আপডেট : ১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ১৫:১৭

পশ্চিমাদের খয়রাতি নোবেলে পদপিষ্ট শান্তির বানী!

অনলাইন ডেস্ক
পশ্চিমাদের খয়রাতি নোবেলে পদপিষ্ট শান্তির বানী!

শান্তির 'নোবেল' পশ্চিমা প্রভাবে খয়রাতি সাহায্যে পরিণত হয়েছে। বিনা অবদানেই  মিলে, প্রয়োজন পশ্চিমাদের নেক নজর। ড.ইউনুস ও সুচির নোবেলও তেমনি, শান্তির জন্য কিছুই করতে হয়নি। এখানে একজন বিপুল বিত্তের মালিক, অন্যজন  ক্ষমতার সিংহাসনে। এ দেশে   মানুষ পুড়ে মরে, ও দেশে রোহিঙ্গা নিধন হয়, তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলে, শান্তির তকমা জড়িয়ে সুখ-নিদ্রা যায়।

সুচির শান্তির নোবেল লক্ষ লক্ষ মুসলিম রোহিঙ্গার জন্য মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে। সুচির সেনাবাহিনী নিষ্ঠুর হত্যাজজ্ঞ শুরু করেছে রাখাইন রাজ্যে। সেনারা ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করছে, মহিলাদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে সেনা ক্যাম্পে, গণধর্ষন করছে রোহিঙ্গা রমনীদের। মোটকথা ১৪ লক্ষ মুসলমান রোহিঙ্গা নর-নারীকে মিয়ানমার ছাড়া করার অনৈতিক খেলায় মেতেছে সুচির সরকার।

মিয়ানমারে চীনের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রন, অন্তত পশ্চিমাদের এমনই ধারনা। সেই ধারনা থেকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মিশনে নামে ইউরোপ-আমেরিকা। যেই ভাবা, সেই কাজ। গণতন্ত্র কায়েম করতে সওয়ার হলো সূচীর কাঁধে। সুচির যোগ্যতা কি? সুচির একমাত্র যোগ্যতা সে জান্তা সরকারের হাতে গৃহবন্দী। ব্যস, নোবেল কমিটিকে প্রভাবিত করে দেয়া হলো শান্তির নোবেল এবং এভাবে সুচিকে গণতন্ত্রের মহান নেত্রী হিসাবে উপস্থাপন করা হলো।

আদতে অং সান সুচি তাঁর পুরো জীবনে কখনো, কোথাও মানুষের ন্যায্যতা বা গণতন্ত্রের জন্য একটি শব্দও উচ্চারন করেননি। তাঁর দেশের প্রায় সাড়ে চার লক্ষ মানুষ যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশে মানবেতর জীবন-যাপন করছে, তাঁর দেশের প্রচুর মানুষ অবৈধ মানব পাচারে জড়িত, তাঁর দেশের সেনারা প্রতিনিয়ত আমাদের সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচার করছে, অথচ গণতন্ত্রের ভেকধারী এই নেত্রী মুখে কুলুপ এঁটে আছে। আর এখন রাখাইন রাজ্যের ১৪ লক্ষ মুসলিম বিতারনের মিশনে নেমেছে এই বর্নবাদী মহিলা।

সু্চির জীবনে গৃহবন্দিত্ব ছাড়া কোন রকম ত্যাগ নেই। তাঁর আজীবন স্বপ্ন রাষ্ট্রক্ষমতা দখল। ক্ষমতায় বসে রোহিঙ্গা নিধনই তাঁর প্রথম প্রায়োরিটি। রোহিঙ্গাদের ইস্যুতে জান্তা সরকারের ন্যুনতম দায়িত্ববোধও তার নেই। জান্তা সরকারের সময়ের শান্তিটুকুও রাখাইন রাজ্যে অবশিষ্ট নেই। অসম্ভব মুসলিম বিদ্বেষী সুচি কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছে না। আমরা মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গা সমস্যার ন্যায্য সমাধানই আশা করি।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে