আপডেট : ১২ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৬:৩৭

৩ জঙ্গির মরদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে নেওয়া হচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক
৩ জঙ্গির মরদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে  নেওয়া হচ্ছে

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের রুবী ভিলার ‘জঙ্গি আস্তানা’য় র‌্যাবের অভিযানে নিহত তিন জেএমবি সদস্যের মরদেহ ময়না-তদন্তের জন্য নিকটস্থ শেরেবাংলা নগরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ১২ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেল ৪টার পর তেজগাঁওয়ের পশ্চিম নাখালপাড়ার ১৩/১ ঠিকানার বাড়িটিতে তিন জঙ্গির মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর র‌্যাবের প্রহরায় একটি গাড়িতে করে ওই মরদেহগুলি সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল হাসপাতালের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। 

তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, র‌্যাবের প্রহরায় এ তিন মরদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ময়না-তদন্তের জন্য। বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) দিনগত মধ্যরাতের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও এমপি হোস্টেলের ঠিক পেছনের বাড়িটিতে ‘জঙ্গি আস্তানা’র সন্ধান পেয়ে অভিযানে নামেন র‌্যাব সদস্যরা। সকালে অভিযান শেষ হলে পঞ্চম তলায় ‘জঙ্গি আস্তানা’য় গিয়ে তিন জনের মরদেহ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, নিহত তিন জনই জেএমবির সদস্য ছিল। গোপন সূত্রে খবর পাওয়া যায়, রাজধানীতে একটি সেল গঠন করে বিভিন্ন সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা হচ্ছে। সেই সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে এই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানকালে ফ্ল্যাটের চুলার গ্যাস পুরোপুরি জ্বালিয়ে সেখানে গ্রেনেড রেখে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আরও বেশি ক্ষয়ক্ষতি করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু র‌্যাব তাদের এ পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেয়। অভিযানের পর ঘটনাস্থলে তিনটি সুইসাইডাল ভেস্ট, মরদেহের পাশে দু’টি পিস্তল, অবিস্ফোরিত তিনটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি), ১৪টি ডেটোনেটর, চারটি পাওয়ার জেল, অন্যান্য বিস্ফোরক ও কিছু বাল্ব পাওয়া যায়।

মুফতি মাহমুদ খান জানান, আস্তানায় দু’টি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি কার্ড) পাওয়া যায়। দু’টি পরিচয়পত্রধারীর মধ্যে একজনের নাম জাহিদ। বাড়িটির ম্যানেজার রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, গত ২৮ ডিসেম্বর এই জাহিদ রুবেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটের এক কক্ষে ভাড়ায় ওঠে। সেই ফ্ল্যাটের ৩টি কক্ষের একটি কক্ষে থাকতো জাহিদসহ ওই তিন জন। বাকি দু’টি কক্ষে থাকতেন আরও চার জন। যখন বাসা ভাড়া নেয়, তখন জাহিদ ম্যানেজার রুবেলকে বলে যে, তার সঙ্গে দুই ভাই থাকবে। সে কারখানায় কাজ করে। ২ হাজার টাকা প্রাথমিকভাবে দিয়ে বাসায় উঠলেও মাসিক ভাড়া দেওয়ার কথা ছিল ৫ হাজার ৫শ’ টাকা। জাহিদ ভোরে বের হয়ে যেতো, রাতে ফিরতো। বাকি দু’জন বাসায় থাকতো, তাদের কেউ বের হতে দেখেনি।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল

উপরে