আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৪:৪৬

রোহিঙ্গা বিষয়ে কোনো কথাই বলেননি ট্রাম্প: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
রোহিঙ্গা বিষয়ে কোনো কথাই বলেননি ট্রাম্প: প্রধানমন্ত্রী

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে গতকাল ১৮ সেপ্টেম্বর এক সাংবাদিক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুখোমুখি হয়েছেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত প্রধানমন্ত্রীর সেই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে রোহিঙ্গা ইস্যু। সেখানে উঠে এসেছে রোহিঙ্গা বিষয়ে ট্রাম্পের মনোভাবের কথাও। রয়টার্সে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসতে থাকা রোহিঙ্গাদের নিয়ে শেখ হাসিনা কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে। কিন্তু ট্রাম্পের কাছ থেকে সহায়তার কোনো ধরনের আশ্বাসবাণী পাননি তিনি। আলাপকালে শেখ হাসিনাকে শরণার্থী বিষয়ে ট্রাম্প নিজের মনোভাব পরিষ্কার করেছেন।  

অধিবেশনের একটি অংশ পরিচালনার পর ট্রাম্প যখন ফিরছিলেন, তখন শেখ হাসিনা তার কাছ থেকে কয়েক মিনিটি সময় নেন। 'তিনি কেবল জিজ্ঞাসা করেছেন, কেমন চলছে বাংলাদেশ?' আমি বললাম, 'খুব ভালো চলছে। তবে মিয়ানমার থেকে আসা রিফিউজি ইস্যুটি একমাত্র সমস্যা। কিন্তু তিনি রিফিউজি বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি,' জানান প্রধানমন্ত্রী।  

বিশ্বনেতাদের বার্ষিক সমাবেশে ট্রাম্পের সঙ্গে এই কথোপকথনের বিষয়ে শেখ হাসিনা জানান, শরণার্থীদের বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান পরিষ্কার। কাজেই রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের সমস্যায় তার কাছ থেকে কোনো সহায়তা আশা করা যায় না। 'ইতিমধ্যে আমেরিকা ঘোষণা দিয়েছে যে তারা কোনো শরণার্থী গ্রহণ করবে না,' বলেন হাসিনা। 'আমরা তাদের কাছে আর কী আশা করতে পারি, এবং বিশেষ করে প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে। তিনি ইতিমধ্যে তার মনের ভাব প্রকাশ করেছেন...কাজেই কেন তার কাছে সাহায্য চাইব?' বলেন হাসিনা।

'বাংলাদেশ ধনী দেশ নয়...কিন্তু আমরা যদি ১৬০ মিলিয়ন মানুষকে খাওয়াতে পারি, তবে আরো ৫ শ-ই হোক বা ৭ লাখ, তাদেরকেও খাওয়াতে পারব,' যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। এদিকে, হোয়াইট হাউজের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে যদি বিষয়টি সামনে আনা হয় তবে তিনি (ট্রাম্প) অবশ্যই বিবেচনা করবেন। জানুয়ারিতে ক্ষমতা নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই ট্রাম্প ইউএস রিফিউজি প্রগ্রাম ১২০ দিনের জন্য স্থগিত করেন। অনির্দিষ্টকালের জন্য সিরিয়ান শরণার্থীদের নিষিদ্ধ করেছেন এবং ৬টি মুসলিম দেশের নাগরিকদের প্রবেশে ৯০ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।  

রাখাইনে সাম্প্রতিক সময়ের হামলার আগ পর্যন্ত সেখানে ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাস করছিলেন। এদের বেশির ভাগই পালিয়ে আসছে এবং সেখানেও বাধা সৃষ্টি করছে মিয়ানমার। তাদের মিয়ানমারের নাগরিক হিসাবে অস্বীকার করা হচ্ছে এবং সেখানকার অনেকে বৌদ্ধ রোহিঙ্গাদের সে দেশে বাংলাদেশে থেকে যাওয়ার অবৈধ অভিবাসী বলে মনে করেন।  

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতির আরো চাপ আশা করেন বলে জানান হাসিনা, বলা হয় প্রতিবেদনে। তিনি বলেন, 'অং সান সু চির মেনে নেওয়া উচিত যে এই মানুষগুলো তাদের দেশের নাগরিক এবং মিয়ানমারই তাদের দেশ। এদের ফেরত নেওয়া উচিত। এরা দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। ' নোবেল লরিয়েট সু চি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনার শিকার হচ্ছেন এই সহিংসতা থামাতে নিষ্ক্রিয় থাকার কারণে। দেশটির ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজর থাং তুন রয়টার্সকে জানান যে, যারা তাদের বাড়ি ছেড়েছে মিয়ানমারের উচিত তাদের ফিরিয়ে আনা নিশ্চিত করা। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো প্রক্রিয়া নির্ধারণে আমাদের আলোচনা করতে হবে।  

জাতিসংঘের ইউএস অ্যাম্বাসাডর নিক্কি হ্যারে মিয়ানমার সরকারকে সেনা অভিযান বন্ধে তাগাদা দিয়েছেন। মানবাধিকারকর্মীদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়াসহ রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার কথা বলেন তিনি। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের জন্য শেখ হাসিনা এখন নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন। আগামী বৃহস্পতিবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তিনি। সূত্র : রয়টার্স 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল

উপরে