আপডেট : ২৯ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৯:২১

গৃহশিক্ষকরা বিদ্যা চাষের রাখাল, তাদের সম্মান করতে শিখুন

আব্দুর রাজ্জাক খান, শিক্ষার্থী, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি
গৃহশিক্ষকরা বিদ্যা চাষের রাখাল, তাদের সম্মান করতে শিখুন

বহুযুগ ধরেই অন্যের বাচ্চার ভবিষ্যত গড়ে দিচ্ছে এ শহরের কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। তাদের নাম দেওয়া হয়েছে গৃহশিক্ষক বা প্রাইভেট টিউটর। নামের সাথে শিক্ষক সংযুক্ত থাকলেও শিক্ষকের সম্মান পাচ্ছেননা তারা। এই প্রাইভেট মাস্টারদের মাস শেষে চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করতে হয় স্টুডেন্টের অভিভাবকদের একটি কথার জন্য। কখন যে বলবেন “এই যে স্যার, নিন আপনার টাকা”। এই টাকার উপরই যে নির্ভর করে অনেকের বাসা ভাড়া কিংবা খাওয়া ও পড়ালেখার খরচ।

ক্লাস টু বা থ্রীর বাচ্চাদের পড়ানো হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র দিয়ে। তারপরও অভিভাবকদের ভাব দেখে মনে হয, মেডিক্যাল বা ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়ুয়া মাস্টার হলেই ভাল হত। অভিভাবক শ্রেণীর ধারনা যত বেশি গৃহশিক্ষক কিংবা কোচিং ততই বেশী ব্রিলিয়ান্ট হবে তাদের সন্তান। সব পড়া মুখস্ত করিয়ে দেবে শিক্ষক। এরপর কি আর ভালো ফল ছাড়া কোন পথ আছে।

কোন কারণে পরীক্ষার ফল খারাপ তো শিক্ষকের চাকরি নট। অভিভাবকরা একবারও হয়ত ভেবে দেখেন না কতটুকু জ্ঞান আছে তাদের সন্তানের।কিছু কিছু অভিভাবক তো মনে করেন গৃহ শিক্ষক মানে তাদের কর্মচারি। যখন যা বলবে তাই করতে হবে। এরা আসলে কী ভাবেন একজন গৃহশিক্ষককে। তবে কি সত্যিই ভাবেন যে গৃহশিক্ষক আপনার বাড়ির চাকর?

সম্মানিত এই জাতীয় অভিভাবকদের বলছি, এই গৃহশিক্ষকরাই আপনাদের সন্তানের বিদ্যাচাষের রাখাল। তাদের যত্নে সুন্দর করে গড়ে উঠছে লক্ষ সন্তানের ভবিষ্যৎ। তাদের সম্মান দিন আর না দিন খারাপ ব্যবহারটা করবেন না। তাদের মাসের টাকাটা ঠিকমত দিন। আপনার টাকায় তারও স্বপ্ন বেঁচে থাকে, থাকে ভালভাবে বাঁচার আশা।

 

 

উপরে