। এখন থেকে ২০৮ রিঙ্গিত কেটে রাখা হবে বলে জানিয়েছে মালিকপক্ষ।

ফলে মাসে ৯৪২ রিঙ্গিত বেতন পাবো আমরা। যা মাসে ১৮ হাজার টাকাও হয় না। এই বেতন দিয়ে নিজে কিভাবে চলবো, আর বাড়িতেই বা কি পাঠাবো! প্রবাস জীবণ নিয়ে অনেকটাই হতাশ তিনি।

আশার কথা হচ্ছে, এরই মধ্যে মালয়েশিয়ার শিল্প প্রতিষ্ঠান মালিকদের সংগঠন এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই কর বাড়ানোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করেছে। 
এসব সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়া সরকারের কর নীতির সমালোচনা করে বলছে, এ ধরনের সিদ্ধান্তের কারণে শ্রমিকরা দাসে পরিণত হবেন এবং কারখানার উৎপাদন ও বাজারেও এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। 
মাস্টার্স বিল্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব মালয়েশিয়ার ডেপুটি প্রেসিডেন্ট ফু চেক লি বলেন, এ কর বৃদ্ধির কারণে মালয়েশিয়ায় নির্মাণ কাজে আর বিদেশি শ্রমিকরা আসতে চাইবেন না। শুধু নির্মাণ শিল্প নয়, কর বৃদ্ধির প্রভাব সড়ক যোগাযোগ, কাঁচামাল, সেবা এবং ম্যানুফেকচারিং খাতেও পড়বে। 
বর্তমানে অর্থনৈতিক মন্দায় সরকারকে এ ধরনের পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্যে অনুরোধ করেছেন তিনি। 
স্থানীয় সময় বুধবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) কুয়ালালামপুরে মালয় কন্ট্রাক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন, গিল্ড অব ভূমিপুত্রা কন্ট্রার্ক্টস, মালয়েশিয়ান অ্যান্ড ইন্ডিয়ান কন্ট্রার্ক্টস এবং মালয়েশিয়ান এয়ার-কন্ডিশনিং অ্যান্ড রেফ্রিজারেশন অ্যাসোসিয়েশন এ বিষয়ে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেছে। 
এতে ফু চেক লি বলেন, সরকার চাইলে অবৈধ শ্রমিকদের বৈধতা দিয়েই ৫০ লাখ রিঙ্গিত রাজস্ব আদায় করতে পারে। 
২০১৩ সালে সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণের পর থেকে শ্রমিকদের বেতন থেকেই মালিকদের কর সংগ্রহের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। তবে শ্রমিকদের ওপর এ বোঝা না চাপিয়ে মালিকদেরই কর বহন করা উচিত।
এ সিভারাজান নামে সংগঠনটির এক ব্যক্তি বলেন, নিয়োগের জন্য বিদেশি শ্রমিকদের একবার ফি দিতে হচ্ছে। এরপর তাদের ওপর আবার বাড়তি করের বোঝা দেওয়া উচিৎ নয়। 

কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই বিদেশি শ্রমিকদের ওপর কর বাড়ানোর কড়া সমালোচনা করেছে মালয়েশিয়ার ৫৫টি স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন। 
বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে