আপডেট : ১৯ আগস্ট, ২০১৭ ১৫:২০

তারিকের পরে মাহবুবুল, বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত অনুসারী কারা?

শেখ আদনান ফাহাদ
তারিকের পরে মাহবুবুল, বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত অনুসারী কারা?

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ‘বিকৃত’ করা হয়েছে বলে ইউএনও তারিক সালমনকে একটা ‘শিক্ষা’ দেয়ার পাশাপাশি নিজেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ‘হিরো’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন বরিশালের আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়েদুল্লাহ সাজু। উল্টো নিজেই একটা ‘শিক্ষা’ পেয়ে গেছেন এই আওয়ামী লীগ নেতা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বয়ং ওই আওয়ামী লীগ নেতার উপর বিরক্ত হয়েছেন। বিস্মিত হয়েছেন এই আওয়ামী লীগ নেতার নির্বুদ্ধিতায়। নায়ক হতে গিয়ে খলনায়ক হয়ে দল থেকে বহিষ্কারাদেশ পেয়েছেন সেই নেতা।

প্রায় একইরকম একটা ঘটনা ঘটছে ঢাকার অদূরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মাহবুবুল হক ভুঁইয়া নাকি ১৫ আগস্ট, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে ‘ক্লাস’ নিয়েছেন! এবং ক্লাস নিয়ে তিনি জাতীয় শোক দিবসের চেতনাকে অপমান করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় উত্তাল। ছাত্রলীগের একাংশের নেতৃত্বে সেখানে আন্দোলন হচ্ছে। উপাচার্য মহোদয় নিজের একক সিদ্ধান্তে মাহবুবুল হক ভুঁইয়াকে এক মাসের বাধ্যতামূলক ছুটি দিয়েছেন। মাহবুবুল হক ভুঁইয়াকে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় ছাত্রলীগ’ ও একদল ‘সাংবাদিক’ মাহবুবকে ক্লাসরুমে ‘হাতেনাতে’ ধরেছে। ভিডিও করেছে। বেশ উত্তেজনাকর একটা পরিস্থতি। শিক্ষক মাহবুব ও ক্লাসরুমে উপস্থিত অন্যান্যদের ‘শিবির’ আখ্যা দিয়ে সাথে সাথে ছাত্রলীগ মিছিল বের করেছে। শত শত ছাত্রলীগ নেতাকর্মী কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাগাতার আন্দোলন করেছে। কুশপুত্তল দাহ করা হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, শিক্ষক মাহবুবকে ‘চূড়ান্ত শিক্ষা’ দিতে ভালোই প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

সেদিনের ‘ক্লাস’ নিয়ে নিজের বদনকিতাবে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা পিতার সন্তান মাহবুবুল হক দাবি করেছেন, সেদিন ছাত্র-ছাত্রীদের একাংশ তাঁর কাছে একটা ‘বিষয়’ বুঝতে আসে। নিজ কক্ষে কলিগগণ বসে থাকায় তিনি শিক্ষার্থীদের সেই ছোট দলটি নিয়ে লাগোয়া একটা শ্রেণীকক্ষে কথা বলছিলেন। ক্লাস নেয়ার কথা নয়, কারণ পরীক্ষা নাকি শুরু হয়ে গেছে আগেই। কোথায় যেন দেখলাম, উপাচার্য মহোদয় মাহবুবকে অন্য কিছুতেও জড়িত থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। যেমন চ্যানেল আই অনলাইনের সাংবাদিক সাখাওয়াত আল আমিনকে বলেছেন, পরীক্ষার মধ্যে শিক্ষার্থীদের সাথে এত কথা কিসের? অন্য কিছু বোঝাতে চেয়েছেন তিনি। আমাদের কাছে মনে হয়, মাহবুবের মনে দুনম্বরি কিছু থাকলে প্রকাশ্যে কিছু করতেন না। দুনম্বর লোকজন এত সরল হয়না, এরা মারে এখানে, কিন্তু লাশ পড়ে শ্মশানে। মাহবুব অতদূর যাননি, নিজ অফিসের কাছেই ছিলেন, প্রকাশ্য ছিলেন।

তবে এটাও ঠিক, পরীক্ষা চলাকালীন ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে বদনকিতাবের ইনবক্স, অফিস কিংবা ক্লাসরুম, কোথাও বেশি কথা বলা উচিত নয়, কারণ এতে আপনি যতই সৎ হোন না কেন, অন্যদের মনে সন্দেহ সৃষ্টি হতে পারে। আর জাতীয় শোক দিবসে দলবেঁধে একজন শিক্ষকের কাছে শিক্ষার্থীদের দলবেঁধে একাডেমিক বিষয় বুঝতে আসাটাও খানিকটা অস্বাভাবিক। তবে শিক্ষার্থী কোন বিষয় বুঝতে চাইলে, শিক্ষক না করতে পারেন না। এমনও হতে পারে, অন্য শিক্ষকের কোর্স নিয়েও শিক্ষার্থীরা বুঝতে আসতে চাইতে পারে। ভালো শিক্ষকের এটা একটা দুর্বলতা। একজন আন্তরিক শিক্ষক হিসেবে মাহবুবের সুনাম রয়েছে। শিক্ষার প্রতি, শিক্ষার্থীর প্রতি আন্তরিকতারই মাশুল গুনছেন মাহবুব। যে ক্যাম্পাস তাঁর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ হওয়ার কথা, সে ক্যাম্পাসে তিনি এখন হত্যার হুমকি পাচ্ছেন।

আমরা অনেকেই বুঝিনা যে ভালো শিক্ষক আর সতর্ক শিক্ষকের মধ্যে পার্থক্য আছে। মাহবুবের হয়ত আরেকটু সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। বাংলাদেশে শুধু ভালো শিক্ষক হলে চলেনা, যথেষ্ট সতর্কও হতে হয়। না হলে যে, সুযোগ সন্ধানীরা বিপদে ফেলতে পারে, অতটা সাবধানী হয়ত মাহবুব হয়ে উঠেননি। কিন্তু প্রশ্ন হল, জাতীয় শোক দিবসে মাহবুব নিজের বিভাগে একদল ছাত্র–ছাত্রীর সাথে শ্রেণিকক্ষে কথা বলেছেন বলে তাকে ‘শিবির’ কিংবা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি বলে আখ্যা দেয়া যায় কি না?

মাহবুব যে শিবির বা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির কেউ নন, সেটা পরিষ্কার করতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদ এবং শিক্ষক সমিতি বিবৃতি দিয়েছে। ফলে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য আর তার ঘনিষ্ঠজনেরাই শুধু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তি আর বাকিরা মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী শক্তি এমন ঢালাও ভাবনার কোনো সুযোগ নেই। সবকিছু মিলে ব্যক্তি মাহবুবের বিপন্ন জীবনের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে এসেছে আরেকটা বিষয়। জাতির পিতার প্রকৃত অনুসারী কারা?

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন বিশুদ্ধ মানবতাবাদী মানুষ। গরিব-দুঃখী মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির জন্য  টুঙ্গিপাড়ার শেখ মুজিব থেকে একটি জাতির পিতা হয়ে উঠার পথে উনি আমৃত্যু  মানবতাবাদী কর্মে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। ছোট বেলায় শেখ মুজিব স্কুলের সমস্যা নিয়ে সরব হয়েছেন। যুবক বেলায় শেখ মুজিব কলকাতায় দাঙ্গা থামাতে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন।  ১৯৪৭ সালেই বাংলা ভাষাভাষী মানুষের জন্য কলকাতা, দার্জিলিং, আসামের কাছার, করিমগঞ্জ ও বর্তমান বাংলাদেশ নিয়ে পৃথক রাষ্ট্র কায়েমের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ভারত ও পাকিস্তানের সাম্প্রদায়িক শক্তির সম্মিলিত অপপ্রয়াসে কলকাতা, দার্জিলিং , কাছার ও করিমগঞ্জ ছাড়াই পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্তি সাময়িক ভাবে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। পাকিস্তান এর শুরু থেকেই বাঙালী জাতির পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র কায়েমের জন্য ব্রতী হয়েছেন শেখ মুজিবুর রহমান। ২৪ বছরের পাকিস্তান আমলে ১৪ বছর জেলে কাটিয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগের জন্মের আগেই ছাত্রলীগ এর জন্ম দিয়েছেন তিনি। উদ্দেশ্য ছিল, মুসলিম লীগ থেকে পুরোপুরি বের হয়ে যাওয়ার আগেই স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কাজ করতে পারে এমন একটি যুবক বাহিনী তৈরি করা।

স্বাধীন বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদ (বাঙালি), ধর্মনিরপেক্ষতা, রাজনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে গণতন্ত্র আর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন তিনি।

সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে সর্বক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়ানোর কথা বলেছেন। উৎপাদন যদিও আপাত দৃষ্টিতে কল-কারখানার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি প্রক্রিয়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও উৎপাদনই করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান উৎপাদন করে। একজন শ্রমিক কারখানায় কাজ করে উৎপাদন বাড়াবে, তেমনই একজন শিক্ষক নিজের বিভাগে ক্লাসরুমে, অফিস কক্ষে, লাইব্রেরিতে কাজ করে উৎপাদন বাড়াবেন। এ যুক্তিতে মাহবুব ছাত্র-ছাত্রীদের সময় দিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর কাজই করেছেন। জাতির পিতা শিক্ষকদের এতই সম্মান করতেন যে, দেশের বড় চারটি বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসন দিয়ে গেছেন। শিক্ষকদেরকে তিনি বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ করে গেছেন। বঙ্গবন্ধু নিজে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্বায়ত্তশাসন দিয়ে শিক্ষকদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন, সেখানে ইদানিং আমলাতন্ত্র শিক্ষকদেরকে নানা ভাবে আটকানোর চেষ্টা করে চলেছেন। আরও ভয়ের বিষয় হল, কোনো কোনো উপাচার্য নিজেরাই আমলাদের মত আচরণ করছেন।

জাতির পিতার জীবন আকাশের চেয়েও বিশাল। উনার জীবন, আদর্শ, রাজনীতির সব কথা আমরা এখনো জানিনা। ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতা, তারাও কয়জন এগুলো পরিষ্কার জানেন সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আমাদের আছে। অসমাপ্ত আত্মজীবনী কিংবা কারাগারের রোজনামচা কয়জন পড়েছেন ঠিকমত সে বিষয়ে সন্দেহ অমূলক নয়। বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগ গত ৮ বছর ধরে টানা বাংলাদেশের ক্ষমতায়। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দল দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকাকালীন দেশের আর্থ-সামাজিক প্রভূত উন্নতি যেমন হয়েছে, অদ্ভুত সব ঘটনাও ঘটছে। এর একটি ইউএনএও তারিক সালমনের ঘটনা। আরেকটি কুমিল্লার শিক্ষক মাহবুবের ঘটনাটি। আমাদের বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন এ ঘটনাটি জানবেন, তিনিও তখন বিস্মিত হবেন। বিস্মিত হয়ে উপাচার্য সম্পর্কে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ সম্পর্কে খোঁজখবর নেবেন। শেখ হাসিনা সঠিক সিদ্ধান্ত নেন, এ বিশ্বাস আমাদের আছে।  বঙ্গবন্ধু আজ বেঁচে থাকলে কিংবা ঘটনাটি বঙ্গবন্ধুর আমলে হলে তিনি কী করতেন বা বলতেন? এটা অনুমান করা যাবেনা। কিন্তু জাতির পিতা আমাদের উদ্দেশ্য করে কি কি বলে গেছেন সেটি জানার চেষ্টা হতে পারে।

১৯৭২ সালের ২ এপ্রিল ঠাকুরগাঁওয়ে এক ভাষণে জাতির পিতা বলেছেন, ‘যুবক ভাইয়েরা শৃঙ্খলায় থেকো, গ্রামে গ্রামে যাও, লেখাপড়া শিখ। তোমাদের ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দিতে হবে। …দেশ তোমার, তাকে গড়তে হবে। লেখাপড়ার দিকে একটু মনোযোগ দাও’। ছাত্র ইউনিয়নের ত্রয়োদশ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালের ৯ এপ্রিল। সেখানে প্রধান অতিথির ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির সাথে মিল রেখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তুলতে হবে। সেই জন্য শীঘ্রই একটা শিক্ষা কমিশন গঠন করা হবে এবং সেখানে আপনাদের প্রত্যেকেরই অধিকার থাকবে আপনাদের মতামত দেয়ার’।  সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির সাথে মিল রেখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তুলতে চেয়েছেন বঙ্গবন্ধু; এ কথার মানে কয়জন বুঝবে এখন? সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সবাইকে একনিষ্ঠ কর্মী হতে হয়। মাহবুব শিক্ষার্থীদেরকে সময় দিয়ে সেই কর্মীই হয়েছেন।

পটুয়াখালীতে ৪ জানুয়ারি, ১৯৭৩ সালে এক ভাষণে জাতির পিতা বলেন, ‘ছাত্র ভাইয়েরা লেখাপড়া কর। নকল করার প্রবণতা বেড়ে গেছে। তোমরা কী করবা? লেখাপড়া শিখবা, না নকল করে পাস করবা? মানুষ হও। নকল করে পাস করে তো মানুষ হওয়া যাবেনা। ডিগ্রি নেয়া যেতে পারে, তোমাদের তো মানুষ হতে হবে’। ১৯৭৩ সালে ঢাকায় দেয়া এক ভাষণে তিনি বলেছিলেন, ‘পে-কমিশনের রিপোর্ট বের হলে দেশকে যে শিক্ষায় সমাজতন্ত্র করা যায়, সে শিক্ষাই বাংলাদেশ করতে হবে। অন্য কোনো শিক্ষা এখানে হতে পারেনা’। ১৯৭৪ সালের ১৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক অধিবেশনে প্রদত্ত ভাষণে জাতির পিতা বলেন, ‘ সেদিন ছাত্ররা আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল। তাঁদের বলেছি, আত্মসমালোচনা কর। মনে রেখো, আত্মসমালোচনা করতে না পারলে নিজেকে চিনতে পারবানা। তারপর আত্মসংযম কর, আর আত্মশুদ্ধি কর। তাহলেই দেশের মঙ্গল করতে পারবা’।

১৯৭৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি যুব লীগের প্রথম জাতীয় কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘সোশ্যালিজম করতে হলে সোশ্যালিজম ক্যাডারের প্রয়োজন আছে। তাদের ট্রেনিং দিতে হবে। ক্যাডার ছাড়া হয়না। তোমাদের সোশ্যালিজমের ক্যাডার হতে হবে। সোশ্যালিজমের ট্রেনিং নিতে হবে। তা হলে এদেশে সোশ্যালিজম হবে’। এই সোশ্যালিজম এর ক্যাডার আর বর্তমান আমরা যে ‘ক্যাডার’ দেখি তার মধ্যে কতখানি পার্থক্য আর অমিল সেটা কি আজকালকার রাজনীতিবিদরা অনুধাবন করেন? বঙ্গবন্ধু সার্বক্ষণিক কাজে থেকে দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির যুদ্ধে সবাইকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বারবার। ছাত্রলীগসহ সবাইকে লেখাপড়ার মধ্য দিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

অথচ একজন শিক্ষক ক্লাসরুমে জাতির পিতারই শাহাদাৎ বার্ষিকীতে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছেন, এজন্য তাঁকে ‘শিবির’ আখ্যা দিয়ে তাঁর পেটে লাথি মারার সব ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কে শিবির? কে আজ রাষ্ট্রবিরোধী, কে আজ বঙ্গবন্ধুবিরোধী? যে শিক্ষকের সাথে বেয়াদবি করে, পবিত্র ক্লাসরুমে ঢুকে মাস্তানি করে, ষড়যন্ত্র করে, চাঁদাবাজি করে, টেন্ডারবাজি করে তার সাথে ‘শিবির’ এর পার্থক্য কোথায়?  শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ, পবিত্র স্থান হল ক্লাসরুম। সেখানে শ্রেণীকক্ষে প্রবেশ করে একজন শিক্ষককে ‘সাংবাদিক’সহ ‘পাকড়াও’ করার দুঃসাহস কে দিল এই ছেলেগুলোকে? যারা এদেরকে লাই দিয়ে, আশকারা দিয়ে বেয়াদব বানিয়েছে, এরাই একদিন ভিলেন হবে জাতির চোখে। আজ জাতির পিতা বেঁচে থাকলে, আমরা উনার কাছে বিচার চাইতে যেতাম। জাতির পিতাকে হত্যা করেছে হায়েনারা। কিন্তু জাতির পিতার কন্যা এখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। তাই আমাদের আশা, বিশ্বাস, শেখ হাসিনা এদের বিচার করবেন।

জাতির পিতার শাহাদাৎ বার্ষিক যেভাবে পালন করা হয় সেখানে আমার বিকল্প প্রস্তাব আছে। জাতির পিতাকে নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে প্রোথিত করতে হবে। এজন্য জাতীয় শোক দিবসে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে সব বিভাগ খোলা থাকবে। শিক্ষকরা সব ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বসবেন, ক্লাসে কথা বলবেন, জাতির পিতার আদর্শ ও জীবনী নিয়ে ক্লাস নিবেন। হলে হলে জাতির পিতার উপর আলোচনা হবে। ১৫ আগস্টে যেভাবে গণভোজ হয় সময় ও স্থান ভেদে সেখানে পরিবর্তন আনা যেতে পারে। যেমন এবার ১৫ই আগস্ট যতগুলো কাঙ্গালি ভোজ হয়েছে তার সব টাকা বন্যার্তদের দিয়ে দিলে জাতির পিতার প্রকৃত অনুসারীর কাজ করা হত। জাতির পিতা ভোগবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন। আজ তার অনুসারী বলে দাবি করা মানুষগুলোর অনেকেই ভোগবাদী মানসিকতায় আচ্ছন্ন। সবাই শুধু নিজেই ‘বড়লোক’ হতে চায়। জাতির পিতার আদর্শ সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারলে সমাজে কোনো জুলুম-নির্যাতন থাকবেনা।

লেখক: শিক্ষক ও সাংবাদিক

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে