আপডেট : ২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ২১:১১

রাজধানীতে কাল বৈশাখীর তাণ্ডব

অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীতে কাল বৈশাখীর তাণ্ডব

বুধবার রাজধানীতে  সন্ধ্যার পর তীব্র কালবৈশাখী ঝড় বয়ে গেছে। আকস্মিক এ কালবৈশাখীর ছোবলে পড়ে গাছের ডাল ভেঙে গাড়ি ও ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি জায়গায় সাইনবোর্ড ভেঙে পড়েছে।

এসময় রাস্তায় অফিস ফেরত মানুষই ছিলেন বেশি। কেউ গাড়িতে, কেউবা ফুটপাতে। তীব্র এ ঝড়ে মানুষের মাঝে  আতঙ্ক তৈরি হয়।

তেজগাও কলেজের সামনে পার্কের পুরনো একটি কড়ই গাছ একটি প্রাইভেট কারের ওপর গেলে গাড়ির চালক গুরুতর আহত হন। তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় গাছটি রাস্তা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এসময় ব্যস্ততম ফার্মগেট-ইন্দিরারোড কিছু সময়ের জন্য বন্ধ থাকে।  

আবহাওয়াবিদ একে এম নাজমুল হক আরটিভি অনলাইনকে বলেন, সাতটা ১৭ মিনিটে ঢাকার ওপর দিয়ে ৭৪ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা হাওয়া বয়ে গেছে। এসময় ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করা হয়।গত ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখের দিনে দুপুরে ঝড়-বৃষ্টির আগমনের মধ্য দিয়ে এবারের কালবৈশাখী শুরু হয়।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত এ ধরনের ঝড় বয়ে যাওয়াটা বাংলাদেশে স্বাভাবিক ঘটনা। কেননা এ সময়ে সূর্য প্রচণ্ড উষ্ণতা ছড়ায়। এতে গরম হয়ে যায় ভূপৃষ্ঠ। এ সময়টায় বাংলাদেশে তিন দিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হয়। একটি আসে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ-বিহারের দিক থেকে, যা আসে আরব সাগর থেকে।

পশ্চিমা সেই শুষ্ক বা গরম বাতাসের সঙ্গে দক্ষিণ দিক থেকে আসা বঙ্গোপসাগরের শীতল বাতাস মিশে পশ্চিম আকাশে জমে কালো মেঘ। ওই কালো মেঘ থেকে বয়ে যায় কালবৈশাখী।

এছাড়া ভারতের পূর্বাঞ্চল তথা মেঘালয়-আসামের দিক থেকেও একটি বায়ু আসে। দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ধাবিত ওই বায়ু উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে প্রবাহিত হয়ে ঢাকা থেকে বরিশাল অঞ্চল পর্যন্ত যায়। এটিও বঙ্গোপসাগরের দিক থেকে আসা বায়ুর সঙ্গে মেশে। এই তিন ধরনের বায়ু দমকা থেকে ঝড়ো হাওয়া রূপান্তর হয়।

এ সময় আকাশে তৈরি মেঘ বাতাসের তোড়ে ব্যাপক ছোটাছুটি করে। তখন বিদ্যুৎ চমকায়। কখনো বজ্রপাত হয়। শিলাবৃষ্টিও হয়।

ডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল

উপরে