আপডেট : ১৬ জুলাই, ২০১৮ ১২:২৯

শেখ হাসিনার কারাবন্দী দিবস আজ

অনলাইন ডেস্ক
শেখ হাসিনার কারাবন্দী দিবস আজ

আজ ১৬ জুলাই। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার কারাবন্দী দিবস। কথিত এক দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে দুর্নীতির মিথ্যা মামলায় ২০০৭ সালের এই দিনে তৎকালীন অগণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে গ্রেপ্তার হন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকেই অবরুদ্ধ করে ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দীনের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধয়াক সরকার। শেখ হাসিনার গ্রেপ্তার ছিল জনগণের কণ্ঠস্বর রোধ করে দেওয়ার, জনগণের অধিকার হরণের এক প্রক্রিয়া।

তবে আওয়ামী লীগ সভাপতির এই ন্যাক্কারজনক গ্রেপ্তারের ঘটনা ছিল জনগণের অধিকার হরণের প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ। এর শুরুটা হয় ২০০১ সালের ১ অক্টোবর, যখন প্রহসনের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে। বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পরপরই দেশে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিএনপি নেতাকর্মীরা দেশব্যাপী হত্যা, লুণ্ঠন, লুটতরাজ, নিপীড়নের নারকীয় উৎসব শুরু করে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় নাভিশ্বাস ওঠে জনগণের। এক স্বপ্নহীন, নৈরাশ্যের যুগের সূচনা হয় দেশে। বিএনপি সরকার দেশকে একটি জঙ্গি রাষ্ট্র, একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফেলে। সে সময়ই বাংলা ভাইয়ের মতো জঙ্গির উত্থান হয়। নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে আহসানউল্লাহ মাস্টার, শাহ এম এস কিবরিয়ার মতো আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতাদের জঙ্গি স্টাইলে হামলা করে হত্যা করে তাঁরা। কিন্তু যতদিন জনগণের কণ্ঠস্বর, গণতন্ত্রের প্রতীক শেখ হাসিনা বাংলাদেশে থাকবেন ততদিন দেশকে পাকিস্তান বানানোর স্বপ্ন ও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বপ্ন  সফল হবে না বুঝতে পেরে বিএনপি-জামাত গণতন্ত্রের সুরক্ষা কবচ শেখ হাসিনাকে হত্যার নীল নকশা তৈরি করে। এ উদ্দেশ্যে তারা ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগের এক জনসভায় গ্রেনেড হামলা করে। এ হামলায় ২৪ জন নিহত হন যাদের মধ্যে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানে স্ত্রী আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নারী নেত্রী মিসেস আইভী রহমানও ছিলেন। তবে সৌভাগ্যজনক ভাবে বেঁচে যান শেখ হাসিনা।

এরপর ২০০৬ সালের ৬ অক্টোবরে অষ্টম জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন তৎকালীন বিএনপি সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে টালবাহানা শুরু করে। দেশে এক অনিশ্চয়তার পরিস্থিতির সূচনা হলে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ সারাদেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন। একই সঙ্গে বিএনপি মনোনীত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. ফখরুদ্দীন আহমদকে প্রধান উপদেষ্টা করে একটি সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়। সে সময়কার সেনাবাহিনীর প্রধান মঈন ইউ আহমেদও ছিলেন বিএনপির  মনোনীত সেনাপ্রধানই। বিএনপির নিজেদের লোকদের ক্ষমতায় বসানোর উদ্দেশ্য ছিল আবার ক্ষমতায় আসার পথ সুগম করা ও শেখ হাসিনাকে রাজনীতিতে কোণঠাসা করে ফেলা।

এই অগণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর একমাত্র শেখ হাসিনাই বারবার দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার কথা বলেছেন। একমাত্র শেখ হাসিনাই গণতন্ত্রের দাবিতে, জনগণের ভোটের অধিকারের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন। ফলে তাঁকে স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের জন্য ঝুঁকি মনে করতে থাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এ কারণেই ক্ষমতায় আসার মাত্র ৬ মাসের মধ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। সেই অন্ধকার ভোরে র‌্যাব, পুলিশ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা শেখ হাসিনার ধানমন্ডির বাসভবন সুধা সদনে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বুটের তলায় পিষ্ট হয় গণতন্ত্র।

গ্রেপ্তার করে শেখ হাসিনাকে নিম্ন আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। নির্দেশ মোতাবেক শেখ হাসিনাকে সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগারে বন্দি রাখা হয়। ওই কারাগারেই মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ ১১ মাস বন্দী থাকেন শেখ হাসিনা। বিশেষ কারাগারের পাশেই সংসদ ভবন চত্বরে অস্থায়ী আদালত স্থাপন করে তাঁর বিচার প্রক্রিয়াও শুরু করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

কিন্তু সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। উত্তাল আন্দোলন ও শেখ হাসিনার প্রতি দেশবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন ও অকৃত্রিম ভালোবাসার কারণে তৎকালীন অগণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। দীর্ঘ ১১ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ১১ জুন সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত বিশেষ কারাগার থেকে মুক্তি পান আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তখন থেকে ১১ জুনকে শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

কারামুক্তির পর প্রথমেই তিনি ভীষণ -২০২১ প্রকাশ করেছেন যা জনগণ সাদরে গ্রহণ করে। ফলে ২০০৮ এর ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত গণতান্ত্রিক নির্বাচনে জনতা নিরঙ্কুশ রায় দেয় শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের পক্ষে। নির্বাচনে এই বিজয় লাভই প্রমাণ করে শেখ হাসিনা জনতার মধ্যে কতটা জনপ্রিয় এবং তাঁকেই মানুষ নিজেদের স্বপ্ন পূরণের জাদুকর হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে স্বাধীন করে দিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু পনেরোই আগস্টে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ায় সুখী, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক চেতনায় সমুন্নত বাংলাদেশ তিনি দেখে যেতে পারেননি। জাতির পিতার এই অসম্পূর্ণ স্বপ্নই এখন পূরণ করে চলেছেন শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতীক। তিনিই গণতন্ত্রের চালিকাশক্তি ও হৃদপিণ্ড। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ওপর থেকে কোনো কারণে যদি শেখ হাসিনার কর্মক্ষম ও স্নেহময় হাত উঠে যায় তবে উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের পথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা মুখ থুবড়ে পড়বে, বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তানে পরিণত করার যে স্বপ্ন এখনো বিএনপি-জামাত দেখে চলেছে তাও বাস্তবে পরিণত হবে।

এ কথা অনস্বীকার্য, শেখ হাসিনাই বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নাম লিখিয়েছে। উন্নয়নের পথে বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রাকে জারি রাখতে হলে শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য খুবই প্রয়োজন। উন্নয়নের যে উদ্দীপনা, যে আশা-আকাঙ্ক্ষা জনগণের মধ্যে শেখ হাসিনা সৃষ্টি করতে পেরেছেন তা টিকিয়ে রাখতে হলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।

বিডিটাই৩৬৫ডটকম/রুমা

উপরে