আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১০:৩৬

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর তিন প্রস্তাব

অনলাইন ডেস্ক
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর তিন প্রস্তাব

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বনেতাদের সামনে তিনটি প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের প্রধান সদর দফতরে ‘বৈশ্বিক শরণার্থী বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক: বৃহত্তর সার্বভৌমত্ব ও সহযোগিতার একটি মডেল’ শীর্ষক  বক্তব্যে  এই প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। প্রস্তাবগুলো হলো: 

১. মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আইন, নীতি ও পদ্ধতি বাতিল এবং বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ করতে হবে। এছাড়া রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক স্থানান্তরিত করার প্রকৃত কারণগুলো উদঘাটন ও সময়মত প্রকাশ করতে হবে।

২. মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের নাগরিক সুরক্ষা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি ‘সেইফ জোন (নিরাপদ অঞ্চল)’ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

৩. জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের সুপারিশের আলোকে মিয়ানমারকে জবাবদিহিতা এবং বিচারের আওতায় এনে রোহিঙ্গাদের নৃশংসতার হাত থেকে বাঁচাতে হবে।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেজের উপস্থিতিতে জাতিসংঘের সদর দফতরে জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক হাইকমিশনার ‘বৈশ্বিক শরণার্থী বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক: বৃহত্তর সার্বভৌমত্ব ও সহযোগিতার একটি মডেল’ বৈঠকের আয়োজন করে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে যাচ্ছি, যা আমাদের জন্য মারাত্মক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা তাদের জন্য ৬ হাজার একরের বেশি জমি বরাদ্দ দিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক ও অন্যান্য সম্পদ, সমাজ, পরিবেশ ও অর্থনীতি আন্তর্জাতিক অংশীদার, বিশেষ করে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো সাহায্য দিয়ে আসছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মিয়ানমার সরকারই তৈরি করেছে এবং মিয়ানমারকে এর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। তিনি বলেন, ‘দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে আমরা মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য আমরা আমাদের সীমান্ত খুলে দিয়েছি। এটা করে আমরা শুধু তাদের জীবন রক্ষা করিনি বরং আমরা আমাদের সীমান্ত সুরক্ষিত করে পুরো অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছি।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ও নিরাপত্তা এবং মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে স্থায়ীভাবে ফেরত নেয়া দেখতে চায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ফেরত না নেয়া পর্যন্ত আমরা তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা ভাষানচর নামক একটি দ্বীপের ব্যাপক উন্নয়ন করে রোহিঙ্গাদের সেখানে স্থানান্তর করবো, যাতে তারা ওই দ্বীপে উন্নত জীবনযাপন ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারে।’
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কম্প্যাক্ট অন রিফিউজি’ এমন সময় গ্রহণ করা হলো যখন সারা বিশ্ব মারাত্মক শরণার্থী সংকট মোকাবেলা করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে সব দেশ শরণার্থীদের বোঝা কাঁধে নেয় বিশ্বের উচিত তাদের এ অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে অবশ্যই রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, শরণার্থী সংকট সমাধানে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্থায়ীভাবে ফেরত নেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগে স্থানীয় সময় গত রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের ৭৩তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে লন্ডন হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক পৌঁছান। জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে আগামীকাল ২৬ সেপ্টেম্বর জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণ পরিষদের জেনারেল ডিবেট অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেবেন।

উপরে