আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০১৭ ১০:৪৫

কখনও মঞ্চে উঠতেন না আইভী রহমান!

অনলাইন ডেস্ক
কখনও মঞ্চে উঠতেন না আইভী রহমান!

২১ আগস্ট নারকীয় গ্রেনেড হামলায় মারাত্মক আহত হয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ২৪ আগস্ট শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেছিলেন আইভী রহমান। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী পরিচয় ছাড়াও নিজের কর্মগুনে পরিচিতি পেয়েছিলেন তিনি।

স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ, নারী আন্দোলন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলেনে অসামান্য অবদান ছিল আইভী রহমানের। স্ত্রীকে হারানোর পর শোকাহত জিল্লুর রহমান বলেছিলেন, আইভীর অনুপ্রেরনা ও সার্বিক সহযোগিতায় আজ আমি জিল্লুর রহমান হয়ে উঠেছি।

আইভী রহমান স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়াসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলেন সামনের সারিতে থেকেছেন। কিন্তু কখনও নিজেকে প্রচারে আনতেন না। আজকের দিনে রাজনৈতিক অঙ্গণে মঞ্চে উঠার যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে তার বিরুদ্ধে জ্বলন্ত উদাহরন হয়ে থাকবেন আইভী রহমান। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন তিনি। কিন্তু কখনই মঞ্চে উঠতেন না। বক্তব্য রাখার জন্য ডাকা হলে মঞ্চে যেতেন। বক্তব্য শেষে নিচে নেমে আসতেন আইভী। অন্য নেতারা অনুরোধ করেও তাকে মঞ্চে বসাতে পারতেন না। মঞ্চের সামনে মহিলাদের নিয়ে বসে নিজেই শ্লোগান ধরতেন।

২১ আগস্ট সমাবেশে আইভী রহমান মঞ্চের সামনে বসেছিলেন। অনেক নেতাই তাকে মঞ্চে উঠার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তিনি মঞ্চে উঠেননি। মাটিতে বসে নারী কর্মীদের নিয়ে শ্লোগান ধরেছিলেন। জোরালো কণ্ঠ ছিল তার।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, বঙ্গবন্ধু পরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্বীয় আইভী রহমান সংরক্ষিত আসনের এমপি হতে কখনই আবেদন করেননি। এমন দৃষ্টান্ত বর্তমান রাজনীতিতে বিরল ঘটনাই।

দলীয় কোনো কর্মসূচিতে আগত নারীদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার মত নেত্রী আর কাউকে দেখা যায় না।  ওয়ার্ড কমিটির সদস্য হয়েও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানমঞ্চে উঠার প্রতিযোগিতা দেখা যায়। তবে এর বিপরীতে উদাহরণ হয়ে রইবেন আইভী রহমান।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে