আপডেট : ২০ নভেম্বর, ২০১৭ ০৯:২৭

ঢাবিতে ভর্তি হতে পারছে না চার বন্ধু!

অনলাইন ডেস্ক
ঢাবিতে ভর্তি হতে পারছে না চার বন্ধু!

চার বন্ধুর একটা অদ্ভুত মিল রয়েছে—চারজনই গরিব ঘরের সন্তান! অভাবের সংসারে হাজার কষ্ট সয়ে করেছেন পড়াশোনা। এখন পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে ঢাবিতে চান্স পেয়েও চারজনই ভর্তি হওয়া নিয়ে পড়েছেন দুশ্চিন্তায়।

ওঁরা চার বন্ধু। ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে খেলাধুলা, বেড়ে ওঠা। শিক্ষাজীবনের শুরু থেকে একই স্কুল-কলেজে পড়া। এবার উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর শাণিত মেধার পরিচয় দিয়ে সবাই ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। চার বন্ধু হলেন শফিকুল ইসলাম, নূর ইসলাম খান, আকতারুল শাহ্ ও ফরহাদ হোসেন। নীলফামারী জেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে জলঢাকা উপজেলার মীরগঞ্জ ইউনিয়নের পাঠানপাড়া এলাকায় তাঁদের বাড়ি। পাঠানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জয়নাল আবেদীন খান বলেন, ওই চারজনই গরিব ঘরের। লেখাপড়া শেষে তাঁরা প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি করে জনসেবা করতে চান।

চারজনের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটেরভর্তি পরীক্ষায় আরাজি পাঠানপাড়া গ্রামের আবদুল মালেক খানের ছেলে শফিকুল হয়েছেন ৯৮০তম এবং দক্ষিণ পাঠানপাড়া গ্রামের বাবু খানের ছেলে নূর ইসলাম দখল করেছেন মেধাতালিকার ১ হাজার ১৭৫তম স্থান। উত্তর পাঠানপাড়া গ্রামের ইউসুফ আলী শাহের ছেলে আকতারুল হয়েছেন ২ হাজার ২৬২তম এবং কালকেউট গ্রামের ওবায়দুল ইসলামের ছেলে ফরহাদ দখল করেছেন মেধাতালিকার ৭৪১তম স্থান।

পাঠানপাড়া বাজারে শফিকুলের বাবা আবদুল মালেকের ছোট্ট একটি পানের দোকান রয়েছে। তাঁর মা সালমা বেগম বলেন, ‘ছেলের ভর্তির জন্য এর-ওর কাছে ধারদেনা করেও টাকা জোগাড় হচ্ছে না। এখন কী যে করি!’

নূর ইসলামের বাবা বাবু খান পেশায় দিনমজুর। তাঁর আয়ে খেয়ে না-খেয়ে চলে পাঁচ সদস্যের সংসার। নূর বলেন, ‘লেখাপড়ার খরচ জোগাতে বাবার সঙ্গে দিনমজুরিও করেছি। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিসহ লেখাপড়ার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি।’

আকতারুলের বাবা ইউসুফ আলী শাহ স্থানীয় হাটে দৈনিক মজুরিতে ব্যবসায়ীদের গরু কেনাবেচা করে দেন। এ মজুরিতে চলে পাঁচ সদস্যের পরিবার। আকতারুলের মা আলেমা বেগম বলেন, ‘ছেলেক আরও পড়েবার তো চাই। কিন্তু এলা ঢাকাত ভর্তি করেবার টাকা জোগাড় করিবার পায়ছি না।’

ফরহাদের বাবা ওবায়দুল ইসলামও কৃষিশ্রমিক। বাড়ির ভিটে ছাড়া জমিজমা নেই। ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘ছেলে বাড়িত থাকি কষ্ট করি স্কুল-কলেজোত পড়িল। এলা ঢাকাত পাঠেবার টাকা পাইম কোনঠে?’

তাঁরা চার বন্ধু নীলফামারী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। ওই কলেজের অধ্যক্ষ দেবীপ্রসাদ রায় বলেন, এবার তাঁর কলেজ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটে ১৫ জন ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তাঁদের বেশির ভাগই দরিদ্র।

ওই চার বন্ধু বলেন, এমন সফলতায় তাঁদের সহযোগিতা করেছেন কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক নূরুল করিম স্যার। তিনি ক্লাসের বাইরে বিনা বেতনে তাঁদের পড়াতেন। তাঁরা বলেন, ‘আমরা চার বন্ধু ভর্তি পরীক্ষার লেখাপড়া নিয়ে পাঠানপাড়া বাজারের পাশের মাঠে বসে প্রতিদিন সকাল-বিকেল চর্চা করেছি। যেখানে থেমেছি, স্যারের (নূরুল করিম) সহযোগিতা নিয়েছি। এখন ভর্তি ও পরবর্তী লেখাপড়ার পথে অর্থ বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

সূত্র: প্রথম আলো

উপরে