আপডেট : ৯ অক্টোবর, ২০১৮ ২০:০৮

শেখ হাসিনা যেভাবে বেঁচে যান

অনলাইন ডেস্ক
শেখ হাসিনা যেভাবে বেঁচে যান

২০০৪ সালের ২১ আগস্টের ভয়াল সেই হামলায় মূল টার্গেট ছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে নেতাকর্মীদের মানবঢালে প্রাণে বেঁচে যান তিনি।

সেদিনের ওই নির্মম দৃশ্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে সেসময় একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন বিকেল ৪টার দিকে শুরু হয় আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের বক্তব্য দেয়ার পালা। দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা তখনও মঞ্চে পৌঁছাননি। দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা শেখ হাসিনার বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় ছিলেন।

ঘটনার পর আন্তর্জাতিক এক গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু বলেন, ‘নেত্রীর বক্তব্য শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ করে বিকট শব্দ শুনলাম। প্রথমে ঠিক বুঝতে পারলাম না, এদিক-ওদিক তাকালাম। তখন চারপাশে চিৎকার শুনতে পেলাম।’ 

ঘটনাস্থলে উপস্থিত আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, যখন গ্রেনেড হামলা শুরু হলো, তখন মঞ্চে বসা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা শেখ হাসিনার চারপাশে ঘিরে মানবঢাল তৈরি করেন- যাতে তার শরীরে কোনো আঘাত না লাগে। যেসব নেতা শেখ হাসিনাকে ঘিরে মানবঢাল তৈরি করেছিলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন ঢাকার সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফ। তখন মাথায় গ্রেনেডের স্প্লিন্টার বিদ্ধ হন হানিফ। 

ঘটনার পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদন বলা হয়, সে সময়কার ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ফুটেজ ও মানবসৃষ্ট সেই কর্ডনটি তৈরি করেছিলেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা, বর্তমান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সেলিম, তৎকালীন মেয়র ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ।

গ্রেনেড হামলার পর এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নেতাকর্মীরা জীবন দিয়ে আমার জীবন রক্ষা করেছিলেন। আমার নেতাকর্মীরা সবাই আমাকে এমনভাবে ঘিরে রেখেছিল যে অনেকেই ইনজুরড (আহত) হন। তাদের রক্ত এখনও আমার কাপড়ে লেগে আছে। আমার নেতাকর্মীরা তাদের জীবন দিয়ে আমাকে বাঁচিয়েছে।’

গ্রেনেড হামলার দিন আওয়ামী লীগের ওই সমাবেশের খবর সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন বিবিসি বাংলার তৎকালীন সংবাদদাতা হাসান মাসুদ। ঘটনার ভয়াবহতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি প্রথম যে দৃশ্যটা সেখানে দেখেছিলাম, সেটি ছিল আইভি রহমানের। আমি ওনাকে দেখে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। উনি বসা, চোখ দুটো খোলা, নির্বাক। ঠিক মঞ্চের সামনে দুপাশে দুজন লোক তাকে ধরে রেখেছে।’

‘আইভী রহমানকে দেখে আমি ঘটনার ভয়াবহতা বুঝে গেলাম। মঞ্চের চারপাশে প্রচুর স্যান্ডেল-জুতা পড়ে ছিল। প্রচুর নিহত ও আহত মানুষ ছিল চারপাশে। কারও হাত নেই, কারও পা নেই।’ 

ওই সমাবেশে তখন উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বর্তমানে শিল্পমন্ত্রী আমির হেসেন আমু।

২০১১ সালে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আমির হোসেন আমু বলেন, ‘নেত্রীর বক্তব্য শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ করে বিকট শব্দ শুনলাম। প্রথমে আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না, এদিক-ওদিক তাকালাম। তখন চারপাশে চিৎকার শুনতে পেলাম।’ 

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের মহাসমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনাটি ঘটে। ওই ঘটনায় মতিঝিল থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে করা দুই মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামীকাল (১০ অক্টোবর) দিন ধার্য করা হয়েছে। ভয়াবহ এ হামলায় ২৪ জন নিহত হন। আহত হন অনেকে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল

উপরে