আপডেট : ১৩ মার্চ, ২০১৮ ১২:১০

‘অন্তত লাশটা এনে দিন’

অনলাইন ডেস্ক
‘অন্তত লাশটা এনে দিন’

হিমালয় ঘুরে সপ্তাহখানেক বাদেই দেশে ফেরার কথা ছিল এসহান ইমান ও বিলকিস বানু দম্পতির। তাদের হয়তো আর ফেরা হবে না। তারা এখন হয়তো দেশকালের ঊর্ধ্বে। ‘হয়তো’ লিখতে হচ্ছে কারণ, উদ্ধার বা আহত ব্যক্তিদের তালিকায় তাদের নাম নেই। তাই কঠিন হলেও ‘নিয়তি’ মেনে নিয়েছে পরিবার। বিলকিস বানুর বোন মজিদা আক্তার বীথির আহাজারি, ‘বোন বেঁচে না থাকলে, অন্তত লাশটা এনে দিন’।

গতকাল সোমবার দুপুরে নেপালে উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের পর হতাহত যাত্রীদের স্বজনরা ‘শেষ খবর’ পেতে ইউএস-বাংলার বারিধারার কার্যালয়ে আসেন।

তাদের জিজ্ঞাসা- কী খবর তাদের পরিবারের সদস্যদের। কিন্তু ইউএস-বাংলার কর্মকর্তাদের কাছে কোনো জবাব নেই। তারা ঘণ্টায় ঘণ্টায় ‘ব্রিফ’ করলেও জানাতে পারছিলেন না, আসলেই কতজন মারা গেছেন। তারা কারা, বাংলাদেশি কতজন; এ তথ্য দিতে পারছিলেন না।

পরিকল্পনা কমিশনের জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রধান উম্মে সালমার ভাই এস এম আবুল কালাম বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আসেন ইউএস-বাংলার কার্যালয়ে। তিনি বললেন, তিন দিনের সরকারি সফরে নেপাল যান উম্মে সালমা। সঙ্গে ছিলেন আরেক সহকর্মী। তাদের নাম উদ্ধার ১৬ জনের তালিকায় নেই। এর মানে কী তা বোঝেন আবুল কালাম। তালিকায় বোনের নাম না পেয়ে ইউএস-বাংলার কার্যালয়ের সোফায় ঢলে পড়েন। আহাজারিতে ভেঙে পড়েন।

ইউএস-বাংলার আরেক যাত্রী কবির হোসেনের ছেলে শাওন হোসেন বারিধারায় আসেন বাবার খবর নিতে। এসে জানতে পারলেন, তার বাবাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কতটা আহত, আশঙ্কামুক্ত কি-না কিছু জানতে পারলেন না শাওন। বাবা বেঁচে আছেন তাতেই একেবারে শান্ত সৌম্য। বাবার অবস্থা যেমনই হোক, যত দ্রুত সম্ভব বাবার পাশে যেতে চান। যেভাবেই হোক তার কাঠমান্ডুর যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া ছাড়া আর কোনো দাবি নেই শাওনের।

ইউএস-বাংলার মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম জানালেন, আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টায় বিশেষ উড়োজাহাজে প্রত্যেক যাত্রীর একজন স্বজনকে কাঠমান্ডু পাঠানো হবে। স্বজনরা গিয়ে হতাহত যাত্রীদের শনাক্ত করবেন। দুর্ঘটনায় হতাহত যাত্রীদের অধিকাংশ দগ্ধ হয়েছেন। পাসপোর্ট ও অন্যান্য পরিচয়পত্র পুড়ে গেছে। চেহারা চেনা যাচ্ছে না, তাই স্বজনদের নেওয়া হচ্ছে।

বিডিটাইমস৩৬৫/এসবি

উপরে