আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ২১:৩৩

অদ্ভুদ এক নেশাদ্রব্য ‘খাট’

বিডিটাইমস ডেস্ক
অদ্ভুদ এক নেশাদ্রব্য ‘খাট’

সোমালিয়ার স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল সোমালিল্যান্ড। সেখানকার অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং জনজীবনকে নিয়ন্ত্রণ করছে এক অদ্ভুদ নেশাদ্রব্য ‘খাট’৷ ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলে উৎপাদিত এই নেশাদ্রব্যে ছেলে-বুড়ো, ধনী-গরীব সবাই আসক্ত৷

তাদের দাবি এ অদ্ভুদ নেশাদ্রব্য থেকে তারা শক্তি পেয়ে থাকেন। আজকের চিত্র বিচিত্রে থাকছে আজব এক মাদক ‘খাট’-এর কথা৷

সবারই চাই ‘খাট’

সোমালিল্যান্ডের প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ ‘খাট’-এ আসক্ত৷ এটা না চুষলে তাঁদের যেন জীবন অচল৷ এ নেশার জন্য বেকারদেরও টাকার অভাব হয়না৷ বেকার যুবক আব্দিখালিদ ধার করে নেশা করে যাচ্ছেন এবং নিশ্চিন্তেই বলছেন, ‘‘নেশা করার টাকা এখন বন্ধুরা দেয়৷ আমি কোনো কাজ পেলেই ধারটা শোধ করে দেবো৷’’ প্রতিদিন খাট-এর পেছনে ১ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৯ লক্ষ ৩০ হাজার ইউরো খরচ করে সোমালিল্যান্ডের মানুষ৷

মদের চেয়ে ভালো? শক্তি জোগায়?

খাট নাকি মদের চেয়ে ভালো, এই নেশা নাকি শক্তি জোগায়৷ খাট-এ আসক্তদের অনেকে মনেপ্রাণে তা বিশ্বাস করেন৷ ‘‘এটা নেয়ার পর স্বাভাবিকভাবে কাজ করা যায়৷’’

‘খাট মা’

রাস্তার পাশেই অসংখ্য ‘খাট’-এর দোকান৷ ব্যবসাটা মূলত মহিলারাই চালান৷ স্থানীয়রা তাঁদের ডাকেন ‘খাট মা’ নামে৷ জাহরে আইদিদ একসময় ছিলেন কফি বিক্রেতা৷ অন্য ব্যবসাও করেছেন৷ কিছুতেই দারিদ্র্য যাচ্ছিল না৷ অবশেষে এলেন খাট ব্যবসায়৷ এখন ভালো আছেন৷ এক দাঁতের ডাক্তারের চেম্বারের পাশেই তাঁর দোকান৷ শত শত ক্রেতা আসে প্রতিদিন৷ জনপ্রতি অন্তত ৬ থেকে ১০ ডলার খরচ করেন খাট-এর পেছনে৷

গৃহযু্দ্ধের ‘উপহার’!

২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সোমালিল্যান্ড ছিল গৃহযুদ্ধের কবলে৷ গৃহযুদ্ধ শেষে ভয়াবহ রূপে দেখা দেয় অর্থনৈতিক সংকট৷ নারীরা উপার্জনের কোনো পথ পাচ্ছিলেন না৷ খাট ব্যবসা সহজ, বেশি পুঁজিরও প্রয়োজন হয় না বলে অসংখ্য নারী চলে আসেন এই ব্যবসায়৷ এখন খাট-আসক্ত নারীও বাড়ছে৷ সোমালিল্যান্ডের ২০ ভাগ নারী এখন খাট-এ আসক্ত৷ নারীরা অবশ্য নেশা করেন গোপনে৷

‘খাট এক্সপ্রেস’

ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলে উৎপাদিত হয় খাট৷ সেখান থেকে ট্রাকে করে নিয়ে আসা হয় সোমালিল্যান্ডে৷ নতুন ঠিকানায় খাট আশ্রয় নেয় বিশেষ নাম্বারে চিহ্নিত কোনো দোকানে৷ ক্রেতাদের সুবিধার্থে প্রতিটি দোকানের সামনেই লেখা হয় শনাক্তকরণ নম্বর৷

রাজস্ব আয়ের উৎস

সোমালিল্যান্ডের অর্থনীতিতেও অবদান রাখছে খাট৷ অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী গত অর্থবছরে সোমালিল্যান্ডের ১৫২ মিলিয়ন ডলারের বার্ষিক বাজেটের ২০ শতাংশই এসেছিল খাট খাত থেকে৷ তাতে অবশ্য নেশাদ্রব্য নিয়ে সমালোচনা থামেনি৷ পরিবার ও সমাজ জীবনে নেশাদ্রব্য এবং নেশাগ্রস্তদের কুপ্রভাব নিয়ে অনেকেই চিন্তিত৷

পুরুষ নেশা করছে, খেটে মরছে নারী

খাট-এর কারণে অনেক পরিবারই ভুগছে৷ নেশাগ্রস্ত পুরুষরা ঘরেই কাটাচ্ছে সময়, অন্যদিকে সংসার চালানোর দায়িত্ব এককভাবে পালন করতে গিয়ে খেটে মরছে মেয়েরা৷ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফাতিমা সাঈদ জানালেন, ‘‘পুরুষরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে বসে (খাট) চুষে৷ এর আসক্তি খুব ভয়ংকর৷ খাটের কারণে দৃষ্টিভ্রম, অনিদ্রা, ক্ষুধামন্দাসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে৷’’

নেশাগ্রস্তদের ‘সাফাই’

আসক্তরা খাট-এর পক্ষে সবসময়ই সোচ্চার৷ তাঁরা মনে করেন, এই নেশার উপকারই বেশি৷ আব্দুল মনে করেন, খাট মানুষকে একতাবদ্ধ করে এবং খাট সেবনের সময় সবার মধ্যে সুখ-দুঃখের কথা হয়৷ যাঁরা নেশা করছেন তাঁরা তো চাইবেনই না, খাট সেবন বন্ধ হোক, ইথিওপিয়াও তা কখনো চাইবেনা৷ সোমালিল্যান্ডে বছরে ৫২৪ মিলিয়ন ডলারের খাট বিক্রি করে ইথিওপিয়া৷ খাট বন্ধ হলে আয়টাও যে বন্ধ হবে!

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম

উপরে