আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ২০:১৪

কর্মী শুধু ছাঁটাই হয়না, চাকরি ছেড়েও দেয়!

বিডিটাইমস ডেস্ক
কর্মী শুধু ছাঁটাই হয়না, চাকরি ছেড়েও দেয়!

একজন ভালো কর্মীর চাকরি ছেড়ে দেয়া যেকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্যে দুঃখজনক ঘটনা। তবে এর পেছনে কর্তৃপক্ষের কিছু দায়-দায়িত্ব থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভাগের বসেরও কিছু নেতিবাচক কার্যক্রম কর্মীকে চলে যেতে বাধ্য করে। এখানে জেনে নিন এমনই ৯টি কারণ যা ভালো যোগ্য কর্মীকে প্রতিষ্ঠান ছাড়তে বাধ্য করে।

১. ভালো কাজের সম্মান না দেয়া: সেরা কর্মীদের পারফরমেন্স নিয়ে কারোরই কোনো মাথাব্যথা থাকে না। কারণ তারা দায়িত্ব ঠিকই পালন করন। কিন্তু সফলতা আনতে তার অবদানকে স্বীকৃতি না দেয়াটা অশোভন। যারা নিজের মেধা-শ্রম ঢেলে প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিচ্ছেন তাদের যথাযথ প্রাপ্য বুঝিয়ে দেয়া বস ও প্রতিষ্ঠানের অন্যতম দায়িত্ব। আর তা না পেলে সেরা কর্মীরা চলে যেতে বাধ্য হন।

২. কর্মীদের প্রতি উদাসীনতা: চাকরি ছেড়ে যাওয়া অর্ধেক কর্মীরই অভিযোগ, বসরা তাদের প্রতি উদাসীন থাকেন। মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করলেও তা কষ্ট দেয় কর্মীদের মনে। অথচ কর্মীর সফলতা বস যেমন উদযাপন করবেন, তেমনি খারাপ সময়েও কর্মীর পাশে থাকা তার নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এমন বস না পেলে কর্মীরা উৎসাহ হারান এবং চলে যান।

৩. প্রতিশ্রুতিশীল নন: কর্মীদের কাছে ঘন ঘন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন অনেক বস। কিন্তু তা পালন করার প্রবণতা দেখা যায় না অনেকের মাঝে। বিভাগীয় প্রধানের প্রতিশ্রুতি কর্মীদের মাঝে উদ্দীপনা বাড়ায়। এ ক্ষেত্রে বস যখন কেবল লোক দেখানো প্রতিশ্রুতি দিতে থাকেন তখন হতাশা ছেয়ে যায় কর্মীদের মাঝে। যোগ্য কর্মীরা এমন বস অধীনে বা প্রতিষ্ঠানে আর চাকরি করতে চান না।

৪. ভুল কর্মীদের বাছাই ও পদোন্নয়ন: যে কারণেই হোক, যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও অন্যদের বাছাই বসের যোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তা ছাড়া অপেক্ষকৃত কম যোগ্য কর্মীদের পদোন্নয়ন তো আরো খারাপ বিষয়। এখানে ভালো কর্মীরা তাদের ভবিষ্যত দেখেন না। কাজেই এ প্রতিষ্ঠানে থেকে কি লাভ?

৫. অতিরিক্ত কাজ করিয়ে নেয়া: যারা আন্তরিক এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তারা নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন। বিশেষ উপলক্ষে বাড়তি কাজ করতেও তাদের কোনো অভিযোগ থাকে না। কিন্তু বস বা প্রতিষ্ঠান তাদের দিয়ে ক্রমাগত অতিরিক্ত খাটুনি খাটিয়ে নিলে বিষিয়ে ওঠে কর্মীরা মন। ভালো কর্মীদের দিয়ে বাড়তি খাটিয়ে নেয়ার প্রবণতা ভালো কিছু বয়ে আনে না। এটা তাদের উৎপাদনশীলতাকে আরো ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলাফল, কর্মী এ অফিসের প্রতি বিমুখ হয়ে ওঠেন।  

৬. স্বপ্ন পালনে বাধা দেন: প্রত্যেক কর্মীর একটা স্বপ্ন থাকে ক্যারিয়ার নিয়ে। তিনি কাজের পাশে স্বপ্ন লালন করেন। বিশেষ করে মেধাবী কর্মীদের সেই স্বপ্ন অন্যদেরও আশাবাদী করে তোলে। কিন্তু যে প্রতিষ্ঠান বা বস কর্মীদের স্বপ্ন পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়ান, তাদের ছেড়ে চলে যেতেই আগ্রহী থাকেন যেকোনো মানুষ।

৭. দক্ষ করে তুলতে ব্যর্থতা: প্রত্যেক বস তার কর্মীবাহিনীকে দক্ষ করে তোলেন। অনেকের সুপ্ত প্রতিভার খোঁজ বসই পেয়ে থাকেন। এ কাজে বসদের ব্যর্থতা ভালো কর্মীদের কাম্য নয়। আদর্শ ব্যবস্থাপকরা প্রত্যেক কর্মীর বিশেষ গুণকে তুলে আনেন। এর জন্যে ইতিবাচক কৌশল গ্রহণে উদ্যোগী হন। কিন্তু যে প্রতিষ্ঠান বা বস এমন উদ্যোগে আগ্রহী নন, তাদের প্রতিও আগ্রহ হারান কর্মীরা।

৮. সৃষ্টিশীলতার চর্চা করেন না: মেধানী কর্মীরা সব সময়ই সৃষ্টিশীল। তারা এর চর্চা করেন। আর প্রতিষ্ঠানের উচিত তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করা। এ চর্চার পরিবেশ যখন বাধাগ্রস্ত হয়, তখনই যোগ্য কর্মীরা আশাহত হয়ে পড়েন। এখানে চাকরি করার অর্থ খুঁজে পান না তারা।

৯. বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বিচার করেন না: ভালো বসরা কর্মীদের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বিচার করতে চান। এতে করে ভালো কর্মীদের পরিচয় ফুটে ওঠে। যোগ্য কর্মীরা তাদের বুদ্ধিমত্তা দিয়েই এগিয়ে যেতে চান। কর্মীবাহিনীর যোগ্যতা বিচারে বস বা প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ না থাকলে নৈরাশ্য দেখা দেয়। ফলে অন্যত্র চলে যাওয়াটাকেই সঠিক সিদ্ধান্ত বলে গণ্য করেন কর্মীরা।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম

উপরে