আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০১৭ ১১:১২

‘পাকিস্তানের মতো অর্ডার দিয়ে সরকার হটানোর ভাবনা চরম বোকামি’

অনলাইন ডেস্ক
‘পাকিস্তানের মতো অর্ডার দিয়ে সরকার হটানোর ভাবনা চরম বোকামি’

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় ও রায়ের পর্যালোচনা নিয়ে অব্যাহত সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বিচার বিভাগ যথেষ্ট ধৈর্য ধরে আছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

এ সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে অযোগ্য ঘোষণা করে সে দেশের সুপ্রিমকোর্টের রায় দেয়ার পরের পরিস্থিতি নিয়ে বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট প্রধানমন্ত্রীকে ইয়ে (অযোগ্য) করেছেন। কিন্তু তা নিয়ে তেমন রিপার্কেশন (প্রতিক্রিয়া) হয়নি। আমাদের আরও কিছু পরিপক্বতার দরকার আছে।

প্রধান বিচারপতির এই বক্তব্যের পর শুরু হয়েছে নতুন করে উত্তেজনা। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, আর যাই হোক পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের কোন তুলনা সহ্য হবে না। পাকিস্তানে কি হয়েছে না হয়েছে সে বিষয়ে কোন হুমকি দেবেন না। এটা সহ্য করা হবে না। তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে আর কেউ ক্ষমতা দখল করতে পারবে না। যদি করে সংবিধান অনুযায়ী তার বিচার হবে।

প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে সাবেক বিচারপতি সামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘আমি মনে করি এটা অশনি সংকেত। তিনি এর মাধ্যমে সরকারকে একটি ভয় দেখালেন। এটা তিনি বুঝতে পারছেন না যে বাংলাদেশ কিন্তু পাকিস্তান নয়। পাকিস্তানের মতো একটা অর্ডার দিবেন আর সরকার সেটা করে যাবেন, এটা বাংলাদেশে হবে না; বরং জনগণ তাকেই সরিয়ে দিবে। তিনি যদি মনে করে পাকিস্তানের মতো একটা অর্ডার দিয়ে সরকার হটিয়ে দিবেন তাহলে এটা তার চরম বোকামি। তবে এটা অবশ্যই হুমকি এবং এটা কেবল সরকারকে নয়, জনগণকেই দিচ্ছেন।

যে পাকিস্তানকে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে হারিয়ে দিয়েছি, সে দেশের দৃষ্টান্ত তিনি টেনে আনছেন; এটা জাতির জন্য অপমানজনক। বরাবরই তার পাকিস্তান প্রীতি; এর আগেও তিনি বলেছেন পাকিস্তানের আইনের শাসন নাকি আমাদের দেশের চেয়েও ভালো। আমি মনে করি বরং তার পাকিস্তান চলে যাওয়া উচিত এবং তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন একাত্তরে তিনি শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন।’

প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজ জানান, ‘যে পাকিস্তান থেকে মুক্ত হবার জন্য আমাদের ৩০ লক্ষ মানুষ শহীদ হলেন, ৫ লক্ষ মা বোন নির্যাতিতা হলেন, ১ কোটির বেশী মানুষ উদ্বাস্তু হলেন, এমনকি আমাদের একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের বিচারকে কটাক্ষ করে যে পাকিস্তানের সংসদে নিন্দা প্রস্তাব আনা হয় এবং যে রাষ্ট্র ইতোমধ্যে গণতন্ত্রবিহীন এবং জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃত হয়ে ব্যর্থ হবার উপক্রম সেই রাষ্ট্রকে যখন আমাদেরকে ফলো করবার জন্য বলা হয় তখন আমি স্তভিত হয়ে যাই। তবে হ্যাঁ যদি কেউ ১৯৭১ সালে শান্তি কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করে পাকিস্তানের পক্ষে সমর্থন করে থাকে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে থাকে তবে তারা এধরণের বক্তব্য দিতেই পারেন, এ ব্যাপারে আমি আর কি মন্তব্য করবো এবং তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি একাত্তরে শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন।’

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে