আপডেট : ৪ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৪:৩২

সমাবেশ করার অনুমতি পেল বিএনপি ও আ’লীগ

বিডিটাইমস ডেস্ক
সমাবেশ করার অনুমতি পেল বিএনপি ও আ’লীগ

বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আ. লীগ ও নয়া পল্টনে বিএনপিকে সমাবেশ করার ছাড়পত্র দিয়েছে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন।

একই দিনে দুই দলের পাল্টা-পাল্টি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির শঙ্কার মধ্যেই সিটি করপোরেশনের এই ছাড়পত্র এলো।

দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন সোমবার দুপুরে নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “বিএনপিকে নয়া পল্টনে তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে হবে। আর আওয়ামী লীগ করবে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ দলীয় কার্যালয়ের সামনে।”

মেয়র জানান, ঢাকা শহরে সড়কে সমাবেশের অনুমতি দেয় সিটি করপোরেশন। আর মাইক ব্যাবহারের অনুমতি নিতে হয় মহানগর পুলিশের কাছ থেকে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে মুক্তাঙ্গনকে এ ধরনের রাজনেতিক সমাবেশের ‘ভেন্যু’ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে বলেও মত দেন তিনি।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ওই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। বিএনপি ভোটে না থাকায় অর্ধেকের বেশি আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়। 

গতবছর নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে দুই দল একই দিনে কর্মসূচি দিলে তৈরি হয় উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত ঢাকা মহানগরে সব ধরনের মিছিল, সভা, সমাবেশ ও জমায়েত নিষিদ্ধ করে মহানগর পুলিশ।

কর্মসূচি পালন করতে না পেরে  টানা অবরোধের ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।  পরে তার সঙ্গে যোগ হয়  হরতাল। সারা দেশে টানা এই কর্মসূচির মধ্যে নজিরবিহীন নাশকতা ও সহিংসতায় দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়।   

নির্বাচনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে বিএনপি ৫ জানুয়ারিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার জন্য গত শনিবার মহানগর পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের অনুমতি চায়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির ঘোষণা আসে। দিনটি ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ হিসেবে উদযাপনের জন্য সোহরাওয়ার্দী ছাড়াও ঢাকার ১৭টি স্থানে একযোগে সমাবেশ করার ঘোষণা দেয় ক্ষমতাসীন দলটি।

নতুন করে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কার মধ্যে ঢাকার পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া রোববার সাংবাদিকদের বলেন, পরস্পরবিরোধী সমাবেশে সাংঘর্ষিক কর্মসূচির কারণে জননিরপত্তার ঝূঁকি দেখতে পেলে তারা কাউকেই কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেবেন না।

তিনি জানান, সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি সৃষ্টির ঝুঁকি আছে কি না তা জানতে রমনার উপ কমিশনার এবং পল্টনের ওসির কাছে প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। তাদের মতামত পেলেই পুলিশের পক্ষ থেকে দুই দলকে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।

এরপর রোববার বিকালে বিএনপির পক্ষ থেকে আরেকটি আবেদন করে বলা হয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে না পেলে তারা নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে চায়।  

সোমবার সিটি করপোরেশন দুই দলকেই অনুমতি দেওয়ার পর এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (গণমাধ্যম)  মো. মারুফ হোসেন সরদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। শর্ত সাপেক্ষে অনুমতি দেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, রমনার উপ কমিশনার এবং পল্টনের ওসির প্রতিবেদন পেলেই সন্ধ্যায় অনুমতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/পিএম

উপরে