আপডেট : ২৫ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৯:২৮

বউয়ের প্রতি স্বামীর ভালোবাসা বাড়ানোর টনিক!

মির্জা শ্রাবন
বউয়ের প্রতি স্বামীর ভালোবাসা বাড়ানোর টনিক!

প্রতিটি মানুষ স্বতন্ত্র। প্রতিটি মানুষের পছন্দ, রুচিবোধ, চাহিদা, ভালোলাগা আলাদা। এ রকম দুটি আলাদা মানুষ একসঙ্গে ঘর বাধে। সংসার করে। তাই দুজনের পারস্পরিক বোঝাপাড়া হতে হবে চমৎকার। তবেই না বিবাহিত জীবনের রসায়ন জমবে। হাসি-খুশিতে কাটবে দাম্পত্য জীবন। তবে সেজন্য কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে দুজনকেই। জয় করে নিতে হবে সঙ্গীর মন। স্ত্রী হিসেবে যে পাঁচটি কাজ করলে অনায়াসেই সঙ্গীর ভালো লাগবে, বউয়ের প্রতি বেড়ে যাবে স্বামীর ভালোবাসা-

বিনোদনমূলক সহচার্য্য

সংসার মানেই একটি নির্দিষ্ট গন্ডি বা সীমাবদ্ধ জীবন-এর ভাবনাকে ভেঙে ফেলতে হবে। এখানে প্রতিদিন নতুন করে নিজেদের সাজাতে হবে। স্ত্রী হিসেবে শুধু প্রয়োজনীয় কথাবার্তা বা কাজকর্মে নিজেকে আবদ্ধ রাখবেন না। বরং হয়ে উঠুন স্বামীর বিনোদনের অবলম্বন। আপনার সহচার্য্যে এলেই যেন সারাদিনের ক্লান্তি বা অফিসের চাপ ভুলে আনন্দ ঘিরে রাখে সঙ্গীকে। এতে পারস্পারিক সম্পর্ক মজবুত হয়। এজন্য আপনি তার পছন্দের কোন কিছু উপহার দিতে পারেন, সুখকর বা মজার কোনো বিষয়ে গল্প করতে পারেন অথবা এক কাপ কফি বানিয়ে তার হাত ধরে কিছুটা সময় পার করে দিতে পারেন।

সুখময় যৌনজীবন

আমাদের দেশে যৌনতা বিষয় অনেকটা নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে কথা বলাটা যেন অপরাধ। আর এ কারণে যুগলদের যৌনশিক্ষা বিষয়ে তেমন ধারণা থাকে না। আর এটাই অনেক সময় সম্পর্কের ফাটল ধরায়। সুস্থ ও সুখময় যৌনজীবন সুখী সংসারের পূর্বশর্ত। এ সমস্যা এড়াতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলুন স্বামীর সঙ্গে। মনে রাখবেন, স্বামী-স্ত্রী দুজনের বোঝাপাড়া যতো ভালো হবে, যৌনজীবন ততো মধুর হবে। আর এ দায়িত্ব কেবল আপনার স্বামীর নয়, এখানে আপনাকেও এগিয়ে আসতে হবে। নিজের ভালোলাগা, ভালোবাসা প্রকাশ করতে হবে। আপনার একটা আলিঙ্গন বা একটি মিষ্টি হাসি একরাশ সুখ ছড়িয়ে দিতে পারে স্বামীর মনে। ভাসতে পারে আনন্দ ভেলায়। আর সে ভেলার যাত্রী কিন্তু আপনিই।

প্রশংসা

প্রশংসা শুনতে সবাই পছন্দ করে। একে অন্যকে প্রশংসা একটি সুস্থ, সুন্দর পারিবারিক জীবনের জন্য টনিক হিসেবে কাজ করে। স্বামীর কোনো কিছু ভালো লেগে গেলে অবশ্যই মুগ্ধতা প্রকাশ করবেন। এতে স্বামী পরবর্তীতে কাজটি করতে উৎসাহ পাবে। এমনকে স্বামীর কোনো নেতিবাচক স্বভাব পরিবর্তন করতে অভিযোগ না করে প্রশংসা করুন অথবা ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করুন। এটা বেশি কাজ করবে।

সাংসারিক সহযোগিতা

সংসারের কাজ দুজনকেই ভাগাভাগি করে করা উচিত। এতে একজনের উপর চাপ কমে যায়। তার জন্য একটু প্রশান্তি মেলে। ফলে সময় থাকলে বাজারের কাজটি স্বামীকে না বলে আপনিই করে ফেলুন। অথবা কাপড়গুলো লন্ড্রিতে পাঠিয়ে দিতে পারেন। বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে আসার কাজটি অথবা বাচ্চার বাড়ির কাজ তৈরিতে স্বামীর সহযোগিতা না চেয়ে নিজেই সেরে ফেলুন।

আকর্ষণীয় স্ত্রী

আপনার বিয়ে হয়েছে পাঁচ বছর, এখন আর স্বামীর কাছে নিজেকে উপস্থাপনের কি আছে! ভাবনাটি ভুল। মাথা থেকে আজই ফেলে দিন এ সনাতন ভাবনা। নিজেকে সবসময় স্বামীর কাছে আকর্ষণীয় হিসেবে উপস্থাপন করুন। যতই কাজ থাকুক, সব সময় পরিপাটি থাকার চেষ্টা করুন। যাতে আপনাকে দেখেই স্বামীর মধ্যে এক ধরনের মুগ্ধতা কাজ করে। আপনাকে দেখে যেন সেই প্রথম দিনের মতো পুলকিত হয়।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/পিএম

উপরে