আপডেট : ১৬ জুন, ২০১৮ ১১:১৭

ঈদের দিনও ছুটি নেই!

অনলাইন ডেস্ক
ঈদের দিনও ছুটি নেই!

আমাদের কাছে ঈদ মানে প্রতিদিনের থেকে একদমই আলাদা। ঈদকে নিয়ে আমাদের আয়োজন, পরিকল্পনার কোনো কমতি থাকেনা, সে যেমন সামর্থই থাকুক না কেন। ধনী বা গরীব, ছোট বা বড় কেউই ঈদের আনন্দ থেকে বাদ যায়না। ঈদের অন্যতম বড় একটি রীতি হলো পরিবারের সবার সঙ্গে মিলে ঈদ করা, ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করে নেওয়া। আর এজন্য ঈদের একদম শেষ মুহুর্তে হলেও বাড়ি ফেরা, প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদকে ভাগ করে নিতে দূর-দূরান্তে ছুটে চলে মানুষ। যাকে বলে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা।

কিন্তু এই বাড়ি ফেরা সবার জন্য নয়। পেশার কারণে ইচ্ছা থাকার পরেও নিজের বাড়িতে যেতে পারেনা অসংখ্য মানুষ। তাদের ঈদ কেটে যায় পেশাগত দায়িত্ব পালনে। বারডেম জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার জানাচ্ছিলেন, তিনি দুইবছর সেখানে কাজ করছেন। হাসপাতালেই এটি তাঁর তৃতীয় ঈদ। কিন্তু কোনো ঈদেই ছুটি পাননি, বাড়িতে যেতে পারেন নি। স্বামীও চিকিৎসক। দুজনকেই ঈদে রাজধানীতে থাকতে হয়, এবং দিন কিংবা রাতের ডিউটি করতে হয়। এর মাঝেও খুঁজে নিতে হয় আনন্দ। তিনি জানালেন, পরিবারকে ছেড়ে প্রথম ঈদে খারাপ লাগলেও এখন খুব একটা কষ্ট হয়না। রোগীদের ভালোমন্দের মাঝেই তাঁর সময়টা কেটে যায়।

কড়া রোদের মাঝে ডিউটি করছিলেন ট্রাফিক পুলিশ সামিউল ইসলাম। ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভিড়ে যানজট বেড়ে গেছে। সড়ক সামলাতে হিমশিম খাওয়ার অবস্থা। এতো মানুষের যাওয়ার পথকে নির্বিঘ্ন করছে যে মানুষটি, তাঁর ঈদে বাড়ি ফেরার সুযোগ নেই। তিনি এক ঈদে ছুটি পান, আরেক ঈদে পান না। পরিবারের জন্য তাঁর খারাপ লাগলেও কিছু করার নেই। ঈদের পুরোটা দিন কেটে যাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে।

রাজধানীতে সাংবাদিকতা করছেন চারবছর ধরে। শিবলী মাহমুদ এই চারবছরে চারটি ঈদ কাটিয়েছেন বাড়িতে, চারটি অফিসে বসে। বাড়ি বেশ দূরে হওয়ায় ঈদে বাড়ি ফেরা একটু মুশকিল। কিন্তু তাও তো ফিরতে মন চাইবে। ঈদের পরে ছুটি মিললেও সেটি তো ঈদের মতো আনন্দ এনে দিতে পারে না। বাড়িতে মোটামুটি সবাই আসে ঈদে, তাই আনন্দ থেকে তাকে বঞ্চিত হতে হবে। তাঁর স্ত্রী আর ছোট্ট মেয়েকে বাড়িতে পাঠিয়ে তাকে একদমই একা ঈদ করতে হবে।

একটি বহুতল ভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন শামসুল মোমিন, তিনিও ছুটি পাননি ঈদে। বহুদিন পরপর বাড়িতে যান তিনি। আশেপাশে এরকম অনেকেই থাকে তাঁর মতো, অভ্যস্ত হয়ে গেছেন তিনি। শহর জীবনে এরকম অনেক ব্যক্তিই ঈদে পুরোটা সময় কর্মক্ষেত্রে কাটিয়ে দেন। তাদের পরিবার-স্বজনেরা তাদের জন্য অন্যরকম একটি অপেক্ষায় ঈদ উদযাপন করে। ঈদ সবার জন্য, তাই এই দায়িত্ববান মানুষগুলোর ঈদও সবার জন্য অনাবিল আনন্দ নিয়ে আসুক।

উপরে