আপডেট : ১৭ জানুয়ারী, ২০১৮ ২০:০৫

অন্ধকার পেরিয়ে আসা সেই পূর্ণিমার কথা...

অনলাইন ডেস্ক
অন্ধকার পেরিয়ে আসা সেই পূর্ণিমার কথা...

“দেশ-সমাজকে ভালো কিছু দেয়ার বহুদিনের ইচ্ছাপূরণের সুযোগ হলো। বেকারত্ব ঘুচে গেলো। এটাও বুঝলাম সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকার সব ভুলে যায় না। আমার মতো সাধারণ মানুষের কথাও মনে রেখেছে সরকার। এখন দেশের জন্য নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী এবং তারানা হালিম আপার কাছে কৃতজ্ঞতার ভাষা আমার জানা নেই।”

তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়ে এই কথাগুলো বলেছেন ২০০১ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে বিএনপি-জামায়াতের পৈশাচিকতার শিকার হয়ে ঘুরে দাঁড়ানো পূর্ণিমা শীল।

ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি থেকে টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যাচেলর সম্পন্ন করেছেন বলে জানান পূর্ণিমা। এরপর তথ্যপ্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে কাজের ডাক পাওয়ার পর  “আমি খুব খুশি” এই কথা বলে এপর্যন্ত আসার নিজের গল্প বললেন পূর্ণিমা: প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম আমার খোঁজ করছিলেন। সিরাজগঞ্জের সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘জনতার সংগ্রামে’র রিয়াজুল ইসলামের মাধ্যমে তারানা আপার ব্যক্তিগত সহকারি জয়দেব নন্দী দাদা আমার কথা জানতে পারেন। এরপর ৬ মাস তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পর আমাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের কার্যালয়ে ডাকা হয়।

প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কী কথা হলো? এই প্রশ্নে পূর্ণিমা বলেন, তিনি জিজ্ঞেস করলেন আমি কেমন আছি, মা কেমন আছেন। এখন কী করছি জানতে চাইলেন। এরপর বললেন তিনি আমাকে তার ব্যক্তিগত কর্মী হিসেবে কাছাকাছি কাজ করার সুযোগ দিতে চান। এই প্রস্তাবে আমার কোন অসুবিধা আছে কিনা সেটা জানতে চাইলেন।

‘জবাবে আমি বললাম আমার অসুবিধা হবে কেন। একটা ভালো কাজ করতে পারবো, স্বাধীনভাবে সম্মানের সঙ্গে কাজ করতে পারবো। এখনো কী কাজ করতে দিবেন এখনি এতো কিছু জানি না। কিন্তু তার মতো আন্তরিক মানুষের কাছাকাছি কাজ করবো এটাই এখন অনেক বড় কিছু।’

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে থেকেই পূর্ণিমা আলো ছড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তারই মতো গাঢ় অন্ধকার দেখে আসা মেয়েদের জীবনে।

নিজের এই আলো ছড়ানো উদ্যোগের কথা একটুখানি বললেন আলাপচারিতার একেবারে শেষে এসে।

সমাজকে ভালো কিছু দেয়ার ইচ্ছা থেকে এই উদ্যোগ জানিয়ে তিনি বলেন, সমাজে যে মেয়েরা ধর্ষণের শিকার হয়, অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত এরকম অন্ধকার দেখা মেয়েদের জীবনে একটু পূর্ণিমার আলো দিতে আমি ‘পূর্ণিমা ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট’ গড়েছি। আমি আমার নিজের আয় থেকেও অমাবস্যার অন্ধকার ভর করেছে এমন নারীদের জীবনে একটু পূর্ণিমা নিয়ে আসতে চাই।

চরম অমানবিকতার শিকার হওয়া পূর্ণিমা শীল অনেক নারীর মুখে সামান্য হলেও পূর্ণিমা ছড়ানোর সুযোগ পেয়েছেন।

এই সুযোগ দিতে পারার কথা জানিয়েছেন খোদ তথ্যপ্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

ফেসবুকে পূর্ণিমা শীলের সঙ্গে আন্তরিকতাপূর্ণ ছবিসহ একটি পোস্টে তারানা হালিম লিখেছেন: মনে পড়ে সেই পূর্ণিমাকে? ২০০১ এর ১ অক্টোবর নির্বাচন-পরবর্তী বিএনপি-জামাতের পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল ১৪ বছরের মেয়েটি। হ্যা, আমি সিরাজগঞ্জের সেই পূর্ণিমা শীলের কথা বলছি। আজ আমি গর্বিত আমি পূর্ণিমাকে আমার “পার্সোনাল অফিসার” হিসাবে নিয়োগ দিলাম। পূর্ণিমা, তোমাকে আমরা ভুলে যাইনি। জীবনের অন্ধকার রূপ তুমি দেখেছো, আলোর জগতে তোমায় স্বাগতমৃ শুরু হোক নতুন পথচলা। তোমাকে অভিবাদন প্রিয় পূর্ণিমা।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে