আপডেট : ৩ জানুয়ারী, ২০১৬ ২০:৩০

সব নিয়ে লাপাত্তা ‘রসিক’ চোর

ঘর থেকে খোয়া গেছে নগদ টাকা ও গয়না-সহ প্রায় ১৫ লক্ষাধিক মূল্যের সামগ্রী। তবে চোরেরা সব কিছু লুট করলেও রেখে গিয়েছে দু’টি ৫০ টাকার নোট!
বিডিটাইমস ডেস্ক
সব নিয়ে লাপাত্তা ‘রসিক’ চোর

বিছানায় পড়ে মাত্র দু’টি ৫০ টাকার নোট। আর ঘর থেকে গায়েব কয়েক লক্ষের টাকা-গয়না। রবিবার এমন কাণ্ড ঘটেছে মধ্য হাওড়ার ঘোষপাড়ায়। তবে মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে চোরেরা চম্পট দিলেও রেখে গিয়েছে ১০০ টাকা। যদিও এমন ‘রসিক’ চোরের ‘সৌজন্যবোধে’ ধরাশায়ী ঘোষপাড়ার সাঁতরা পরিবার। শহরে নিরাপত্তা নিতে ব্যর্থ বলে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ওই পরিবার-সহ স্থানীয় বাসিন্দারা।

ঠিক কী ঘটেছিল?

গত ২২ ডিসেম্বর গুজরাতে বেড়াতে গিয়েছিলেন মহেন্দ্র ভট্টাচার্য রোডের সাঁতরা পরিবারের গৃহকর্ত্রী নন্দা বন্দ্যোপাধ্যায় সাঁতরা ও তাঁর ছেলে। দিন দশেকের বেশি বাইরে কাটিয়ে এ দিন ভোরে বাড়ি ফিরে দেখেন শোওয়ার ঘর লন্ডভন্ড। খোয়া গিয়েছে বহু মূল্যবান সামগ্রী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, নন্দাদেবীর সঙ্গে যাননি গৃহকর্তা অশোক সাঁতরা। অসুস্থ থাকায় অশোকবাবু এ ক’দিন ছিলেন নন্দাদেবীর বাপের বাড়িতে। ঘটনাস্থল থেকে যার দূরত্ব মাত্র মিনিট দশেকের। ঘটনার সময় পুরো বাড়ি খালিই ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নন্দাদেবী জানিয়েছেন, এ দিন ভোরে বাড়ি ফিরে তিনি দেখেন, সামনের দরজায় যথারীতি তালা লাগানো। দরজার তালা খুলে শোওয়ার ঘরে ঢুকতেই চমকে ওঠেন তিনি। আলমারির সমস্ত জিনিসপত্র নামিয়ে ছড়ানোছেটানো ভাবে পড়ে রয়েছে চারপাশে। গয়না রাখার বাক্স ফাঁকা। জামাকাপড়-সহ ঘরের বাকি জিনিস লন্ডভন্ড।

এ দিন ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই ওই পরিবারের পরিচারিকাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। গত আট মাসে হাওড়ায় প্রায় ন’শো চুরির ঘটনা ঘটেছে। সাঁতরাদের প্রতিবেশী মমি রায় ও স্বান্তনা ভট্টাচার্যদের অভিযোগ, এলাকায় কখনও কোনও দিন এ রকম দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘনবসতিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও চুরির পর আতঙ্কে রয়েছেন তাঁরা।

উপরে