আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৮:৫১

ক্লান্তি, দিলাম তোমায় ছুটি

বিডিটাইমস ডেস্ক
ক্লান্তি, দিলাম তোমায় ছুটি

সারাদিনের কাজের চাপ মনে করেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন এমন মানুষের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। অফিসে ঢুকে সকালের কাজগুলো করেই শরীর-মন কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করে যেন। দুপুরে খাবারের পর নেমে আসতে চায় ঘুম। আর বছরের এই সময়টায় আবহাওয়া শুষ্ক থাকার ফলে শরীর ডিহাইড্রেট হয়ে আরো ক্লান্ত হয়ে যায়। ফলে সারাদিনের কাজেও মনোযোগে ঘাটতি হয়। আবার এই ক্লান্তির কারণেই দেখা দিতে পারে ডায়বেটিস, থায়রয়েড, আর্থারাইটিস এমনকি হার্টের সমস্যাও। জেনে নিন কীভাবে কাটিয়ে উঠতে পারেন ক্লান্তির ভাব।

* নিঃশ্বাসে ক্লান্তি দুর: শ্বাস-প্রশ্বাসে মনোযোগী খুব কম সময়েই আমরা। অনেকক্ষেত্রে খেয়াল করি না স্বাভাবিকভাবে যখন আমরা নিঃশ্বাস নিই, তখন তা পরিপূর্ণভাবে নিঃশ্বাস নেয়া হয় না। এতে করে আমাদের দেহে অক্সিজেন সঠিক পরিমাণে পৌঁছায় না। ফলে দেহে ভর করে ক্লান্তি স্বাভাবিকের চাইতে অনেক বেশি। তাই খুব বেশি ক্লান্ত লাগলে বড় বড় করে নিঃশ্বাস নিতে থাকুন। দেখুন কত তাড়াতাড়ি ক্লান্তি আপনাকে বিষাদবদনে টা টা জানাচ্ছে।

* হোক পানি পান: পানির নানা উপকারিতা আছে আমাদের শরীরে। শরীর-মন সতেজ রাখতে পানির ভূমিকা অন্যতম। ক্লান্তি ভর করলে এক গ্লাস পানি পান করুন। যখন আমাদের দেহে পানির অভাব হয় অর্থাৎ আমরা ডিহাইড্রেশনে ভুগী তখন অনেক বেশি ক্লান্ত হয়ে পড়ে শরীর। তাই ক্লান্তিভাব দূর করতে এক গ্লাস পানি পান করে নিন। এতে করে দেহের পানিশূন্যতা দূর হবে, সেই সঙ্গে ক্লান্তিও।

* একভাবে বসে থাকা নয়: অনেকসময় দেখা যায় অফিসের চেয়ারটাতেই সারাক্ষণ সপে দেই নিজেকে। এটা একদম ঠিক নয়। এতে করে ক্লান্তি মাথা-ঘাড় দুটোতেই চেপে বসবে। চেয়ারে দীর্ঘক্ষণ বসে না থেকে উঠে হাঁটাহাঁটি করে নিন। এক জায়গায় অনেকক্ষণ বসে একঘেয়ে কাজ করতে থাকলে দেহে অনেক বেশি ক্লান্তি এসে ভর করে। এর থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হচ্ছে একঘেয়েমি কাটানো। আর সেকারণেই উঠে খানিকক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে নিন। দেখবেন, ক্লান্তি দূর হয়ে গিয়েছে অনেকাংশেই।

* হারিয়ে যান গানের মাঝে: গান শুনুন। কাজের ফাকে পছন্দের শিল্পীর গান বেছে নিন। অনেকে ভাবতে পারেন গান শোনার সঙ্গে দেহের ক্লান্তির কী সম্পর্ক! কিন্তু আমাদের আশেপাশের পরিবেশ যখন অনেক বেশি নীরব থাকে তা আমাদের মস্তিষ্ককে খুব দ্রুত বোর করে ফেলে, এতে করেও মস্তিষ্ক আমাদের দেহে সিগন্যাল দেয় আমরা ক্লান্ত। এই ক্লান্তি দূর করতে একটু উঁচু বিটে গান শুনুন। দেখবেন ক্লান্তি কেটে যাচ্ছে।

* হাসতে নেই মানা: হাসি-আনন্দের ছোট্ট খোরাক কর্মচঞ্চল করে দিবে আপনাকে। সহকর্মীর সঙ্গে টুকটাক গল্প, একটু আড্ডা দিতে পারেন ইচ্ছে করলেই। এমনও হতে পারে কাজের ফাঁকে হাসির কিছু দেখে একটু হেসে নিন। আমরা যখন উচ্চস্বরে প্রাণখুলে হাসি তখন আমাদের মস্তিষ্কে এনডোরফিনের মাত্রা বাড়ে যা আমাদের মধ্যে ভালো লাগার সৃষ্টি করে। এই অনুভূতি দেহের ক্লান্তিও দূর করে দেয় নিমেষেই। বিশ্বাস হচ্ছে না? তাহলে হুল্লোড় হেসে একটু চমকে দিন তো আপনার পাশের সহকর্মীকে। তিনিও আনন্দ পাবেন, হাসির কারণে ক্লান্তি ভাব কেটে যাবে আপনারও অনেকখানি।

* একবেলা দু-মুঠো বাদাম: ভাবছেন ক্লান্তির সঙ্গে বাদামের কী সম্পর্ক? সম্পর্ক আছে। অনেক খাবার আপনাকে খুব সহজেই ক্লান্ত হতে দিবে না। বাদাম তার মধ্যে একটি। বাদাম খান। বাদাম হলো এনার্জির অনেক সহজলভ্য এবং স্বাস্থ্যকর উৎস। হাতের কাছেই রাখুন বাদাম, যখনই অনেক বেশি ক্লান্তি অনুভব করবেন বাদাম খেতে পারেন। ক্লান্তি তো ভর করতেই পারবে না, ফুরফুরে মনের আপনাকে দেখে কর্মক্ষেত্রের পরিবেশও দেখবেন কতটা ইতিবাচক হয়ে উঠেছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম

উপরে