আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৫:০৮

কে ছিলেন “সেন্ট ভ্যালেন্টাইন”?

বিডিটাইমস ডেস্ক
কে ছিলেন “সেন্ট ভ্যালেন্টাইন”?

অনেককাল আগের কথা। তখন রোমান রাজত্ব পৃথিবীর বুকজুড়ে। তৃতীয় শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়। সম্রাট ক্লডিয়াস সিংহাসনে রাজ করছেন তখন। খুব জাঁদরেল রাজা। কেউ তাঁকে সহ্য করতে পারে না। বিরাট এক সৈন্যবাহিনী গড়ে তুলবেন বলে পণ করেছেন। কিন্তু রাজ্যের যুবককূল সেই দলে যোগদান করতে নারাজ। পরিবার, প্রিয়তমাকে ছেড়ে যুদ্ধক্ষেত্রে অকালে প্রাণ ত্যাগ করতে চায় না কেউই।

কিন্তু রাজা নাছোড়। প্রজাদের উদ্ধত্যে তিনি অস্থির। ঠিক করলেন প্রেম, ভালোবাসা, পিছুটানকে রাজ্যে ঠাঁই দেবেন না আর। জারি হল নিষেধাজ্ঞা। ক্লডিয়াসের রাজ্যে হবে না কোনও বিয়ে।

এই আইনে খেপে গেল প্রজাগণ। ক্ষুব্ধ হলেন রাজপুরোহিত সেন্ট ভ্যালেন্টাইন। ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিতেই ছিল তাঁর যত উৎসাহ! রাজ আইনকে ফাঁকি দিয়ে তিনি লুকিয়ে বিয়ে দিতে লাগলেন প্রেমিক-প্রেমিকাদের। একদিন তা ধরা পড়ে গেল রাজার চোখে। রাজপেয়াদারা ভ্যালেন্টাইনকে কারারুদ্ধ করা হলো। শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

শোরগোল মেতে গেলে রাজ্যে। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন কারারুদ্ধ হওয়ার পর প্রেমাসক্ত যুবক-যুবতীদের অনেকেই প্রতিদিন তাকে কারাগারে দেখতে আসত এবং ফুল উপহার দিত। তারা বিভিন্ন উদ্দীপনামূলক কথা বলে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে উদ্দীপ্ত রাখত। বন্দি ভ্যালেন্টাইনকে তারা ছুড়ে দিত ফুল। পেয়াদার চোখ রাঙানিকে বুঝিয়ে দিত, প্রেম হার মানতে শেখেনি। ভ্যালেন্টাইন একা নন। সেই দলে ছিল এক মেয়েও। মূখ্য পেয়াদার একমাত্র মেয়ে।

সে প্রতিদিন ভ্যালেন্টাইনের সঙ্গে গারদে বসে গল্প করত। মনে সাহস জোগাত ভ্যালেন্টাইনের। মারা যাওয়ার দিন ভ্যালেন্টাইন সে মেয়েটিকে একটি ছোটো চিঠি লিখে যায়, “লাভ ফ্রম ইওর ভ্যালেন্টাইন।”

ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় ২৬৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। সেই শুরু। সেদিনটাকে আজও প্রেমের দিবস বলে মেনে নিয়েছে বিশ্ববাসী। প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার এর চেয়ে ভালো দিন কি আর আছে?

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম

উপরে