আপডেট : ১২ নভেম্বর, ২০১৮ ১৯:৫৬

‘ভোট কারচুপি হবে কিভাবে?’

অনলাইন ডেস্ক
‘ভোট কারচুপি হবে কিভাবে?’

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) চলছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রদর্শনী। এখানেই দেখানো হচ্ছে, ইভিএম-এ কিভাবে ভোট দিতে হয়। দর্শনার্থীরা হাতে-কলমে বুঝে নিচ্ছেন সব প্রক্রিয়া। এর মধ্যে দর্শনার্থীরা সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি করছেন- ‘ভোট কারচুপি হবে কিভাবে’।

ভোটারের আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গার প্রিন্ট) অথবা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ছবি দেখা যাবে কম্পিউটারে। কাজেই একজনের ভোট অন্য জন দেওয়ার সুযোগ নেই। একজন একবার ভোট দিয়ে গেলে কম্পিউটারে সেই তথ্য থেকে যায়। জালিয়াতি করার চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়ে যাবে।

কলাবাগান থেকে প্রদর্শনী দেখতে এসেছেন কাজী মাহবুব। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। বলেন, গণমাধ্যমে যখন জানতে পারলাম ইভিএম প্রদর্শনী হবে। জানা যাবে ইভিএম’এ ভোট দেওয়ার নিয়ম। তখনই এখানে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আঙুলের ছাপ দিতেই আমার নাম, পরিচয়, বয়স, ঠিকানা ও এনআইডি নাম্বার কম্পিউটার স্ক্রিনে চলে এলো। আমি ভোটও দিলাম। পরে আবার যখন ভোট দেওয়ার চেষ্টা করলাম, তখন স্ক্রিনে দেখালো ‘আপনার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে’।

কাজী মাহবুব বলেন, এতদিন বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বলেছেন, ইভিএম’এ ভোট কারচুপি হবে। কিন্তু আমি ভোট দেওয়ার সময় কোনো অসঙ্গতি দেখলাম না। আবার আঙুলের ছাপ দিতেই আমার সব তথ্য চলে এলো, পছন্দের মার্কার ওপর চাপ দিলাম- ভোট দেয়া হয়ে গেল। ইভিএম জটিল মনে হয়নি আমার।

একই কথা বললেন মতিঝিলের টিঅ্যান্ডটি কলোনি থেকে আসা আরেক দর্শনার্থী মুহিত খন্দকার। তিনি বলেন, জটিলতার তেমন কোনো কিছুই দেখিনি। আমার আইডি কার্ড আনিনি, কিন্তু আঙুলের ছাপ দেওয়ার পর দেখলাম ভোট দেওয়ার সব প্রসেস কমপ্লিট। কারচুপি সম্ভব কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে। যেখানে ভোট দেওয়া হবে সেখানে চুরির সুযোগ নেই। তবে উপরের কর্মকর্তাদের দ্বারা সম্ভব হতে পারে, বলেন তিনি।

মোহাম্মদপুর থেকে আসা দর্শনার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার কৌতূহল ছিল যারা প্রতিবন্ধী, চোখে দেখেন না- তারা কিভাবে ইভিএমে ভোট দেবেন? এ বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলাম, বলা হলো প্রতিবন্ধীদের জন্য সাউন্ড সিস্টেম রাখা হয়েছে। যেটা শুনে তারা ভোট দিতে পারবেন। আঙুলের ছাপ দিতে না পারলে এনআইডি কার্ডের নাম্বার জানাবেন।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শাহিনুর মিয়া বলেন, প্রদর্শনীতে আসা দর্শনার্থীদের অনেকেই প্রশ্ন করেছেন এনআইডি কার্ড হারিয়ে গেলে বা সঙ্গে আনতে ভুলে গেলে ভোটার কি করবে। আমরা আঙুলের ছাপ নিয়ে দেখিয়ে দিয়েছি কিভাবে ভোটার শনাক্ত করা যাবে।

এদিন বিকেল ৩টা থেকে শুরু হওয়া ইভিএম প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীদের জন্য খোলা হয়েছে ২০টি বুথ। যেখানে রয়েছে ৪০টি ইভিএম। এগুলো পরিচালনার জন্য রয়েছে প্রায় ৬০জন কর্মী।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে