আপডেট : ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০৮:২৫

আজ থেকে নিজ দেশে ফিরছে রোহিঙ্গারা

অনলাইন ডেস্ক
আজ থেকে নিজ দেশে ফিরছে রোহিঙ্গারা

মিয়ানমারের বহুবারের টালবাহানা শেষে অবশেষে প্রত্যাবাসন শুরুর অপেক্ষাতেও উদ্বেগ কাটেনি রোহিঙ্গাদের। নিজ দেশে ফিরে গেলে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কে দেবে- এই প্রশ্নই বড় করে তুলছেন তারা। মিয়ানমার-বাংলাদেশ সমন্বয়ে গঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিপীড়িত এই জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসনে সয প্রস্তুতি শেষ করেছে বাংলাদেশ। আজ বৃহস্পতিবার প্রথম ধাপে মিয়ানমার কিছু রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেবে বলে কথা রয়েছে।

তবে নাগরিকত্ব, বসতভিটা, জমিজমা ফিরিয়ে দিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা না হলে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরতে রাজি নয় রোহিঙ্গারা। আর গোটা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ফলপ্রসূ হবে কি না সেটা নির্ভর করছে মিয়ানমারের সদিচ্ছার ওপর। প্রত্যাবাসন শুরুর আগের দিন টেকনাফের কেরুনতলী ট্রানজিট ক্যাম্প প্রস্তুত করা হয়েছে। অন্যদিকে বান্দরবানের ঘুমধুমে আর একটি ট্রানজিট ক্যাম্প প্রায় সম্পন্নের পথে।

ইতোমধ্যে প্রথম দফায় প্রত্যাবাসন হতে পারে এমন দুই হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গার তালিকা জাতিসংঘের কাছে হস্তান্তর করেছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন।

রোহিঙ্গারা বলছেন, নিজেদের অধিকার ও জীবনের নিশ্চয়তা দিলেই তারা ফিরে যাবে নিজ দেশে। মিয়ানমার তাদের ফিরিয়ে নিয়ে পুনরায় নির্যাতন চালাবে তাদের ভয়। যেসব কারণে নিজ ভূমি ফেলে তারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে, সেগুলো আবার ঘটবে না এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই মিয়ানমারের তরফে। নাগরিকত্ব দিয়েই যেন মিয়ানমার তাদের নিতে বাধ্য হয় সে জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপও চান তারা। 

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম ফলপ্রসূ করার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে প্রশাসন। টেকনাফের কেরুনতলীর নাফ নদীর পাড়ে একটি ট্রানজিট ক্যাম্প প্রস্তুত ও বান্দরবানের ঘুমধুমে স্থলপথে আরও একটি ট্রানজিট ক্যাম্প স্থাপন শেষ হওয়ার পথে বলে জানান শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার এবং জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্য আবুল কালাম।

গত বছরের ২৪ আগস্ট নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লশি চৌকিতে হামলার পর রাখাইনে পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। নিপীড়নের মুখে ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। এর আগে থেকে আশ্রয় নিয়ে আছে প্রায় চার লাখ। মোট ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩০টি ক্যাম্পে অবস্থান করছে। 

বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিভিন্ন সংস্থা তাদের অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, অস্থায়ী বাসস্থানসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ও সসম্মানে স্বদেশে ফেরত পাঠাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে সরকার। 

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ২০১৭ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি হয়। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দুই দেশের সমন্বয়ে গঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভায় একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন। স্মারকের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ মিয়ামারের কাছে আট হাজার রোহিঙ্গার তালিকা পাঠায়। যাচাই-বাছাই শেষে মিয়ানমার ওই তালিকা থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার জনকে প্রত্যাবাসনের ছাড়পত্র দেয়। গত ৩০ অক্টোবর জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভায় প্রথম ধাপে ২ হাজার ২৫১ জন রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন ফেরত নেয়া হবে ১৫০ জন রোহিঙ্গা। 

গত অক্টোবর মাসের ৩০ তারিখ জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভায় মিয়ানমারের পররাষ্ট্রসচিব মিন থোয়ের কাছে আরও পাঁচ হাজারের বেশি পরিবারের ২২ হাজার রোহিঙ্গার পরিবারভিত্তিক তালিকা হস্তান্তর করা হয়। এর পরের দিন ৩১ অক্টোবর কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন তিনি।

পরিদর্শন শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রত্যাবাসনের পর রোহিঙ্গাদের প্রথমে মংডু শহরে স্থাপিত আইডিপি ক্যাম্পে নেয়া হবে। এরপর নিজেদের গ্রামে ফেরত যেতে পারবে। মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ফেরত যাওয়া রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ মানবিক বিষয়গুলো নিশ্চিত করারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। চলতি নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও নিশ্চিত করেন তিনি।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল

উপরে