আপডেট : ২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ১২:৩৫

‘আমরা লাশ কাটি’

অনলাইন ডেস্ক
‘আমরা লাশ কাটি’

‘লাশ কাটা আমাদের কাজ, আমরা লাশ কাটি। মাঝে মাঝে মনে হয় লাশের সাথে আমরাও লাশ হয়ে গেছি। এই লাশ কাটা তো আর কোন ভালো পেশা না। ভালো হলে তো সমাজে একটা ভালো দাম পেতাম।’ নিজের মনের কষ্টের কথাগুলো এ ভাবেই প্রকাশ করেন নাসির (ছদ্মনাম)।

তিনি বলেন, ‘প্রথম যখন লাশ কাটা ঘরে আসি, ভয়ে আমার হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেছিল। আর ভাবতেও অবাক লাগে এখন আমি নিজেই লাশ কাটি। কিছু মনেই হয় না। এই হাত দিয়ে জীবনে অনেক লাশ কেটেছি। একদিন আমিও মারা যাবো যদি প্রয়োজন হয় আমার লাশও আরেকজন কাটবে এটাই স্বাভাবিক।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে লাশ কাটার কাজে নিয়োজিত সর্বমোট ৬ জন ডোম। এদের মধ্যে দুই জন সরকারের বেতন ভূক্ত নয়। এই দুইজন নিয়মিত নয়। কাজ থাকলে আসেন না হলে আসনে না। নাসির (ছদ্মনাম) তাদের মধ্যেই একজন।

অন্যদিকে মর্গ সহকারী সেকান্দার বলেন, মর্গে লাশ কাটার জন্য জনবল বাড়ানো খুবই জরুরী হয়ে পরেছে। মাঝে মাঝে আমার একারও কাজ করতে হয় কিন্তু একা তো আর একটি লাশ উঠানো নামানো যায় না। তাই জনবলের প্রয়োজন রয়েছে।

মর্গ সহকারী সেকান্দার লাশ কাটার পেশায় ৩৫ বছর। এই পেশায় কেন এসেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বংশ পরাম্পরা থেকে এই পেশায় আসা। আমার দাদা, তারপর আমার বাবা, তারপর আমার চাচা, এরপর আমি। তবে পেটের দায়ে আমি এই পেশায় এসেছি। এমনিতে কেউ এই পেশায় আসবে বলে আমার মনে হয় না।’

৩৫ বছরের মধ্যে লাশ কাটতে গিয়ে কোন স্মরণীয় রয়েছে কিনা জানতে চাইলে মর্গ সহকারী বলেন, ‘এমন কোন ঘটনা আমার নাই, তবুও আগে থেকে যে সব লাশ কাটতে ভয় লাগতো এখনও সেই সব লাশ কাটতে আমার খুব খারাপ লাগে। শিশুদের লাশ কাটতে আমার খুবই খারাপ লাগে। ছোট ছোট নিষ্পাপ শিশু তাদের লাশ কাটতে এখনো আমার হাত কাঁপে।

বর্তমান কাজ নিয়ে এই সহকারী বলেন, এক সময় হাতুড়ি দিয়ে ময়নাতদন্তের কাজ করেছি। এখন অনেক উন্নতি হয়েছে। দিনে দিনে নতুন নতুন মেশিন পেয়েছি। কাজ করতেও এখন ভালো লাগে।

উপরে