আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৭:১৭

দুর্নীতির র‍্যাংকিয়ে দুই ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক
দুর্নীতির র‍্যাংকিয়ে দুই ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ

বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এখন ১৭তম। আগের বছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৫তম৷ দৃশ্যতই বাংলাদেশে দুর্নীতি কমেছে। তার আগের বছর এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৩তম।

বার্লিনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) সারা বিশ্বে একযোগে দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০১৭ প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে তা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)৷ তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় এক নম্বরে আছে সোমালিয়া। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে দক্ষিণ সুদান ও সিরিয়া। অন্যদিকে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকার শীর্ষে আছে নিউজিল্যান্ড।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর বাংলাদেশের স্কোর ২৮। সূচকে মোট ১৮০টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

টিআইয়ের দুর্নীতির ধারণা সূচক বৃহস্পতিবার রাজধানীর মাইডাস ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রকাশ করে টিআইবি।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশে দুর্নীতি কমার চিত্র তুলে ধরা হলেও এখানে দুর্নীতির এখনও যে অবস্থান তা উদ্বেগজনক বলে মনে করছে টিআইবি।

পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান
গত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৬ সালে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ২৬ স্কোর পেয়ে ১৫তম অবস্থান, ২০১৫ সালে ২৫ পেয়ে ১৩, ২০১৪ সালে ২৬ পেয়ে ১৪তম, ২০১৩ সালে ২৭ পেয়ে ১৬ তম এবং ২০১২ সালে ২৬ স্কোর পেয়ে বিশ্বে ১৩তম অবস্থানে ছিল।

সিপিআই ২০১৭ অনুযায়ী ৯ স্কোর পেয়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্থের তালিকায় প্রথম অবস্থানে সোমালিয়া। এরপর ১২ স্কোর পেয়ে তালিকায় নিম্নক্রম অনুযায়ী দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ সুদান এবং ১৪ পেয়ে তৃতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে সিরিয়া।

দক্ষিণ এশিয়ায় সেরা ভুটান 
এদিকে, ২০১৭ সালের সিপিআই অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ ভুটান। দেশটির স্কোর ৬৭। বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে ভুটানের অবস্থান ২৬।

এরপরের অবস্থানে রয়েছে ভারত, যার স্কোর ৪০ এবং অবস্থান ৮১। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এরপরে শ্রীলঙ্কা ৩৮ স্কোর পেয়ে ৯১তম অবস্থানে, নেপাল ৩৩ স্কোর পেয়ে ১১২, বাংলাদেশ ২৮ স্কোর পেয়ে ১৭ এবং ১৫ স্কোর পেয়ে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে দুর্নীতির সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

দুদকের কার্যক্রম হ্রাস পেয়েছে
প্রতিবেদন মূল্যায়নে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গত বছরের তুলনায় দুর্নীতির সূচকে ২ কমে এলেও এটি সন্তোষজনক নয়। তবে, বাংলাদেশকে একটি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে চিহ্নিত না করা হলেও সূচকভূক্ত দেশগুলোর মধ্যে তুলনামূলকভাবে এখানে দুর্নীতির মাত্রা অধিক হিসেবে গণ্য হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যক্রম হ্রাস পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দুদক নীরব ভূমিকা পালন করছে। জাতীয় সংসদে মৌলিক কাজগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সংসদীয় কমিটিগুলোর কার্যকর করা হচ্ছে না। জাতীয় রার্জস্ব বোর্ডের কার্যক্রম নিয়ে বির্তক সৃষ্টি হয়েছে। এসব কারণে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে না। এ কারণে বাংলাদেশ এখনো দুর্নীতির সূচকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের ১৮০টি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে দুর্নীতি ও ঘুষ আদান-প্রদান, স্বার্থের সংঘাত, বক্তিগত বা রাজনৈতিক দলের স্বার্থে সরকারি পদপর্যাদার অপব্যবহার, প্রশাসন, কর আদায়, বিচার বিভাগসহ সরকারি কাজে বিধি বহির্ভূত অর্থ আদায়, অনিয়ম প্রতিরোধে ও দুর্নীতি সংঘটনকারীর বিচার করতে সরকারের সামর্থ্য, সাফল্য ও ব্যর্থতা, দুর্নীতিবিরোধী উদ্যোগ এবং অর্জনে বাধাদানমূলক কার্যক্রমের উপর জরিপ পদ্ধতিতে গবেষণা করে প্রতি বছর প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআই।

উপরে